কাঁচা হলুদের স্বাস্থ্য উপকারিতা, ওজন কমাতে কাঁচা হলুদ উপকারী, জেনে নিন সঠিক সেবন ও উপকারিতা
সর্বশেষ আপডেট:
কাঁচা হলুদকে পুষ্টির ভান্ডার হিসাবে বিবেচনা করা হয়, যা কারকিউমিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ। এটি শুধুমাত্র ওজন কমাতেই সাহায্য করে না, কিন্তু রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে এবং ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও কার্যকর। যাইহোক, এর উপকারিতা পেতে, সীমিত পরিমাণে এবং সঠিক উপায়ে কাঁচা হলুদ খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

ভারতীয় রান্নাঘর এবং আয়ুর্বেদে কাঁচা হলুদকে ওষুধের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এতে উপস্থিত কারকিউমিন, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য এটিকে স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী করে তোলে। বিশেষ করে আপনি যদি ওজন কমাতে চান, তাহলে সঠিক উপায়ে আপনার খাদ্যতালিকায় কাঁচা হলুদ অন্তর্ভুক্ত করা আপনার জন্য সহায়ক হতে পারে। এটি শুধুমাত্র বিপাককে ত্বরান্বিত করে না বরং শরীরে জমে থাকা বিষাক্ত উপাদানগুলিকে দূর করতেও সাহায্য করে।
কাঁচা হলুদকে ওজন কমাতে কার্যকর বলে মনে করা হয় কারণ এটি শরীরের প্রদাহ কমায়। স্থূলতায়, নিম্ন-গ্রেডের প্রদাহ প্রায়শই শরীরে বৃদ্ধি পায়, যার কারণে চর্বি দ্রুত জমতে শুরু করে। কাঁচা হলুদে উপস্থিত কারকিউমিন এই প্রদাহ নিয়ন্ত্রণ করে এবং চর্বি কোষ গঠনের প্রক্রিয়াকে ধীর করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া এটি হজম প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে, যার কারণে খাবার সঠিকভাবে হজম হয় এবং অতিরিক্ত চর্বি জমে যাওয়ার সম্ভাবনা হ্রাস পায়।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও কাঁচা হলুদ খুবই কার্যকরী।
ওজন কমানোর পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতেও কাঁচা হলুদ খুবই কার্যকরী। পরিবর্তনশীল ঋতুতে ঘন ঘন সর্দি, কাশি বা সংক্রমণের সমস্যা দেখা দেয়, এমন পরিস্থিতিতে কাঁচা হলুদ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। এতে উপস্থিত অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ভাইরাল বৈশিষ্ট্য শরীরকে ভেতর থেকে রক্ষা করে। শক্তিশালী অনাক্রম্যতার সরাসরি সুবিধা হল শরীর সক্রিয় থাকে এবং ব্যায়াম বা শারীরিক কার্যকলাপ করার সময় একজন কম ক্লান্ত বোধ করেন, যা ওজন কমানোর জন্য প্রয়োজনীয়।
ওজন কমানোর জন্য কাঁচা হলুদ কীভাবে ব্যবহার করবেন
আপনি যদি ওজন কমানোর জন্য কাঁচা হলুদ সেবন করতে চান, তাহলে তা সঠিক উপায়ে গ্রহণ করা খুবই জরুরি। এক টুকরো কাঁচা হলুদ কুসুম গরম পানি বা মধুর সাথে সকালে খালি পেটে খেলে উপকার পাওয়া যায়। আপনি চাইলে কাঁচা হলুদ বেটে লেবু ও কালো গোলমরিচ দিয়ে খেতে পারেন। কালো মরিচ কার্কিউমিনের শোষণ বাড়ায়, যা হলুদের প্রভাবকে আরও বাড়িয়ে দেয়। এ ছাড়া কাঁচা হলুদ চা বা হলুদের সঙ্গে হালকা গরম পানিও ওজন কমাতে সহায়ক।
ত্বক ও চুলের জন্যও উপকারী
কাঁচা হলুদ ত্বক ও চুলের জন্যও উপকারী বলে মনে করা হয়। ওজন কমানোর সময়, কখনও কখনও ত্বক নিস্তেজ এবং প্রাণহীন দেখাতে শুরু করে, তবে কাঁচা হলুদ শরীরকে ডিটক্সিফাই করতে এবং ত্বকে প্রাকৃতিক উজ্জ্বলতা আনতে সহায়তা করে। এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্য বার্ধক্যজনিত লক্ষণগুলি কমায় এবং ব্রণের মতো সমস্যা থেকেও মুক্তি দেয়। এছাড়া এটি লিভারকে সুস্থ রাখে, যা ফ্যাট মেটাবলিজমকে উন্নত করে।
প্রচুর পরিমাণে কাঁচা হলুদ ক্ষতিকর
কাঁচা হলুদ উপকারী হলেও এটি সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। এটি অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে অ্যাসিডিটি, পেটে ব্যথা বা অ্যালার্জির মতো সমস্যা হতে পারে। গর্ভবতী মহিলা বা যে কোনও গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের অবশ্যই এটি খাওয়া শুরু করার আগে একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা উচিত। সঠিক পরিমাণে এবং সঠিক উপায়ে গ্রহণ করা কাঁচা হলুদ শুধু ওজন কমাতেই সাহায্য করে না, পুরো শরীরকে ভেতর থেকে সুস্থ ও প্রাণবন্ত করে তোলে।
লেখক সম্পর্কে
বিভিধা সিং নিউজ 18 হিন্দির (NEWS18) সাংবাদিক। তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিন বছর ধরে তিনি সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে কাজ করছেন। বর্তমানে নিউজ 18…আরো পড়ুন