ধোনি 7 অপরাজেয় রেকর্ড: মহেন্দ্র ধোনির 7টি দুর্দান্ত রেকর্ড…যা ভাঙ্গা অসম্ভব! বদলেছেন অধিনায়কত্ব ও উইকেটকিপিংয়ের সংজ্ঞা


নয়াদিল্লি। মহেন্দ্র সিং ধোনি, যাকে বিশ্ব ভালবাসায় ‘ক্যাপ্টেন কুল’ এবং ‘থালা’ বলে ডাকে। ধোনি, যিনি ভারতীয় ক্রিকেটের ভাগ্য বদলে দিয়েছেন, তার অধিনায়কত্ব এবং খেলার অনন্য উপলব্ধি দিয়ে এমন রেকর্ড গড়েছেন, যা আজও অলঙ্ঘনীয়। তার সাফল্য এই সত্য থেকে অনুমান করা যায় যে তিনি বিশ্বের একমাত্র অধিনায়ক যিনি তিনটি আইসিসি হোয়াইট-বল ট্রফি, টি-টোয়েন্টি, ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি জিতেছেন। ধোনির তত্পরতা এমন ছিল যে তার স্টাম্পিং গতি চোখের পলক (0.08 সেকেন্ড) থেকে দ্রুত বলে পরিমাপ করা হয়েছিল। উইকেটের পেছনে 192টি স্টাম্পিং এবং অধিনায়ক হিসেবে 332টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে নেতৃত্ব দেওয়া তার ধারাবাহিকতা এবং মানসিক শক্তির প্রমাণ। ‘ফিনিশার’-এর ভূমিকায় 84 বার নটআউট হওয়া থেকে বোঝা যায় তিনি পরাজয়ের চোয়াল থেকে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার শিল্পে পারদর্শী ছিলেন।

মহেন্দ্র সিং ধোনির (এমএস ধোনি) সবচেয়ে বড় এবং ‘অজেয়’ রেকর্ড হল যে তিনি বিশ্বের একমাত্র অধিনায়ক যিনি তিনটি বড় আইসিসি ট্রফি জিতেছেন। ধোনিই বিশ্বের একমাত্র অধিনায়ক যিনি আইসিসি সাদা বলের তিনটি বড় টুর্নামেন্ট জিতেছেন। 2007 সালে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতে ধোনি তার অধিনায়কত্বে ইতিহাস তৈরি করে। এর পরে, 2011 সালে ওডিআই বিশ্বকাপ জিতে ভারত 28 বছর পর এই ফর্ম্যাটে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়। এরপর ২০১৩ সালে ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জিতে নেন। এমনকি অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি রিকি পন্টিং বা স্টিভ ওয়াহের মতো মহান অধিনায়কও এই কৃতিত্ব অর্জন করতে পারেননি। ধোনির এই রেকর্ড ভাঙা অসম্ভব।

মহেন্দ্র সিং ধোনির নামে 7টি বিশ্ব রেকর্ড রয়েছে, যেগুলো কোনো উইকেটরক্ষকের পক্ষে ভাঙা অসম্ভব।

উইকেটের পিছনে ‘লাইটনিং’ গতি (০.০৮ সেকেন্ডে স্টাম্পিং)
ধোনির হাত ছিল উইকেটের পেছনে রাডারের মতো যা চোখের পলকে শিকার করতে পারে। তিনি 2018 সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে মাত্র 0.08 সেকেন্ডে কিমো পলকে স্টাম্পড করেছিলেন। মানুষের তুলনায়, এটি 0.10 থেকে 0.15 সেকেন্ড সময় লাগে। ধোনি বিজ্ঞানকে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন এবং চোখের পলকের চেয়ে দ্রুত স্টাম্পিংয়ের রেকর্ড তৈরি করেছিলেন।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি স্টাম্পিং
শুধু গতিই নয়, ধোনির ধারাবাহিকতাও ছিল অতুলনীয়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে (টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সহ) তার নামে মোট ১৯২টি স্টাম্পিং রেকর্ড রয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন শ্রীলঙ্কার কুমার সাঙ্গাকারা, যার নামে ১৩৯টি স্টাম্পিং রয়েছে। এই ব্যবধান এতটাই বড় যে বর্তমান সময়ের যেকোনো উইকেটরক্ষকের পক্ষে তা ভাঙা প্রায় অসম্ভব বলেই মনে হয়।

অধিনায়ক হিসেবে সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ
এমএস ধোনি একজন অধিনায়ক হিসেবে যে ধৈর্য দেখিয়েছিলেন তা তার খেলার সংখ্যায় প্রতিফলিত হয়। তিনি মোট 332টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে (200টি ওডিআই, 60টি টেস্ট, 72টি টি-টোয়েন্টি) ভারতীয় দলের নেতৃত্ব দিয়েছেন। ৩২৪ ম্যাচ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন রিকি পন্টিং। এতদিন অধিনায়কত্বের চাপ সহ্য করা এবং সফল থাকা ধোনির মানসিক শক্তির প্রমাণ।

ওয়ানডেতে ৬ নম্বরে ব্যাট করার সময় সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি
সাধারণত ৬ নম্বর বা তার নিচের ব্যাটসম্যানদের ‘ফিনিশার’-এর ভূমিকা পালন করতে হয়। যেখানে বড় স্কোর করার সময় কম। কিন্তু ধোনি এখানেও তার ছাপ রেখে গেছেন। ৬ নম্বরে বা তার নিচে ব্যাটিং করে ওডিআইতে ৭টি সেঞ্চুরি করেছেন তিনি। ধোনির বিশেষত্ব ছিল সঙ্কটের সময়ে দলকে বাঁচানো এবং তারপর সেঞ্চুরি করা।

সবচেয়ে বেশিবার ‘নট আউট’ হওয়ার রেকর্ড
ধোনিকে ‘বিশ্বের সেরা ফিনিশার’ বলা হয় না। ওয়ানডে ক্রিকেটে ৮৪ বার নটআউট হয়েছেন তিনি। তার পরিকল্পনা ছিল সহজ, ম্যাচ শেষ পর্যন্ত নিয়ে যান। ধোনি যখন ক্রিজে ছিলেন, লক্ষ্য যত বড়ই হোক না কেন, ভক্তরা আশায় বুক বাঁধেন। এই তালিকায় তার থেকে অনেক পিছিয়ে শন পোলক (৭২) ও চামিন্দা ভাস (৭২)।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে বেশি ক্যাচ
উইকেটের পেছনে তার তত্পরতা শুধু স্টাম্পিংয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে উইকেটরক্ষক হিসেবে সর্বোচ্চ 57টি ক্যাচ নেওয়ার রেকর্ড ধোনির। তার গ্লাভ টেকনিক এবং বল ধরার অনন্য উপায় তাকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *