আয়ুর্বেদের সেই ‘জাদুকরী পানীয়’ যা স্ট্রেস থেকে শুরু করে সর্দি-কাশি সব কিছুরই নিরাময়, জেনে নিন কীভাবে তৈরি করবেন ‘তুলসী জল’।
ঘরে তৈরি তুলসী জলের আয়ুর্বেদিক উপকারিতা: বহু শতাব্দী ধরে ভারতীয় বাড়িতে ‘তুলসী’র একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। উঠানের এই পবিত্র গাছটিকে শুধু বিশ্বাসের প্রতীক হিসেবেই বিবেচনা করা হয় না, আয়ুর্বেদে একে ‘জীবনের অমৃত’ও বলা হয়েছে। পরিবর্তিত আবহাওয়ায় কাশি এবং সর্দি থেকে মুক্তি পেতেই হোক বা ক্লান্তিকর দিনের পর মানসিক চাপ কমাতে, তুলসী সবসময়ই একটি নির্ভরযোগ্য সঙ্গী।
তুলসি হল একটি ‘অ্যাডাপ্টোজেন’, যা শরীরকে মানসিক এবং শারীরিক চাপের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।
তুলসী জলের বিশেষত্ব শুধু এর স্বাদই নয়, স্বাস্থ্যের ওপরও এর ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। যদি সঠিকভাবে তৈরি করা হয় তবে এটি একটি আরামদায়ক পানীয় হয়ে ওঠে যা আপনি সহজেই আপনার দৈনন্দিন রুটিনের একটি অংশ করতে পারেন।
1. এইভাবে সঠিক তুলসী পাতা বেছে নিন-
একটি চমৎকার এবং কার্যকরী পানীয়ের জন্য, তাজা এবং কীটনাশক মুক্ত পাতা নির্বাচন করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানত দুই ধরনের তুলসী সবচেয়ে পছন্দের:
- রাম তুলসী: এর স্বাদ হালকা এবং মিষ্টি।
- কৃষ্ণ তুলসী: এর স্বাদ একটু মশলাদার এবং শক্তিশালী।
সুষম স্বাদ এবং গন্ধের জন্য আপনি উভয়ের মিশ্রণও নিতে পারেন। মনে রাখবেন তুলসী বেশ শক্তিশালী, তাই এক গ্লাস জলের জন্য 6 থেকে 8 পাতাই যথেষ্ট।
2. পরিচ্ছন্নতার বিশেষ যত্ন নিন-
শহরগুলিতে, বারান্দার গাছগুলিতে দ্রুত ধুলো জমে। অতএব, ব্যবহারের আগে, কয়েক সেকেন্ডের জন্য চলমান জলের নীচে পাতাগুলিকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে ধুয়ে ফেলুন। পাতা ধোয়া দূষিত হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস করে এবং পানীয়টি দীর্ঘ সময়ের জন্য তাজা থাকে। ধোয়ার পর এগুলি আলতো করে শুকিয়ে নিন। এই প্রক্রিয়াটি তুলসীর প্রাকৃতিক তেল সংরক্ষণ করে, যার মধ্যে তুলসীর বেশিরভাগ ঔষধি গুণ লুকিয়ে থাকে।
3. তুলসী জল তৈরির পদ্ধতি (ধাপে ধাপে নির্দেশিকা)-
কীভাবে গরম পানীয় তৈরি করবেন: একটি প্যানে জল ফুটিয়ে নিন, তারপর আগুন বন্ধ করুন এবং এতে ধোয়া তুলসী পাতা দিন। এটিকে ঢেকে রাখুন এবং 5-10 মিনিটের জন্য রেখে দিন (আধান) এবং তারপর এটি ফিল্টার করুন এবং হালকা গরম পান করুন।
যেভাবে কোল্ড ড্রিংক তৈরি করবেন: একটি গ্লাসে পানি ও তুলসী পাতা রেখে সারারাত রেখে দিন। সকালে খালি পেটে এটি পান করুন।
4. তুলসী জলের উপকারিতা (স্বাস্থ্য উপকারিতা)-
মানসিক চাপ উপশম: তুলসী একটি ‘অ্যাডাপ্টোজেন’, যা শরীরকে মানসিক ও শারীরিক চাপের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী: এতে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
হজমে সহায়ক: সকালে খালি পেটে এটি খেলে মেটাবলিজম ভালো হয় এবং পেট পরিষ্কার থাকে।
ত্বকে উজ্জ্বলতা আনতে: তুলসীর জল রক্ত বিশুদ্ধ করতে সাহায্য করে যা মুখে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা আনে।
এই বিষয়গুলো মাথায় রাখুন- তুলসী খাওয়া নিরাপদ, তবে মনে রাখবেন তুলসী পাতায় রয়েছে আয়রন এবং পারদ। তাই দাঁতের এনামেলের ক্ষতি না করার জন্য পাতাগুলোকে দাঁত দিয়ে চিবানোর চেয়ে সরাসরি পান করা বা পানি হিসেবে পান করা ভালো বলে মনে করা হয়।
তুলসী জল শুধু একটি ভেষজ পানীয় নয়, স্বাস্থ্যকর জীবনধারার দিকে একটি ছোট পদক্ষেপ। এই রিফ্রেশিং পানীয় দিয়ে আপনার সকাল শুরু করুন এবং নিজেই পার্থক্য অনুভব করুন।