10টি জিনিস থেকে চোখের যত্নের টিপস। চোখের স্বাস্থ্যের জন্য 10টি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম এবং সহজ যত্নের টিপস।
আমরা প্রায়শই আমাদের শরীরের স্বাস্থ্যের দিকে মনোযোগ দিই, কিন্তু কিছু সমস্যা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের চোখকে উপেক্ষা করতে থাকি। যদিও সত্যটি হল যে ছোট দৈনন্দিন অভ্যাসগুলি আগামী কয়েক দশক ধরে আপনার চোখের দৃষ্টিশক্তি এবং আরাম নির্ধারণ করে। আজ থেকেই সঠিক পরিচর্যা শুরু করলে ভবিষ্যতে চোখের অনেক মারাত্মক রোগ সহজেই এড়ানো যাবে।
চলুন জেনে নিই চোখকে দীর্ঘ সময় সুস্থ রাখার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম…
চোখের জন্য পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করুন
এইচটি রিপোর্ট অনুযায়ী, ভাল দৃষ্টিশক্তির ভিত্তি সবসময় সঠিক খাদ্যাভ্যাসের উপর নিহিত। আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় সবুজ শাক-সবজি যেমন পালং শাক, কেল, রঙিন ফল, বাদাম, বীজ, ডিম এবং চর্বিযুক্ত মাছ অন্তর্ভুক্ত করুন। এতে উপস্থিত ভিটামিন এ, সি, ই, জিঙ্ক, লুটেইন, জিক্সানথিন এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড চোখকে বয়সজনিত সমস্যা, শুষ্ক চোখ এবং রেটিনার ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
পর্দার সামনে কাজ করার সময় আপনার চোখকে বিশ্রাম দিন
ডিজিটাল যুগে মোবাইল ও ল্যাপটপ চোখের ওপর সবচেয়ে বেশি চাপ দেয়। তাই 20-20-20 নিয়ম অবলম্বন করুন। প্রতি 20 মিনিটে, 20 সেকেন্ডের জন্য প্রায় 20 ফুট দূরে কিছু দেখুন। এই অভ্যাস চোখের পেশী শিথিল করে এবং ক্লান্তি, মাথাব্যথা এবং ঝাপসা দৃষ্টি প্রতিরোধ করে।
পর্যাপ্ত পানি পান করতে থাকুন
শরীরে পানির অভাব সরাসরি চোখের উপর প্রভাব ফেলে। ডিহাইড্রেশনের কারণে চোখে শুষ্কতা, জ্বালাপোড়া এবং দমকা অনুভূতি বাড়তে পারে। সারাদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করা চোখকে আর্দ্র রাখে এবং টিয়ার ফিল্ম সুস্থ রাখে।
চোখের পলক ফেলার অভ্যাস করুন
স্ক্রিনে ক্রমাগত কাজ করার সময়, আমরা স্বাভাবিকের মতো প্রায় অর্ধেক বার চোখ বুলিয়ে নিই। এ কারণে চোখ দ্রুত শুকিয়ে যায়। ইচ্ছাকৃতভাবে সম্পূর্ণভাবে পলক ফেলার অভ্যাস করুন, যাতে চোখ স্বাভাবিকভাবেই লুব্রিকেটেড থাকে।
রোদে বের হওয়ার সময় আপনার চোখকে সুরক্ষিত রাখুন
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি চোখের দ্রুত বয়স বাড়ায় এবং ছানি ও রেটিনার ক্ষতির ঝুঁকি বাড়াতে পারে। আবহাওয়া মেঘলা থাকলেও বাইরে যাওয়ার সময় 100 শতাংশ UVA এবং UVB সুরক্ষা সহ সানগ্লাস পরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
পর্দা সঠিকভাবে ব্যবহার করুন
মোবাইল বা ল্যাপটপের স্ক্রিন চোখের লেভেলের একটু নিচে এবং বাহুর দৈর্ঘ্যে রাখুন। পরিবেষ্টিত আলো অনুযায়ী উজ্জ্বলতা এবং বৈসাদৃশ্য সামঞ্জস্য করুন। সম্পূর্ণ অন্ধকার জায়গায় পর্দার দিকে তাকানো এড়িয়ে চলুন, কারণ এটি চোখের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে।
চোখ ঘষার অভ্যাস ত্যাগ করুন
সবচেয়ে সাধারণ কিন্তু সবচেয়ে ক্ষতিকর অভ্যাস হল চোখ চুলকায় তখন ঘষা। এটি সংক্রমণ ছড়াতে পারে এবং কর্নিয়ার ক্ষতি করতে পারে। একটি পরিষ্কার টিস্যু দিয়ে চোখ মুছা, মুখ ধোয়া বা ডাক্তার দ্বারা সুপারিশকৃত চোখের ড্রপ ব্যবহার করা ভাল।
ভাল এবং সম্পূর্ণ ঘুম পান
ঘুম শুধু মস্তিষ্কের জন্য নয় চোখের জন্যও খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ঘুম চোখের মেরামত এবং পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে। ঘুমের অভাবে দীর্ঘমেয়াদে লালচে ভাব, শুষ্কতা, চোখ কাঁপানো এবং দৃষ্টিশক্তির সমস্যা হতে পারে।
আপনার দৈনন্দিন রুটিনে ব্যায়াম অন্তর্ভুক্ত করুন
সক্রিয় জীবনধারা চোখের স্বাস্থ্যেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত ব্যায়াম রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে এবং ডায়াবেটিস এবং উচ্চ রক্তচাপের মতো রোগের ঝুঁকি কমায়, যা ভবিষ্যতে দুর্বল দৃষ্টিশক্তির একটি বড় কারণ হতে পারে।
নিয়মিত চোখ চেকআপ রাখুন
চোখের অনেক গুরুতর রোগ যেমন গ্লুকোমার প্রাথমিক পর্যায়ে কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। সময়ে সময়ে আপনার চোখ পরীক্ষা করিয়ে, সমস্যাগুলি প্রাথমিকভাবে সনাক্ত করা যায় এবং সময়মতো চিকিত্সা সম্ভব হয়।