বিরক্তি এবং অস্থিরতা কি আপনাকে ছেড়ে যাচ্ছে? আয়ুর্বেদের এই পদ্ধতিগুলি থেকে মুক্তি পান, পিত্ত দোষ সঙ্গে সঙ্গে শান্ত হবে।

চন্দৌলি। বর্তমান যুগে যুবক ও কর্মজীবী ​​মানুষের মধ্যে বিরক্তি, রাগ ও মানসিক অস্থিরতার সমস্যা দ্রুত বাড়ছে। তাড়াহুড়ো জীবন, অনিয়মিত রুটিন, স্ক্রিন টাইম বাড়ানো এবং আবেগ দমন করার অভ্যাস এই সমস্যাটিকে আরও গুরুতর করে তুলছে। বৈদ্য পল্লভ প্রজাপতি ব্যাখ্যা করেছেন যে বিরক্তি এবং অস্থিরতা এমন দুটি লক্ষণ, যা হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। এটি শরীর এবং মনের কিছু ত্রুটির ভারসাম্যহীনতা নির্দেশ করে। প্রথমত, একজন ব্যক্তির তার নিকটস্থ আয়ুর্বেদিক ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করা উচিত এবং নাড়ি পরীক্ষা করানো উচিত। খালি পেটে নাড়ি পরীক্ষা করলে এটা স্পষ্ট হয়ে যায় যে ভাত, পিত্ত বা কফের মধ্যে কোন দোষটি বেশি উত্তেজিত। এর ভিত্তিতে ওষুধ এবং দৈনন্দিন রুটিন নির্ধারণ করা হয়।

খুব রেগে গেলে কি করবেন

বৈদ্য পল্লভ ব্যাখ্যা করেছেন যে একজন ব্যক্তি যদি ঘন ঘন রেগে যান বা অতিরিক্ত বিরক্তি অনুভব করেন, তাহলে সবচেয়ে সহজ সমাধান হল পানির সঠিক ব্যবহার। যখনই আপনি রাগ করবেন, তখনই কিছু জল পান করুন। পানি শরীরের তাপ ঠান্ডা করতে সাহায্য করে। পিত্ত প্রকৃতির লোকদের জন্য এটি বিশেষ উপকারী। বিরক্তির পাশাপাশি যদি প্রচণ্ড রাগ থাকে, তাহলে একটু মিষ্টি খাওয়ার অভ্যাসও সহায়ক হতে পারে। হালকা মিষ্টি স্বাদ মনকে শান্ত করে এবং রাগ কমাতে সাহায্য করে। তবে এর মানে খুব বেশি চিনি খাওয়া নয়, সুষম পরিমাণে মিষ্টি খাওয়া।

যখন মস্তিষ্ক কাজ করে না

অনেক সময় মানুষ রাগ না করলেও মন অশান্ত থাকে এবং বুঝতে পারে না কী করা উচিত আর কী করা উচিত নয়, এমন অবস্থায় হালকা গরম স্যুপ বা হালকা গরম পানি পান করা উপকারী হতে পারে। উষ্ণ তরল শরীর ও মনকে শিথিল করে। এটি মানসিক চাপ কমায় এবং চিন্তা করার এবং বোঝার ক্ষমতা উন্নত করে। বৈদ্য পল্লব প্রজাপতিও যোগ এবং প্রাণায়ামকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, যদি নিয়মিত রুটিনে যোগাসন, প্রাণায়াম এবং ধ্যান করা হয়, তাহলে বিরক্তি ও মানসিক চাপে অনেকটাই উপশম হয়। এটি শরীর ও মন উভয়েরই ভারসাম্য বজায় রাখে।

খাওয়ার সময় কী কী সতর্কতা অবলম্বন করবেন?

খিটখিটে এবং রাগী প্রকৃতির লোকদের তাদের খাদ্যাভ্যাসের দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। মসলাযুক্ত জিনিস, অতিরিক্ত তেল, মশলা এবং অতিরিক্ত লবণ খাওয়া কমিয়ে দিন। এই সব পিত্ত বাড়ায়, যা রাগ এবং বিরক্তি বাড়াতে পারে। দিনের বেলা ঘুমানোর অভ্যাসের বিরুদ্ধেও সতর্ক করেছেন তিনি। তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে গ্রীষ্মের ঋতুতে কিছু পরিস্থিতিতে দিনের বেলা বিশ্রামের কথা বলা আছে, তবে সাধারণত দিনের বেলা বেশি ঘুমানো এবং গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকা শরীরের দোষের ভারসাম্যকে বিঘ্নিত করে। এতে মানসিক চাপ ও বিরক্তি বাড়তে পারে।

আবেগ দমন করবেন না

বর্তমান তরুণদের একটা বড় সমস্যা আবেগ প্রকাশ না করা। মানুষ রাগান্বিত হয় কিন্তু কারো সাথে তাদের অনুভূতি শেয়ার করে না। জিনিসগুলি ভিতরে জমতে থাকে এবং পরে সেগুলি চাপ এবং বিরক্তি হিসাবে বেরিয়ে আসে। অতএব, একজন বিশ্বস্ত ব্যক্তির সাথে আপনার চিন্তাভাবনা শেয়ার করা গুরুত্বপূর্ণ। আগে মানুষ বন্ধুদের সাথে দেখা করত, কথা বলত, সমস্যা শেয়ার করত, কিন্তু এখন এই সংস্কৃতি ধীরে ধীরে মোবাইলেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ছে। বৈদ্য পল্লভ উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে আজ আবেগগুলি হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং সোশ্যাল মিডিয়াতে সীমাবদ্ধ। বিশেষ করে ইউটিউব এবং ইনস্টাগ্রাম শর্টের মতো প্ল্যাটফর্মে আক্রমণাত্মক বিষয়বস্তু ক্রমাগত দেখার কারণে তরুণদের মধ্যে আগ্রাসীতা বাড়ছে।

কেন সকালে হাঁটা গুরুত্বপূর্ণ?

বাড়ি থেকে বের হন, হাঁটাহাঁটি করুন, সকালে হাঁটুন এবং মানুষের সাথে দেখা করুন। মানুষের সাথে মুখোমুখি কথা বললে মন খুলে যায় এবং চাপ কমে। এতে মানসিক চাপ সহ্য করার ক্ষমতাও বাড়ে। বৈদ্য পল্লভ প্রজাপতিও স্ক্রিন টাইমকে বিরক্তির প্রধান কারণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে ক্রমাগত মোবাইল বা স্ক্রিনের দিকে তাকানোর ফলে চোখের উপর চাপ পড়ে। চোখ, নাক এবং গলা একে অপরের সাথে সংযুক্ত। যেকোনো ধরনের মানসিক চাপ মাথাব্যথা এবং মানসিক অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে, যা ধীরে ধীরে বিরক্তি বাড়ায়। তিনি স্ক্রিন টাইম কমিয়ে ‘ইনভলভমেন্ট টাইম’ অর্থাৎ পরিবার ও সমাজের সাথে কাটানো সময় বাড়ানোর পরামর্শ দেন। যদি ব্যক্তি এই বিষয়গুলি অনুসরণ করে তবে সে অবশ্যই বিরক্তি এবং মানসিক চাপের উন্নতি দেখতে পাবে।

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *