14 বছর নির্বাসন, ব্যাটের বদলে ফাইল হাতে, আদালতে কাটিয়েছেন বছরের পর বছর, ‘অসংবাদ নায়ক’ ছবির গল্প


নয়াদিল্লি। এটি ক্রিকেটের ‘আনসাং হিরো’-এর গল্প, যার ব্যাটে একসময় মাঠে আগুন জ্বলেছিল, কিন্তু ভাগ্য এবং বিতর্ক তাকে অন্ধকার গলিতে ঠেলে দেয়। এটি দিল্লির অজয় ​​শর্মার গল্প, এমন একজন নাম যাকে ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটের (রঞ্জি ট্রফি) ‘ডন ব্র্যাডম্যান’ বলা হত, কিন্তু ম্যাচ ফিক্সিংয়ের কালো ছায়া তার কাছ থেকে সবকিছু কেড়ে নিয়েছিল।

দীর্ঘ 14 বছরের আদালত সংগ্রাম এবং অজ্ঞাতনামা থাকার পর, এখন জম্মু ও কাশ্মীরের কোচ হিসাবে অজয় ​​শর্মা দলকে চ্যাম্পিয়ন করে প্রত্যাবর্তন করেছেন, যা একটি ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্রের স্ক্রিপ্টের চেয়ে কম নয়। অজয় শর্মার এই ‘ফিল্মি’ গল্প আমাদের শেখায় যে সময় যতই খারাপ হোক না কেন, লড়াই করার সাহস থাকলে, প্রত্যাবর্তন সম্ভব। বছরের পর বছর লাঞ্ছনা, আদালত সংগ্রাম ও সামাজিক বর্বরতার মুখোমুখি হয়েও তিনি হাল ছাড়েননি।

14 বছরের নির্বাসন এবং অজ্ঞাতসার জীবন

ম্যাচ ফিক্সিংয়ের দায়ে অভিযুক্ত অজয় ​​শর্মা পরবর্তী 14 বছর ধরে আদালতের দ্বারস্থ হন। যে হাতে ব্যাট ধরা উচিত ছিল তাতে আদালতের ফাইল ছিল। তিনি বছরের পর বছর ‘বিস্মৃতির’ জীবনযাপন করেন। মিডিয়ার ঝলক থেকে দূরে একটি শান্ত এবং সংগ্রামী জীবন। 2014 সালে, দিল্লির একটি আদালত অবশেষে তাকে সমস্ত অভিযোগ থেকে খালাস দেয়। নিষেধাজ্ঞা উঠে গেলেও ততক্ষণে তার সোনালী সময় কেটে গেছে। ক্রিকেট তার কাছ থেকে দূরে চলে গেছে, কিন্তু তার মধ্যে ‘ক্রিকেটার’ বেঁচে আছে।

ফিল্ম প্রত্যাবর্তন: জম্মু ও কাশ্মীর এবং কোচের নতুন অবতার

অজয় শর্মার গল্পের ক্লাইম্যাক্স শুরু হয় যখন তাকে জম্মু ও কাশ্মীর ক্রিকেট দলের দায়িত্ব দেওয়া হয়। যে দলটিকে প্রায়শই অবমূল্যায়ন করা হত, অজয় ​​শর্মা তার কোচিংয়ে এটিকে সফল করেছেন। সম্প্রতি, রঞ্জি ট্রফিতে জম্মু ও কাশ্মীরকে চ্যাম্পিয়ন করে তিনি প্রমাণ করেছেন যে প্রতিভাকে কখনই সমাহিত করা যায় না। একসময় ফিক্সিংয়ের অভিযোগে অভিযুক্ত এই খেলোয়াড়ের তত্ত্বাবধানে আজ দেশের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে তরুণ খেলোয়াড়রা। আজ তার চোখে কোনো কষ্ট নেই, কিন্তু একটা তৃপ্তি যে সে ক্রিকেটকে যা দিয়েছে, ক্রিকেট তাকে সম্মানের সাথে ফিরিয়ে দিয়েছে।

ঘরোয়া ক্রিকেটের মুকুটহীন রাজা

80 এবং 90 এর দশকে দিল্লির ফিরোজশাহ কোটলা মাঠে এক নামের প্রতিধ্বনি শোনা গিয়েছিল অজয় ​​শর্মার। তিনি একজন অলরাউন্ডার ছিলেন যার রান করার আশ্চর্য ক্ষমতা ছিল। অজয় শর্মা প্রথম-শ্রেণীর ক্রিকেটে ৬৭.৪৬ গড়ে ১০,০০০ রান করেছেন। এই গড় এখনও রঞ্জি ট্রফির ইতিহাসে উদাহরণ। তিনি 31টি সেঞ্চুরি করেন এবং তার স্পিন বোলিং দিয়ে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করেন। সেই সময়ে, অজয় ​​শর্মাকে টিম ইন্ডিয়ার দোরগোড়ায় দাঁড়ানো সবচেয়ে শক্তিশালী খেলোয়াড় হিসাবে বিবেচনা করা হয়েছিল।

অভিযোগ এবং বিপর্যয় সংশোধন করা

অজয় শর্মার ক্যারিয়ার যখন ক্রমবর্ধমান ছিল, 2000 সালে, ভারতীয় ক্রিকেট ‘ম্যাচ ফিক্সিং’ দ্বারা আচ্ছন্ন হয়েছিল। বিসিসিআই তাকে আজীবনের জন্য নিষিদ্ধ করেছে। যে খেলোয়াড় গতকাল পর্যন্ত নায়ক ছিলেন তিনি কিছুক্ষণের মধ্যেই রাতারাতি ভিলেন হয়ে গেলেন। তিনি গ্রাউন্ড মিস করেছেন, বন্ধুদের হারিয়েছেন এবং ক্রিকেট বিশ্ব তাকে পুরোপুরি ভুলে গেছে। এটি ছিল তার জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায়, যেখানে তাকে কেবল তার নির্দোষ প্রমাণ করতে হয়নি, সমাজের কু-চোখেরও সম্মুখীন হতে হয়েছিল।

আজ, যখনই জম্মু ও কাশ্মীরের খেলোয়াড়রা ট্রফি তুলেছেন, তাতে অজয় ​​শর্মার সেই অন্ধকারে কাটানো রাতের ঘামও রয়েছে। এটা শুধু একজন চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গল্প নয়, এটা একজন মানুষের আত্মসম্মান ফিরে পাওয়ার গল্প।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *