6 জন কিংবদন্তি উইকেটরক্ষক…যারা স্টাম্পের আড়াল থেকে খেলার ভাগ্য পরিবর্তন করেছেন, কেউ কেউ গেম চেঞ্জার হয়েছিলেন এবং কাউকে ফিনিশার বলা হয়।
নয়াদিল্লি। ক্রিকেট মাঠে উইকেটরক্ষকের ভূমিকা নীরব সেনাপতির মতো। তিনি বোলারের প্রতিটি কৌশলের সাক্ষী এবং ফিল্ডারদের গাইড করার জন্য সবচেয়ে সঠিক রাডার। ইতিহাসে অনেক কিপার আছে, তবে অ্যাডাম গিলক্রিস্ট, এমএস ধোনি, মার্ক বাউচার, কুমার সাঙ্গাকারা, ইয়ান হিলি এবং ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। এরা সেই ছয়জনের নাম যারা শুধু গ্লাভস পরে ক্যাচই নেননি, বদলে দিয়েছেন ক্রিকেট খেলার ধরনও। এই ছয় কিংবদন্তি প্রমাণ করেছেন একজন উইকেটরক্ষক দলের মেরুদণ্ড। বাউচারের রেকর্ড, ধোনির চতুরতা এবং গিলক্রিস্টের আগ্রাসন এই খেলাকে শক্তিশালী করেছে। আজকের প্রতিটি তরুণ উইকেটরক্ষক এই জাদুকরদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তার ভাগ্য লেখার স্বপ্ন দেখে।
আধুনিক ক্রিকেটের সংজ্ঞা বদলে দিলেন অ্যাডাম গিলক্রিস্ট। তার আগে, উইকেটরক্ষকের প্রধান কাজ ছিল শুধু কিপিং, কিন্তু ‘গিলি’ তাকে ধ্বংসাত্মক ব্যাটসম্যানে রূপান্তরিত করেছে। টেস্টে ৭ নম্বরে ঝড়ো সেঞ্চুরি করা কিংবা ওয়ানডেতে ওপেনিংয়ে বোলারদের উড়িয়ে দেওয়াই ছিল তার বিশেষত্ব। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার নামে 900 টিরও বেশি উইকেট রয়েছে। 2007 বিশ্বকাপ ফাইনালে তার 149 রানের ইনিংসটি এখনও ইতিহাসের সেরা ইনিংসগুলির মধ্যে গণনা করা হয়। তাকে গেম চেঞ্জার বলা উচিত।
এমএস ধোনি থেকে শুরু করে বাউচার, উইকেটরক্ষক পদে ক্রিকেট বিশ্বে তুমুল শোরগোল ফেলেছেন।
এমএস ধোনি: ‘দ্য ফিনিশার’
মহেন্দ্র সিং ধোনির নাম মনে পড়লেই তাঁর ‘বিদ্যুতের মতো দ্রুততা’ স্টাম্পিংয়ের কথা মাথায় আসে। ধোনি শুধু একজন রক্ষকই ছিলেন না, বিশ্বের সবচেয়ে স্মার্ট কৌশলবিদও ছিলেন। পিছিয়ে না গিয়ে থ্রো করা হোক বা স্পিনারদের বিরুদ্ধে চোখের পলকে স্টাম্প ধ্বংস করা হোক, মাহির কোনো মিল ছিল না। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সর্বোচ্চ সংখ্যক স্টাম্পিংয়ের বিশ্ব রেকর্ড তার দখলে, 192টি। একজন অধিনায়ক এবং ফিনিশার হিসেবে তার অর্জন তাকে সর্বকালের সেরা করে তোলে।
মার্ক বাউচার: ‘শিকারের সুলতান’
আমরা যদি পরিসংখ্যানের কথা বলি, দক্ষিণ আফ্রিকার মার্ক বাউচার উইকেটের পিছনে সবচেয়ে সফল খেলোয়াড়। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে (টেস্ট, ওডিআই এবং টি-টোয়েন্টি) তার মোট 998 উইকেট রয়েছে, যা একটি অবিশ্বাস্য রেকর্ড। বাউচারের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল তার একাগ্রতা এবং চোট সত্ত্বেও মাঠে থাকার সাহস। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকাকে অনেক সময়ে কঠিন পরিস্থিতি থেকে বের করে এনেছেন।
কুমার সাঙ্গাকারা: ‘লালিত ও শ্রেণী’
সাঙ্গাকারাকে বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যানদের মধ্যে গণ্য করা হয়, তবে উইকেটের পিছনে তার তত্পরতাও ছিল প্রশংসনীয়। ওডিআই ক্রিকেটে তার নামে 482টি ডিসমিসাল রয়েছে, যা এই ফরম্যাটে যে কোনো কিপারের দ্বারা সবচেয়ে বেশি। ব্যাটিং ও কিপিংয়ের কঠিন সমন্বয় সাঙ্গাকারা দারুণ স্বাচ্ছন্দ্যে পালন করেন। তার উপস্থিতি শ্রীলঙ্কাকে দলে অতিরিক্ত ব্যাটসম্যান ফিল্ড করার সুবিধা প্রদান করে।
ইয়ান হিলি: ‘দ্য আয়রন ম্যান’
নব্বইয়ের দশকে অস্ট্রেলিয়ার আধিপত্য বিস্তারে বড় ভূমিকা ছিল ইয়ান হিলির। হিলি যে নির্ভুলতার সাথে উইকেটের পিছনে শেন ওয়ার্নের মতো দুর্দান্ত স্পিনারের স্পিন ক্যাচ করেছিলেন তা একটি উদাহরণ। টেস্ট ক্রিকেটে তার নামে ৩৯৫ উইকেট রয়েছে। হিলি উইকেটকিপিংকে ‘পেশাদার দক্ষতা’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি মান নির্ধারণ করেছেন।
ব্রেন্ডন ম্যাককালাম: ‘দ্য জাগলার অফ দ্য মডার্ন এজ’
নিউজিল্যান্ডের ব্রেন্ডন ম্যাককালাম উইকেটকিপিংয়ে আলাদা অ্যাথলেটিকিজম তৈরি করেছিলেন। তার পরিচয় ছিল বাতাসে ডাইভ দিয়ে ক্যাচ ধরা এবং তারপর ক্রিজে এসে বোলারদের আক্রমণ করা। ম্যাককালাম শুধু গ্লাভস পড়েই বিস্ময় প্রকাশ করেননি, একজন নির্ভীক অধিনায়ক হিসেবে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটের চেহারাও বদলে দিয়েছেন। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে তার কিপিং এবং ব্যাটিং এই ফরম্যাটকে নিয়ে গেছে নতুন উচ্চতায়।