ফ্রি ওয়াইফাইয়ের ফাঁদে পা দেবেন না, না হলে হ্যাকাররা সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, একটি ভুল আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খালি করে দিতে পারে।
সর্বশেষ আপডেট:
হোটেলের বিনামূল্যের Wi-Fi ব্যবহার করা ব্যয়বহুল প্রমাণিত হতে পারে। হোটেল ওয়াইফাই সম্পর্কিত সাইবার হুমকি, হ্যাকিং পদ্ধতি এবং নিজেকে নিরাপদ রাখার সহজ উপায়গুলি জানুন।

আমরা যখন দীর্ঘ ভ্রমণ থেকে ফিরে যাই বা কাজের জন্য অন্য শহরে যাই, হোটেলের ঘরে প্রবেশ করার সময় আমরা প্রথমে কী করি? সে তার কাঁধ থেকে তার ব্যাগটি খুলে ফেলে, সোজা বিছানায় বসে এবং সাথে সাথে তার মোবাইলে Wi-Fi চালু করে এবং তার ফোনে স্ক্রোল করা শুরু করে। হোটেলের ‘ফ্রি ওয়াই-ফাই’ কানেক্ট হওয়ার সাথে সাথেই মনে হয় পৃথিবীর সব সুখ আমরা পেয়ে গেছি।

একই হোটেলের Wi-Fi যা আপনার কাজকে সহজ করে তোলে একই Wi-Fi নেটওয়ার্ক যেখানে সাইবার অপরাধীরা লুকিয়ে আছে। বিনামূল্যের ওয়াই-ফাই ব্যবহার করে কীভাবে আপনার খরচ হতে পারে এবং কীভাবে নিজেকে নিরাপদ রাখা যায়। প্রত্যেক ভ্রমণকারীর জন্য এটা জানা খুবই জরুরী।

হোটেল ওয়াই-ফাই কেন অনিরাপদ? হোটেলের শত শত অতিথি একই সময়ে একই নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত। এই হোটেল নেটওয়ার্কগুলি প্রায়ই পুরানো প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে বা তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। সাইবার বিশেষজ্ঞদের মতে, পাবলিক নেটওয়ার্ক হ্যাকারদের সবচেয়ে সহজ টার্গেট। ‘Reddit’-এর একটি প্রতিবেদন অনুসারে, আপনি এই জাতীয় নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত হওয়ার সাথে সাথে আপনার ব্যক্তিগত ডেটা, লগইন আইডি এবং পাসওয়ার্ড ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
হিসাবে News18 যোগ করুন
Google-এ পছন্দের উৎস

হ্যাকাররা কীভাবে আপনার ফোনে প্রবেশ করে? যদি কোনো সাইবার অপরাধী কোনো হোটেলের ওয়াই-ফাই রাউটারে প্রবেশ করে, তাহলে সে সেই নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত প্রতিটি ডিভাইসে নজর রাখতে পারে। তারা জানতে পারে আপনি গুগলে কী সার্চ করছেন বা কোন অ্যাপ ব্যবহার করছেন।

আপনার গুরুত্বপূর্ণ ইমেইল, ব্যক্তিগত ছবি এবং ব্যাংকিং লেনদেনের তথ্য হ্যাকারদের হাতে চলে যেতে পারে। অনেক সময় হ্যাকাররা আপনার অজান্তেই আপনার ফোনে ভাইরাস (ম্যালওয়্যার) রাখতে পারে, যার কারণে আপনার ফোনের সম্পূর্ণ সেটিংস তাদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

‘পাসওয়ার্ড নিরাপদ’ – এটি আপনার ভুল ধারণা: প্রায়শই আমরা মনে করি যে হোটেল যদি ওয়াই-ফাই পাসওয়ার্ড দিয়ে থাকে, তাহলে নেটওয়ার্ক সুরক্ষিত থাকবে। কিন্তু সত্য এর থেকে ভিন্ন। এমনকি যদি Wi-Fi পাসওয়ার্ড সুরক্ষিত থাকে, তবুও একই নেটওয়ার্কে অনেক অপরিচিত ব্যক্তি সংযুক্ত রয়েছে। যদি কোন আগাম নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকে, তাহলে হ্যাকাররা সহজেই আপনার ডিভাইসে উঁকি দিতে পারে।

নিরাপদে থাকার জন্য এই 4 টি টিপস অনুসরণ করুন – আপনি যদি একটি হোটেলে থাকেন তবে ইন্টারনেট ব্যবহার করার সময় নিম্নলিখিত সতর্কতা অবলম্বন করুন: ব্যাঙ্কিং লেনদেন এড়িয়ে চলুন: হোটেলের Wi-Fi এর মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর করবেন না বা Google Pay/Phone Pay-এর মতো পেমেন্ট অ্যাপ ব্যবহার করবেন না। একটি ভিপিএন ব্যবহার করুন: একটি ভার্চুয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক (ভিপিএন) ব্যবহার করা আপনার ডেটা এনক্রিপ্ট করে, হ্যাকারদের আপনার তথ্য পড়তে বাধা দেয়। দ্বি-গুণক প্রমাণীকরণ: আপনার সোশ্যাল মিডিয়া এবং ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ‘টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন’ (2FA) চালু করুন যাতে পাসওয়ার্ড জানা থাকলেও কেউ লগ ইন করতে না পারে। মোবাইল হটস্পট: সম্ভব হলে হোটেল ওয়াই-ফাইয়ের পরিবর্তে বাড়িতে অন্য কারও মোবাইল ‘হটস্পট’ ব্যবহার করুন। এটি সবচেয়ে নিরাপদ বিকল্প।

এটা জরুরী নয় যে আপনি বিনামূল্যে পান সবকিছু নিরাপদ। সাইবার জালিয়াতি এড়ানোর সর্বোত্তম উপায় হল হোটেলের ফ্রি ওয়াই-ফাই ব্যবহার করার সময় সতর্কতা অবলম্বন করা। আপনার সামান্য অসাবধানতা আপনাকে বড় আর্থিক সমস্যায় ফেলতে পারে।