সতীর্থদের সাথে হার্দিকের অহংকার: হার্দিকের হিরোপান্তিতে বিরক্ত টিম ম্যানেজমেন্ট, বরুণের সাথে 48 বলে 92 রান নষ্ট


নয়াদিল্লি। বলা হয় ক্রিকেট অনিশ্চয়তার খেলা, কিন্তু খেলোয়াড়দের মনোভাব যখন দলের মনোবলকে এলবিউইং করতে শুরু করে, তখন বুঝবেন ডালে কালো কিছু নেই, পুরো ডাল কালো। আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে যা ঘটেছে তা ভারতীয় সমর্থকদের ক্ষতে নুন মেখেছে। এটি কেবল 24-24 বলের একটি স্পেল নয়, একটি ‘পোস্টমর্টেম’ যা ভারতীয় বোলিংকে উন্মোচিত করেছিল।

একদিকে বরুণ চক্রবর্তীর স্পিন অকার্যকর, অন্যদিকে বালির মতো ‘কুং-ফু’ পান্ডিয়ার হাত থেকে রান পিছলে গেল। তবে ম্যাচ হারার চেয়েও বেশি আলোচনা হার্দিক পান্ডিয়া মাঠে তার নিজের সতীর্থদের সঙ্গে করা ‘দুর্ব্যবহার’ নিয়ে। হার্দিকের ‘অহং’ কি 2026 টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পথে সবচেয়ে বড় ব্রেকার হতে চলেছে?

আহমেদাবাদের সেই অন্ধকার রাত: ৮ ওভার, ৯২ রান এবং লজ্জাজনক পরাজয়

আহমেদাবাদের মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার ব্যাটসম্যানরা যখন আক্রমণ চালাচ্ছিল, ভারতীয় বোলিং তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছিল। ম্যাচের আসল ভিলেন ছিল সেই 8 ওভার, যেটিতে বরুণ চক্রবর্তী এবং হার্দিক পান্ড্য একসঙ্গে 92 রান দেন। বরুণ চক্রবর্তী, যাকে রহস্যময় স্পিনার বলা হয়, আফ্রিকান ব্যাটসম্যানরা মাত্র কয়েক বলের সমাধান করেছিলেন এবং তার 4 ওভারে 47 রান করেন। আসল হতাশা এসেছে হার্দিক পান্ডিয়ার কাছ থেকে। একজন অভিজ্ঞ অলরাউন্ডার এবং স্থানীয় নায়কের ভূমিকায় থাকা হার্দিক 4 ওভারে 45 রান খরচ করেছেন, অর্থাৎ 48 বলে তাদের দেওয়া 92 রানই ভারতের পরাজয়ের আসল কারণ হয়ে উঠেছে। যখন আপনার দুই প্রধান বোলার 11-এর বেশি ইকোনমিতে রান দেয়, তখন বিশ্বের কোনো ব্যাটিং লাইনআপ সেই পাহাড়ের মতো স্কোর তাড়া করতে পারবে না।

মাঠে ‘ভিলেন’ আচরণ: কুলদীপ-সুন্দরের ওপর রাগ কেন?

ম্যাচ হারানো এক জিনিস, কিন্তু দলের ঐক্যকে প্রকাশ্যে নিলাম করা আরেক জিনিস। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভক্তরা ক্ষিপ্ত যে হার্দিক পান্ডিয়া উইকেট না পাওয়া বা রান না পাওয়ার জন্য জুনিয়র এবং সহ খেলোয়াড়দের উপর তার ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। কখনও কখনও তাকে কোনও বিষয়ে কুলদীপ যাদবকে তিরস্কার করতে দেখা যায়, আবার কখনও তাকে ওয়াশিংটন সুন্দরের ফিল্ডিং বা বোলিংয়ে অশালীন অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায়। ক্রিকেটের মহলে প্রশ্ন উঠছে, হার্দিক কি নিজেকে খেলার চেয়ে বড় ভাবতে শুরু করেছেন? একজন সিনিয়রের কাজ হল পড়ে যাওয়া খেলোয়াড়দের উপরে তোলা, প্রকাশ্যে তাদের অপমান করা নয়। কুলদীপ এবং সুন্দরের মতো ম্যাচজয়ী খেলোয়াড়রা যদি চাপের মুহূর্তে তাদের নিজের অধিনায়কের গালি বা রাগ সহ্য করে, তবে তাদের পারফরম্যান্স হ্রাস পেতে বাধ্য।

2026 বিশ্বকাপের মিশন নাকি ‘অহংকার’ প্রদর্শন?

হার্দিক পান্ডিয়ার সাম্প্রতিক মনোভাবও বিসিসিআইয়ের জন্য উদ্বেগের বিষয় হওয়া উচিত। আহমেদাবাদের মতো পরাজয়ের পরও যদি শিক্ষা না নেওয়া হয় এবং তার হিরোপন্থী আচরণকে রোধ না করা হয়, তাহলে বিশ্বকাপের স্বপ্ন আবারও অপূর্ণ থেকে যেতে পারে। বরুণের 47 রান এবং হার্দিকের 45 রান স্কোরকার্ডে রেকর্ড করা হয়েছিল, কিন্তু ড্রেসিংরুমে যে টক তৈরি হচ্ছে তার হিসাব কে দেবে? ভারতীয় ভক্তরা হার্দিক ভাইকে জিজ্ঞেস করছেন, কী করছেন? ম্যাচ আসবে এবং যাবে, তবে দলের মর্যাদা এবং খেলোয়াড়দের সম্মান ঝুঁকিতে ফেলার কোনও মানে হয় না।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *