বিশ্ব কিডনি দিবস 2026: আপনি যদি আপনার কিডনি সুস্থ রাখতে চান, তাহলে আপনার দৈনন্দিন রুটিনে এই 6টি স্বাস্থ্যকর অভ্যাস অন্তর্ভুক্ত করুন।
কিডনি সুস্থ রাখার উপায়ঃ আজ অর্থাৎ ১২ মার্চ বিশ্ব কিডনি দিবস পালিত হয়। প্রতি বছর একটি বিশেষ থিম রাখা হয় এবং কিডনির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে প্রভাবিত করার কারণ, রোগ এবং কীভাবে এটিকে সুস্থ রাখা যায় সে সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা হয়। 2026 সালের বিশ্ব কিডনি দিবসের প্রতিপাদ্য রাখা হয়েছে ‘সকলের জন্য কিডনি স্বাস্থ্য: মানুষের যত্ন নেওয়া, গ্রহ রক্ষা করা’। কিডনি শরীরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে।
কিডনি রক্ত থেকে টক্সিন, ইউরিয়া এবং ক্রিয়েটিনিন দূর করে রক্ত পরিষ্কার রাখে। এটি প্রস্রাবের আকারে শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি বের করে দিতে কাজ করে। শরীরে পটাশিয়াম ও সোডিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখে। শরীরে ইউরিয়ার মাত্রা বেড়ে যাওয়া কিডনির জন্য ভালো নয়। কিডনি যদি এই সব কাজ করতে অক্ষম হয়, তাহলে বুঝবেন আপনার কিডনি অসুস্থ হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কিডনি সুস্থ রাখা খুবই জরুরি। এর জন্য আপনাকে আপনার দৈনন্দিন অভ্যাস এবং খাদ্যাভাস পরিবর্তন করতে হবে। স্বাস্থ্যকর জীবনধারা এবং খাদ্যাভ্যাস অবলম্বন করে আপনি আপনার কিডনিকে সুস্থ রাখতে পারেন।
কিডনি সুস্থ রাখার টিপস
-কিছু মানুষ দিনে আধা লিটার পানিও পান করেন না। এটা করা কিডনির জন্য ভালো নয়। আপনাকে অবশ্যই প্রতিদিন কমপক্ষে 3 লিটার জল পান করতে হবে যাতে কিডনি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থগুলি সরিয়ে দিতে পারে।
– যদি আপনার রক্তচাপের মাত্রা বেশি থাকে তবে আপনার খাবারে লবণের পরিমাণ কমিয়ে দিন। উচ্চ রক্তচাপ থাকা কিডনির কার্যকারিতার উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। আপনার বাইরের খাবার যেমন প্রক্রিয়াজাত খাবার, ফাস্ট ফুড, ভাজা, তৈলাক্ত খাবার, লবণাক্ত স্ন্যাকস সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।
ডায়াবেটিস থাকলে কিডনির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। আপনার যদি ডায়াবেটিস থাকে এবং আপনার রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি থাকে তবে এটি কিডনি ক্ষতির সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করতে থাকুন। ডায়াবেটিসে যেসব খাবার খাওয়া যায় সেগুলো খান।
-আপনি যদি ভালো কিডনির পাশাপাশি সামগ্রিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে চান, তাহলে নিয়মিত অন্তত ৩০ মিনিট ব্যায়াম করুন। তুমি বেড়াতে যাও। 30 মিনিটের জন্য বাড়িতে যোগব্যায়াম করুন। সাইকেল চালানোর মাধ্যমেও আপনি সামগ্রিক স্বাস্থ্য বজায় রাখতে পারেন। এতে শুধু ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকবে না, রক্তচাপও স্বাভাবিক থাকবে, যা কিডনিকে সুস্থ রাখবে।
-আপনি যদি খুব বেশি ধূমপান করেন বা অ্যালকোহল পান করেন তবে এই অভ্যাসটিও নিয়ন্ত্রণ করুন, কারণ এই দুটি জিনিসই কেবল ফুসফুস এবং হার্টের ক্ষতি করে না, তবে কিডনির কার্যকারিতার উপরও বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
– আপনাকে অবশ্যই প্রতি 6 মাস থেকে 1 বছরে আপনার নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হবে। পেট এবং কোমরের চারপাশে ব্যথা থাকলে বা প্রস্রাব করতে অসুবিধা হলে অবিলম্বে একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন। BP, কিডনি ফাংশন টেস্ট (KFT), রক্তে শর্করার মাত্রা ইত্যাদি পরীক্ষা করার মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন আপনার গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলি কতটা সুস্থ।