স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেও ওজন কেন বাড়ে, ফিটনেস থাকা সত্ত্বেও ওজন বাড়ার আয়ুর্বেদিক ও বৈজ্ঞানিক কারণ


সর্বশেষ আপডেট:

আজকাল মানুষ স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছে, তবুও অনেকের ওজন কমার বদলে বাড়ছে। এতে ভুল কোথায় হচ্ছে তা নিয়ে বিভ্রান্তি বাড়ে। সত্য যে ওজন বৃদ্ধি শুধুমাত্র খাবারের সাথে সম্পর্কিত নয়, দুর্বল বিপাক, দুর্বল হজম, হরমোনের পরিবর্তন, ঘুমের অভাব এবং ভুল জীবনযাত্রার সাথেও জড়িত।

খবর দ্রুত

স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়েও ওজন বাড়ছে? আয়ুর্বেদ এবং বিজ্ঞান দুটোই জানলে আপনি স্তম্ভিত হয়ে যাবেনজুম

বর্তমান সময়ে, তরুণরা দ্রুত ফিটনেস এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া, জিম এবং বাড়ির রান্নাঘর সহ সর্বত্রই স্বাস্থ্যকর খাবারের কথা বলা হচ্ছে। তারপরও আশ্চর্যের বিষয় হলো সঠিক খাদ্য গ্রহণের পরও অনেকেই ওজন কমাতে পারছেন না, বরং ধীরে ধীরে তাদের ওজন বাড়ছে। এমতাবস্থায় মানুষের মনে প্রশ্ন জাগানো স্বাভাবিক যে ভুলটা কোথায় হচ্ছে। সত্য যে ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাসের কারণ কেবল আপনার প্লেটে থাকা খাবার নয়, আপনার শরীরের পুরো অভ্যন্তরীণ সিস্টেম এতে ভূমিকা পালন করে। আয়ুর্বেদ একে বলে অগ্নি অর্থাৎ হজম শক্তি, আর বিজ্ঞান বলে মেটাবলিজম। যদি হজম এবং বিপাক সঠিকভাবে কাজ না করে তবে সবচেয়ে স্বাস্থ্যকর এবং পুষ্টিকর খাবারও শরীরে চর্বিতে রূপান্তরিত হতে পারে।

একটি বড় ভুল ধারণা হল স্বাস্থ্যকর জিনিস পরিমান না দেখে খাওয়া যায়। আয়ুর্বেদ অনুসারে, কিছু খাদ্যদ্রব্য ভারী হয় এবং সেগুলি হজম করতে শরীরকে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। শুকনো ফল, ঘি, মধু, পিনাট বাটার বা অ্যাভোকাডোতে প্রচুর পরিমাণে পুষ্টি থাকে, তবে এগুলোর ক্যালরিও অনেক বেশি। বিজ্ঞান আরও বিশ্বাস করে যে যদি প্রয়োজনের চেয়ে বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করা হয় তবে শরীর চর্বি আকারে অতিরিক্ত শক্তি সঞ্চয় করে, যা ওজন বৃদ্ধির দিকে পরিচালিত করে।

আজকাল, বাজারে পাওয়া যায় এমন অনেক তথাকথিত স্বাস্থ্যকর পণ্যও ওজন বাড়াতে পারে। আয়ুর্বেদে অতিরিক্ত মিষ্টি স্বাদ কফ বাড়ানোর জন্য বিবেচনা করা হয়। বিজ্ঞানের মতে, অতিরিক্ত চিনি ইনসুলিনের মাত্রা বাড়ায়, যার কারণে শরীরে চর্বি জমা হতে থাকে। কম চর্বিযুক্ত দই, মাল্টিগ্রেন বিস্কুট এবং এনার্জি বারগুলি বাইরে থেকে দেখতে স্বাস্থ্যকর মনে হলেও এতে উপস্থিত লুকানো চিনি শরীরের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।

অনেক সময় ওজন বাড়ার কারণ খাদ্যাভ্যাস নয় বরং হরমোনের গোলযোগ। আয়ুর্বেদ একে দোষের ভারসাম্যহীনতা বলে মনে করে, বিশেষ করে কফ দোষের বৃদ্ধি। থাইরয়েড, PCOS বা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের কারণে বিপাক প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে, একজন ব্যক্তি কম খাওয়া সত্ত্বেও ওজন বৃদ্ধি অনুভব করেন, কারণ শরীর ক্যালোরি পোড়ানোর পরিবর্তে সঞ্চয় করতে শুরু করে।

ঘুম এবং মানসিক চাপও সরাসরি ওজনকে প্রভাবিত করে। আয়ুর্বেদে বলা হয়েছে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে হজমশক্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। বিজ্ঞান দেখায় যে কম ঘুম ক্ষুধার্ত হরমোন ঘেরলিন বাড়ায় এবং লেপটিন হ্রাস করে, যা পরিপূর্ণতার সংকেত দেয়। ফলে মানুষ প্রয়োজনের চেয়ে বেশি খেতে শুরু করে। বয়স বৃদ্ধি বা শারীরিক পরিশ্রম কমে যাওয়ার কারণেও মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়। বিজ্ঞানের মতে, পেশী কমলে ক্যালোরি বার্নিংও কমে যায়। তাই শুধু ডায়েটে মনোযোগ দিলেই যথেষ্ট নয়, ওজনের ভারসাম্য বজায় রাখতে শরীরকে সক্রিয় রাখাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

লেখক সম্পর্কে

রচনা

বিবিধ সিং

বিভিধা সিং নিউজ 18 হিন্দির (NEWS18) সাংবাদিক। তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিন বছর ধরে তিনি সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে কাজ করছেন। বর্তমানে নিউজ 18…আরো পড়ুন

বাড়িজীবনধারা

স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়েও ওজন বাড়ছে? আয়ুর্বেদ এবং বিজ্ঞান দুটোই জানলে আপনি স্তম্ভিত হয়ে যাবেন



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *