গ্রীষ্ম এলেই শিশুদের ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকি বাড়ে, এই ৭টি উপসর্গ দেখা গেলে সঙ্গে সঙ্গে সতর্ক হোন।
বাচ্চাদের জন্য গ্রীষ্মকালীন স্বাস্থ্য টিপস: ছত্তিশগড়ের সুরগুজা জেলায় গ্রীষ্ম আসার সাথে সাথে শিশুদের ডিহাইড্রেশন (পানির অভাব) ঝুঁকিও বাড়তে শুরু করে। বিশেষ করে দূষিত পানি এবং প্রখর সূর্যালোক এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। চিকিৎসকরা বলছেন, সময়মতো নজর না দিলে শিশুদের অবস্থা গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।
শিশুদের ডিহাইড্রেশন দ্রুত ঘটে
বিশেষজ্ঞ ডাঃ শৈলেন্দ্র গুপ্ত বলেন, ছোট বাচ্চাদের শরীরের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ পানি দিয়ে তৈরি, তাই তারা দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ে। শরীরে পানির অভাব হলে শিশুরা দ্রুত দুর্বল হয়ে পড়ে এবং হঠাৎ করে তাদের স্বাস্থ্যের অবনতি হতে পারে।
এসব উপসর্গ দেখলে সঙ্গে সঙ্গে বুঝে নিন বিপদ।
চিকিৎসকের মতে, পানিশূন্যতার কিছু স্পষ্ট লক্ষণ হলো শুষ্ক ত্বক, চোখের নিচে গর্ত, শিশু খিটখিটে হওয়া, বমি বা ডায়রিয়া, এসব লক্ষণ দেখা গেলে একেবারেই অবহেলা করবেন না।
সূর্যালোকের অতিরিক্ত এক্সপোজারের কারণে ঝুঁকি বেড়ে যায়
দীর্ঘক্ষণ কড়া রোদে থাকার ফলে শরীর থেকে অতিরিক্ত ঘাম হয়, যা পানির ঘাটতি দেখা দেয়। তাই বিকেলে বাচ্চাদের বাইরে খেলা থেকে বিরত রাখুন এবং ঘন ঘন পানি বা তরল খাবার দিতে থাকুন।
প্রস্রাবের রঙও ইঙ্গিত দেয়
শিশু যদি কম বা ঘন প্রস্রাব করে তবে এটি পানিশূন্যতার লক্ষণ হতে পারে। এমন অবস্থায় শিশুকে সঙ্গে সঙ্গে পানি, জুস বা ওআরএস দিতে হবে। অবস্থা গুরুতর মনে হলে, অবিলম্বে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন।
এই সতর্কতা অবলম্বন করা গুরুত্বপূর্ণ
বিকালে বাচ্চাদের বাইরে পাঠাবেন না, তাদের শুধু সকাল ১০টার আগে বা সন্ধ্যা ৬টার পরে খেলতে দিন, পান করার জন্য শুধুমাত্র পরিষ্কার ও বিশুদ্ধ পানি দিন, ঘন ঘন তরল পান করতে থাকুন।
পোশাকেরও যত্ন নিন
গরমে শিশুদের ঢিলেঢালা ও হালকা রঙের পোশাক পরান। গাঢ় রঙের কাপড় বেশি তাপ শোষণ করে, যার কারণে শরীর দ্রুত উত্তপ্ত হয়। হালকা এবং আরামদায়ক পোশাক শিশুদের ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।
একটু অসাবধানতা বড় সমস্যা হতে পারে
চিকিৎসকরা বলছেন, গরমের মৌসুমে একটু অসাবধানতাও শিশুদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। তাই সময়মতো মনোযোগ দেওয়া, সঠিক খাবার খাওয়া এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করাই সবচেয়ে বড় সুরক্ষা।