কীভাবে ধ্যান করবেন: ধ্যান করতে পারছেন না? পদ্ধতিটি জানালেন শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর

বর্তমান সময়ে মানুষ প্রতিনিয়ত মানসিক অস্থিরতায় ভোগে। এমতাবস্থায় মানসিক যন্ত্রাংশই হয়ে উঠেছে সবচেয়ে বড় বিলাসিতা। কিন্তু অনেকে বলেন যে তারা ধ্যান করতে অক্ষম। তাদের মন কাজ, উদ্বেগ এবং লক্ষ্যে পরিপূর্ণ। কিছু লোক মনে করেন যে ধ্যানের সময় তাদের শরীর শান্তভাবে বসতে পারে না।

এমন পরিস্থিতিতে আর্ট অফ লিভিং-এর প্রতিষ্ঠাতা গুরুদেব শ্রী শ্রী রবিশঙ্কর বলেছেন যে সমস্যাটি ধ্যানে নয়, ভুল বোঝার মধ্যে। মেডিটেশন কঠিন একাগ্রতা নয়। এটি “কিছু না করার শিল্প”। এর জন্য শক্তি প্রয়োগ করার দরকার নেই, তবে মন এবং শরীরকে শিথিল করতে হবে।

মেডিটেশন করতে হলে এই বিষয়গুলো বোঝা জরুরি

– পার্থিব কাজে কঠোর পরিশ্রম আবশ্যক, কিন্তু ধ্যানে অত্যধিক পরিশ্রম বিপরীত প্রভাব ফেলে। ধ্যানের সাফল্যের রহস্য হল আরামদায়ক হওয়া। ধ্যানের আগে কয়েক মিনিট গভীর শ্বাস নেওয়া বা প্রাণায়াম করা সহায়ক। এতে শরীরে শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং মন আপনাআপনি শান্ত হয়।

– অনেকে ধ্যান করার সময় তাদের চিন্তা দূর করার চেষ্টা করেন। যদি কোনো দিন ভালো অভিজ্ঞতা হয় এবং পরের দিন মনটা অস্থির হয়, তাহলে তারা সেই সমস্যা দূর করতে চায়। গুরুদেব বলেন- মেনে নাও। আপনার মনকে বলুন, “ঠিক আছে, আপনিও এখানে থাকুন।” যখন আমরা অস্বস্তির সাথে লড়াই করা বন্ধ করি, তখন তা ধীরে ধীরে কমে যায়।

– ধ্যানে বসার সাথে সাথে যদি চিন্তা আসতে শুরু করে তবে ঘাবড়াবেন না। চিন্তা শত্রু নয়। আকাশে যেমন মেঘ আসে এবং যায় তাদের দিকে তাকাও। আপনি তাদের যত বেশি থামান, তত বেশি তারা স্থায়ী হবে। আপনি যদি তাদের ছেড়ে দেন তবে তারা নিজেরাই শান্ত হয়।

– মেডিটেশনের সময় অনেক সময় শরীরে নড়াচড়া বা ঝিঁঝিঁ পোকা হয়। এটি একটি চিহ্ন হতে পারে যে শরীর থেকে স্ট্রেস নির্গত হচ্ছে। ধ্যানের আগে কিছু হাঁটা, স্ট্রেচিং বা যোগাসন করা উপকারী। আপনি যদি ধ্যানের সময় অস্বস্তি অনুভব করেন তবে শান্ত থাকুন এবং এটিকে পাস হতে দিন।

– কখনও কখনও ধ্যান বিরক্তিকর মনে হতে পারে। কিন্তু নিয়মিত অনুশীলনে একই ধ্যান আবার সতেজ হয়ে ওঠে। তাই অনুশীলন চালিয়ে যান।

– ধ্যানের জন্য কোন বিশেষ ভঙ্গির প্রয়োজন নেই। আপনি একটি চেয়ার, সোফা বা মেঝেতে আরামে বসতে পারেন। শরীরে ব্যথা থাকলে মন সেখানেই আটকে থাকে। তাই বিশ্রামকে প্রাধান্য দিন।

যত্ন নিন
একা ধ্যান করা কঠিন মনে হলে, একজন শিক্ষকের সাহায্য নিন। মানসিক চাপ কমানোর একমাত্র উপায় মেডিটেশন নয়। এটি মন ও শরীরকে শক্তিশালী করে। নিয়মিত ধ্যান শক্তি বাড়ায় এবং ব্যক্তি ভেতর থেকে শান্ত ও সুখী বোধ করে। ধীরে ধীরে এটি গভীর এবং দীর্ঘস্থায়ী আনন্দের অনুভূতির দিকে নিয়ে যায়।

দাবিত্যাগ: এই সংবাদে দেওয়া ওষুধ/ওষুধ এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কিত পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের সাথে কথোপকথনের উপর ভিত্তি করে। এটি সাধারণ তথ্য, ব্যক্তিগত পরামর্শ নয়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই যেকোনো কিছু ব্যবহার করুন। লোকাল-18 এই ধরনের কোন ব্যবহার দ্বারা সৃষ্ট কোন ক্ষতির জন্য দায়ী থাকবে না।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *