‘ফ্যাক্টরি’ খুলবেন জহির খান, বড় দায়িত্ব দিতে পারে বিসিসিআই, রাখতে পারে ক্রিকেট অফ এক্সিলেন্সে বড় পদ!
নয়াদিল্লি। যখনই ভারতীয় ক্রিকেটে ফাস্ট বোলিংয়ের উত্তরাধিকার নিয়ে কথা হয়, কিছু নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে উঠে আসে। একই উত্তরাধিকারকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য এখন ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড একটি বড় নাম হয়ে উঠেছে। ভারতের ফাস্ট বোলিংকে শক্তিশালী ভিত্তি দেওয়ার এবং ভবিষ্যতের বোলারদের তৈরি করার লক্ষ্যে, বিসিসিআই কিংবদন্তি প্রাক্তন ফাস্ট বোলার জহির খানকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছে।
একটি প্রতিবেদন অনুসারে, জহির খান মার্চের প্রথম সপ্তাহে বেঙ্গালুরুর সেন্টার অফ এক্সিলেন্সে একটি বিশেষ ফাস্ট-বোলিং ক্যাম্পের আয়োজন করবেন। এই উদ্যোগটি এমন এক সময়ে নেওয়া হচ্ছে যখন ভারতীয় ফাস্ট বোলিংয়ে নতুন কাঠামো এবং ধারাবাহিকতার খুব প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞের অভাব, অভিজ্ঞদের সমর্থন
ফাস্ট বোলিং কোচ ট্রয় কুলির চার বছরের মেয়াদ শেষ হয়েছে ডিসেম্বরে। এরপর থেকে সেন্টার অব এক্সিলেন্সে এই ভূমিকার জন্য কোনো স্থায়ী বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করা হয়নি। সম্প্রতি বোর্ড এই পদের জন্য দরখাস্ত আহ্বান করেছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী নিয়োগ ঘোষণা করা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে জহির খানের এই সাময়িক অংশগ্রহণকে ইতিবাচক ও সক্রিয় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এটি একটি বিশেষ শিবির যেখানে বিভিন্ন রাজ্য সমিতি থেকে নির্বাচিত প্রতিভাবান তরুণ ফাস্ট বোলাররা অংশগ্রহণ করবে। বিসিসিআইয়ের একটি সূত্রের মতে, এই উদ্যোগে সেন্টার অফ এক্সিলেন্সের ক্রিকেট প্রধান ভিভিএস লক্ষ্মণের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। তরুণ ফাস্ট বোলাররা যাতে ফোকাসড এবং পদ্ধতিগত দিকনির্দেশনা পান তা নিশ্চিত করার বিষয়ে লক্ষ্মণ নিজেই গুরুতর।
লাল বলের ক্রিকেটে গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন
গত কয়েক বছরে ভারতীয় দলের ফাস্ট বোলিং, বিশেষ করে টেস্ট ক্রিকেটে এর গভীরতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ক্রমাগত আঘাত, কাজের চাপ ব্যবস্থাপনা এবং নির্ভরযোগ্য ব্যাকআপের অভাব প্রায়ই সীমিত বিকল্পগুলির সাথে নির্বাচকদের ছেড়ে দেয়। এ কারণেই শূন্য ফাস্ট-বোলিং কোচ পদের জন্য বোর্ড কর্তৃক প্রকাশিত কাজের প্রোফাইলে জাতীয় দলের চাহিদা অনুযায়ী কাঠামোগত কর্মসূচির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
জহিরের অভিজ্ঞতা: পরিসংখ্যানের বাইরে
জহির খানের অভিজ্ঞতা ও অর্জনগুলো নতুন করে তুলে ধরার দরকার নেই। এই বাঁহাতি সুইং বোলার ভারতের হয়ে 92টি টেস্ট, 200টি ওডিআই এবং 17টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন এবং মোট 610টি আন্তর্জাতিক উইকেট নিয়েছেন। কিন্তু তার আসল শক্তি শুধু পরিসংখ্যানেই নয়, কীভাবে লম্বা স্পেল বোলিং করতে হয়, বিদেশি কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয় এবং ফাস্ট বোলিংয়ের শারীরিক চাপ সামলাতে হয় তার গভীর উপলব্ধিতে। মেন্টরের ভূমিকায় সাফল্যের স্বাদও পেয়েছেন তিনি। আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের সাথে তার কার্যকালের সময়, জহির জসপ্রিত বুমরাহ এবং ট্রেন্ট বেল্টের মতো বোলারদের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছিলেন। এই জুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে নতুন বলের সাথে সবচেয়ে বিপজ্জনক সমন্বয় গড়ে তোলে।
এটি কি একটি স্থায়ী ভূমিকার দিকে নির্দেশ করে?
বর্তমানে জহির খানের এই ভূমিকা স্বল্পমেয়াদী। যাইহোক, ভবিষ্যতে এই সমিতি স্থায়ী নিয়োগে পরিণত হয় কিনা তা দেখতে আকর্ষণীয় হবে। একটি সেন্টার অফ এক্সিলেন্সে একটি পূর্ণ-সময়ের অবস্থান ধরে রাখা একটি বিশাল প্রতিশ্রুতি দাবি করে। তবে এটা নিশ্চিত যে ভারতীয় ফাস্ট বোলিংয়ের ভবিষ্যত গঠনের জন্য বোর্ড এমন একটি নাম বেছে নিয়েছে যা অভিজ্ঞতা, বোঝাপড়া এবং দৃষ্টিতে সমৃদ্ধ। এই পরীক্ষা সফল হলে, ভারতীয় ক্রিকেট আগামী বছরগুলিতে একটি নতুন এবং শক্তিশালী ফাস্ট বোলিং ব্রিগেড পেতে পারে।