মতামত: বরুণ থাকলে, কাব্য মারান কি আবরারকে কিনতেন, বিসিসিআই-এর ‘এক্সক্লুসিভিটি’ কি প্রতিভার খাঁচায় পরিণত হচ্ছে?
সর্বশেষ আপডেট:
ইংল্যান্ডের ‘দ্য হান্ড্রেড’ লিগে সানরাইজার্স লিডসে (ভারতীয় মালিকানাধীন দল) পাকিস্তানি স্পিনার আবরার আহমেদের প্রবেশ নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই আলোচনা অনিবার্য মনে হচ্ছে কারণ এই লিগের জন্য যদি ভারতীয় খেলোয়াড় পাওয়া যায় তাহলে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের কে জিজ্ঞেস করবে।

ভারতীয় খেলোয়াড়রা বাজারে থাকলে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের দোকান বন্ধ হয়ে যেত।
নয়াদিল্লি। ক্রিকেটের বিশ্ব এখন আর শুধু মাঠেই সীমাবদ্ধ নেই, এটি এখন সীমানা পেরিয়ে বিশাল ব্যবসায়িক মডেলে রূপান্তরিত হয়েছে। সম্প্রতি ইংল্যান্ডের ‘দ্য হান্ড্রেড’ লিগে সানরাইজার্স লিডসে (ভারতীয় মালিকানাধীন দল) পাকিস্তানি স্পিনার আবরার আহমেদের প্রবেশ নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। এই আলোচনা অনিবার্য মনে হচ্ছে কারণ এই লিগের জন্য যদি ভারতীয় খেলোয়াড় পাওয়া যায় তাহলে পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের কে জিজ্ঞেস করবে।
এই বিতর্ক শুধু ভারত-পাকিস্তান শত্রুতা নিয়ে নয়, বিসিসিআই-এর কঠোর নীতি নিয়ে, যা ভারতীয় পুরুষ খেলোয়াড়দের বিদেশী লিগ থেকে দূরে রেখেছে। আজকে প্রশ্ন হল, এমন সময় কি এসেছে যখন ভারতীয় মালিকরা যারা সারা বিশ্বে দল কেনেন তারা বিসিসিআইয়ের কাছে আবেদন করবেন সেই খেলোয়াড়দের ‘মুক্ত’ করার জন্য যারা জাতীয় দলের পরিকল্পনার অংশ নয়?
বরুণ বনাম আবরার: সুযোগ খুঁজছি
ভাবুন, বিসিসিআই-এর বিধিনিষেধ না থাকলে আজ ‘দ্য হান্ড্রেড’-এ আবরার আহমেদের পরিবর্তে বরুণ চক্রবর্তী তার রহস্যময় স্পিন প্রদর্শন করতেন এবং উসমান তারিকের পরিবর্তে কুলদীপ যাদব জাতীয় দায়িত্বে থাকতেন না বা অন্য কোনো তরুণ ভারতীয় স্পিনার তার শিল্প দেখাতেন না। বর্তমানে, বিসিসিআই কেবলমাত্র সেই সমস্ত খেলোয়াড়দের বিদেশী লিগে খেলার অনুমতি দেয় যারা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ঘরোয়া ক্রিকেট এবং আইপিএলের সমস্ত ফর্ম্যাট থেকে অবসর নিয়েছেন। ফলাফল হল যে সক্রিয় ভারতীয় প্রতিভাগুলি বছরের বেশিরভাগ সময় ঘরোয়া মৌসুম বা আইপিএলের দুই মাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, যখন অন্যান্য দেশের খেলোয়াড়রা সারা বছর বিশ্বজুড়ে লিগে খেলে তাদের দক্ষতাকে সম্মানিত করে।
ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকদের দ্বিধা
আজ, আইপিএল মালিকদের সাম্রাজ্য দক্ষিণ আফ্রিকা SA20 থেকে UAE ILT20, আমেরিকার MLC এবং এখন ইংল্যান্ডের The Hundred পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। পরিহাসের বিষয় হল এই মালিকরা তাদের বিদেশী দলগুলিতে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করছে, কিন্তু তারা তাদের নিজেদের সবচেয়ে বড় শক্তি ভারতীয় খেলোয়াড়দের তাদের দলে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে না। এটি লিগের ব্র্যান্ড মূল্য এবং দর্শকদের উপরও প্রভাব ফেলে। রবি শাস্ত্রীর মতো বিশেষজ্ঞরাও বিশ্বাস করেন যে সক্রিয় খেলোয়াড়দের বিদেশী লিগে খেলার অনুমতি দেওয়া উচিত যাতে তারা বিভিন্ন পরিস্থিতিতে খেলার অভিজ্ঞতা পেতে পারে।
বিসিসিআই-এর অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পথ
বিসিসিআই-এর যুক্তি স্পষ্ট যে তারা আইপিএলের ‘এক্সক্লুসিভিটি’ এবং স্বতন্ত্রতা বজায় রাখতে চায়। বোর্ডের আশঙ্কা, ভারতীয় খেলোয়াড়দের সব জায়গায় পাওয়া গেলে আইপিএলের আকর্ষণ কমে যেতে পারে। তবে, সুরেশ রায়নার মতো প্রাক্তন অভিজ্ঞরাও তাদের আওয়াজ তুলেছেন যে কেন্দ্রীয় চুক্তিতে নেই এমন খেলোয়াড়দের অন্তত অনুমতি দেওয়া উচিত।
এটা আর্জি জানানোর সময় নয়, ক্রিকেটের এই নতুন যুগে ভারসাম্য তৈরির সময়। যদি ভারতীয় ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিকরা বিশ্বব্যাপী ক্রিকেট চালায়, তাহলে তাদের দলে ভারতীয় ফ্লেয়ার থাকা খেলা এবং ব্যবসা উভয়ের জন্যই উপকারী হবে। বিসিসিআই কি তার খপ্পর কিছুটা শিথিল করবে, নাকি ভারতীয় তারকারা কেবল ‘ভারতীয় সীমান্তে’ জ্বলতে থাকবে?