সুন্দর মুখ… তীক্ষ্ণ মন, নিলাম টেবিল থেকে স্টেডিয়াম, পর্দার আড়ালে মাস্টারমাইন্ড।
সর্বশেষ আপডেট:
দৃশ্যের পিছনে কাব্য মারান মাস্টার মাইন্ড: যখনই ক্যামেরা ক্রিকেট মাঠের স্ট্যান্ডের দিকে তাকায়। একটি হাসিখুশি, উদ্যমী মুখ দেখা যাচ্ছে। পুরো স্টেডিয়াম এবং কোটি কোটি ভক্ত টিভিতে দেখছেন শুধু একটি নাম, কাব্য মারান। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের মালিক কাব্য মারান আজ শুধু একজন ব্যবসায়ী নন, ক্রিকেট বিশ্বের একজন বড় ‘আইকন’ হয়ে উঠেছেন। কিন্তু কাব্যের গল্প শুধু তার সৌন্দর্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি খেলার পিছনে ‘দাবা খেলোয়াড়’, যিনি তার চাল দিয়ে এমনকি সবচেয়ে বড় খেলোয়াড়দেরও অবাক করে দেন।

কাব্য মারানকে প্রায়ই ‘আইপিএলের জাতীয় ক্রাশ’ বলা হয়। তার সরলতা এবং স্টেডিয়ামে দলের জয়-পরাজয়ের বিষয়ে তার পরিবর্তনশীল অভিব্যক্তি কয়েক মিনিটের মধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়। কিন্তু যারা তাকে শুধু একটি ‘গ্ল্যামারাস মুখ’ মনে করেন তারা তার ব্যবসায়িক দক্ষতা সম্পর্কে সচেতন নন।

সান গ্রুপের মালিক কালানিথি মারানের মেয়ে কাব্য নিজেই তার দল ‘সানরাইজার্স’-এর ছোট-বড় প্রতিটি কাজে জড়িত। খেলোয়াড় নির্বাচন হোক বা দলের মনোবল বাড়ানো হোক, কাব্য সবসময় সামনের পায়ে খেলে।

কাব্য মারানের আসল শক্তি দেখা যায় যখন তিনি ‘নিলামের টেবিলে’ বসেন। তার বিশেষত্ব হল ঠাণ্ডা মাথায়, হাতে প্যাডেল নিয়ে খেলোয়াড়দের উপর বিড করা এবং তার দলের জন্য সেরা কম্বো বেছে নেওয়া। প্যাট কামিন্সকে রেকর্ড মূল্যে কেনা হোক বা ট্র্যাভিস হেডের মতো বিস্ফোরক খেলোয়াড়ের উপর বাজি ধরা হোক, কাব্যের কৌশল আবারও সানরাইজার্সকে ভয়ঙ্কর দলে পরিণত করেছে। তিনি শুধু টাকাই বিনিয়োগ করেন না, খেলোয়াড়দের পরিসংখ্যান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়েও আসেন।
হিসাবে News18 যোগ করুন
Google-এ পছন্দের উৎস

কাব্য মারান সেই মালিকদের মধ্যে একজন নন যারা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কেবিনে বসে ম্যাচ দেখেন। জ্বলন্ত তাপ হোক বা গভীর রাত পর্যন্ত চলে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ, তিনি স্ট্যান্ডে উপস্থিত থাকেন এবং তার দলকে উত্সাহিত করেন। খেলোয়াড়দের বাউন্ডারিতে তার আনন্দ এবং উইকেট পতনে তার হতাশা দেখায় যে সে তার দলের সাথে কতটা আবেগগতভাবে সংযুক্ত।

কাব্য মারানের সাম্রাজ্য আর শুধু ভারতেই সীমাবদ্ধ নেই। তিনি গ্লোবাল লিগেও তার চিহ্ন তৈরি করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় ইংল্যান্ডের বিখ্যাত লিগ ‘দ্য হান্ড্রেড’-এ আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে তার দল ‘সানরাইজার্স লিডস’।

সাম্প্রতিক ড্রাফটে পাকিস্তানি লেগ-স্পিনার আবরার আহমেদকে দলে রেখেছে কাব্যের দল। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়া ও ক্রিকেট বিশ্বে শুরু হয় নতুন বিতর্ক। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ ক্রিকেট সম্পর্কের মধ্যে, ভারতীয় মালিকানাধীন দল দ্বারা একজন পাকিস্তানি খেলোয়াড় নির্বাচন অনেকের কাছে ভাল যাচ্ছে না।

সমালোচকরা যুক্তি দেন যে যখন পাকিস্তানি খেলোয়াড়রা আইপিএলের অংশ নয়, তখন বিদেশী লিগে ভারতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজিদের তাদের নির্বাচন করা এড়ানো উচিত।

অন্যদিকে, ক্রিকেট পন্ডিতরা এটিকে কাব্য মারানের একটি বিশুদ্ধ ‘পেশাদার’ পদক্ষেপ হিসাবে বিবেচনা করছেন। আবরার আহমেদ তার ‘মিস্ট্রি স্পিন’-এর জন্য পরিচিত এবং তিনি ইংল্যান্ডের মাঠে মারাত্মক অস্ত্র হিসেবে প্রমাণিত হতে পারেন। কাব্যের জন্য, এই সিদ্ধান্ত সম্ভবত দলের শক্তির জন্য আবেগের ঊর্ধ্বে নেওয়া একটি বড় ঝুঁকি।