রান্নাঘরে লুকানো শক্তিশালী গুপ্তধন! মশলাকে ‘মর্দ’ বলা হয়, এগুলো কোষ্ঠকাঠিন্য ও স্মৃতিশক্তির জন্য একটি ওষুধ।


সর্বশেষ আপডেট:

জায়ফলের স্বাস্থ্য উপকারিতা: ভারতীয় রান্নাঘরের বিশেষ মশলা জায়ফল আকারে ছোট কিন্তু বৈশিষ্ট্যে খুবই শক্তিশালী। আয়ুর্বেদে, এটিকে উষ্ণায়নের প্রভাব বলে মনে করা হয়, যা হজমের উন্নতি করতে, গ্যাস এবং বদহজম দূর করতে, মানসিক চাপ কমাতে এবং ঘুম আনতে সাহায্য করে। এটি সীমিত পরিমাণে খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। জায়ফল শুধু স্বাদ ও সুগন্ধই বাড়ায় না, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও মানসিক স্বাস্থ্যকেও শক্তিশালী করে।

করৌলি

ভারতীয় রান্নাঘর সুগন্ধ ও মশলার স্বাদের জন্য পরিচিত। হলুদ, ধনে, জিরা এবং এলাচের মতো মশলার মধ্যে জায়ফল হল এমন একটি মশলা যা এর তিক্ত প্রকৃতি এবং অসাধারণ প্রভাবের জন্য একটি বিশেষ পরিচয় রয়েছে। আয়ুর্বেদে জায়ফলকে খুবই উপকারী বলে মনে করা হয় এবং সাধারণ ভাষায় একে মশলার মানুষও বলা হয়। এটি হজমের উন্নতি, ঘুম আনতে, ব্যথা কমাতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক। সীমিত পরিমাণে ব্যবহার করলে জায়ফল স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী বলে প্রমাণিত হয়।

করৌলি

আকারে ছোট কিন্তু বৈশিষ্ট্যে খুবই শক্তিশালী, জায়ফল স্বাদের পাশাপাশি স্বাস্থ্যের জন্য বর থেকে কম নয়। জায়ফলের স্বাদ কিছুটা তেতো, তিক্ত এবং গরম। এর সবচেয়ে বড় বিশেষত্ব হল এটি খাওয়ার সাথে সাথে এর প্রভাব দেখায় না, ধীরে ধীরে। জায়ফল হজম প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করে এবং গ্যাস ও বদহজমের মতো সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়। এছাড়াও, এটি ঘুম আনতে, স্ট্রেস কমাতে এবং ব্যথা থেকে মুক্তি দিতে সহায়ক বলে বিবেচিত হয়।

করৌলি

যে কোনো সবজি, মিষ্টি বা গ্রেভিতে যদি জায়ফল যোগ করা হয়, তবে এর সুগন্ধ পুরো থালাকে রাজকীয় ছোঁয়া দেয়। এই কারণেই এটি রাজকীয় সবজি, খির, হালুয়া, কেক এবং পেস্ট্রিতে গরম মসলা হিসাবে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। অনেক জায়গায় চায়ে এক চিমটি জায়ফলও যোগ করা হয়। অল্প পরিমাণে ব্যবহার করা জায়ফল খাবারের স্বাদ ও গন্ধ বাড়িয়ে দেয় এবং খাবারটিকে বিশেষ করে তোলে।

হিসাবে News18 যোগ করুন
Google-এ পছন্দের উৎস

করৌলি

আয়ুর্বেদে জায়ফলকে গরম প্রকৃতির বলে মনে করা হয়। অর্থাৎ এটি শরীরে তাপ উৎপন্ন করে এবং অনেক রোগকে মূল থেকে দূর করতে সহায়ক। শীতের মৌসুমে এর ব্যবহার বিশেষভাবে উপকারী বলে মনে করা হয়, কারণ এটি ঠান্ডাজনিত সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়। জায়ফল পাচনতন্ত্রকে শক্তিশালী করে, সর্দি-কাশি থেকে মুক্তি দেয় এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এটি সীমিত পরিমাণে সেবন করলে শরীরকে ভেতর থেকে শক্তি ও সুস্থ রাখে।

করৌলি

করৌলির আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক ডঃ মহেশ চন্দ্র জাঙ্গাল বলেন, জায়ফল যেমন উপকারী তেমনি শক্তিশালী। এই কারণে, এটি সর্বদা সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত পরিমাণে জায়ফল খাওয়া মাথা ঘোরা, নার্ভাসনেস, অস্থিরতা এবং স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। আয়ুর্বেদ অনুসারে, প্রতিদিন এক চিমটের বেশি জায়ফল খাওয়া উচিত নয়। শিশু এবং বয়স্কদের জন্য, এর পরিমাণ আরও কম রাখা নিরাপদ বলে মনে করা হয়, যাতে উপকার পাওয়া যায় এবং ক্ষতি এড়ানো যায়।

করৌলি

জায়ফলের সবচেয়ে বড় সুবিধা হজম ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা বলে মনে করা হয়। এটি গ্যাস, বদহজম, পেটব্যথা এবং ডায়রিয়ার মতো সমস্যায় খুবই কার্যকর বলে প্রমাণিত হয়। এক চিমটি জায়ফল মিশিয়ে হালকা গরম দুধ পান করলে হজমশক্তি ভালো হয় এবং পেটে আরাম পাওয়া যায়। এ ছাড়া জায়ফল স্মৃতিশক্তি বাড়াতে এবং মানসিক ক্লান্তি দূর করতেও সাহায্য করে। আয়ুর্বেদ অনুসারে, এটি মনকে শান্ত করে, স্ট্রেস এবং উদ্বেগ কমায় এবং ভাল ঘুম পেতেও সহায়ক বলে বিবেচিত হয়।

করৌলি

জয়েন্টের ব্যথা, মাংসপেশি শক্ত হয়ে যাওয়া এবং ফোলাতে জায়ফলের তেল খুবই উপকারী বলে মনে করা হয়। আক্রান্ত স্থানে হালকাভাবে ম্যাসাজ করলে ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায় এবং শক্ত হওয়া কমে যায়। জায়ফলের মধ্যে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরকে রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি দেয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়াও, জায়ফল পেস্ট ত্বকের দাগ, ব্রণ এবং দাগ হালকা করতে দরকারী বলে মনে করা হয়। এটি নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর করতে এবং মুখের স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও সহায়ক।

বাড়িজীবনধারা

রান্নাঘরের শক্তিশালী ধন! মশলাকে ‘পুরুষ’ বলা হয়, এদের উপকারিতা জানলে অবাক হবেন



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *