ক্রিমের মতো নরম, রোগে জীবন রক্ষাকারী… কী বলতে পারে কান্দার রাখাল, কেন পাহাড়ি থালির জীবন, জেনে নিন রহস্য – উত্তরাখণ্ডের খবর
সর্বশেষ আপডেট:
গরম মাদুভে রোটির সাথে কান্দা কি গাদেরি খাওয়া পাহাড়ের সবচেয়ে প্রিয় ঐতিহ্য। মাডুয়া পাহাড়ের প্রধান শস্য এবং স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী বলে মনে করা হয়। গাদেরির ক্রিমি সবজি এবং মাদুভের মোটা রোটি পুষ্টিকর খাবারের অন্তর্ভুক্ত। স্থানীয় লোকেরা এটিকে ক্রিম বা মাখনের সাথে তুলনা করে, কারণ রান্না করার পরে এটি খুব নরম হয়ে যায়। এর টুকরোগুলো এতই নরম যে মুখে রাখলেই গলে যায়। কান্দা অঞ্চলের উর্বর মাটি এবং শীতল জলবায়ু গদেরির গুণমান বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। শহরগুলিতে, লোকেরা এর জন্য উচ্চ মূল্য দিতে প্রস্তুত।

উত্তরাখণ্ডের বাগেশ্বর জেলার কান্দা এলাকা বিশেষ গোপালের জন্য পরিচিত। এই গাদেরী সাধারণ আরবি নয়, তবে স্বাদ ও গঠনে সম্পূর্ণ আলাদা বলে বিবেচিত হয়। স্থানীয় লোকেরা এটিকে ক্রিম বা মাখনের সাথে তুলনা করে, কারণ রান্না করার পরে এটি খুব নরম হয়ে যায়। কান্দার গাদেরি শুধু একটি সবজি নয়, এটি এখানকার কৃষি ঐতিহ্য ও জীবনধারার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। শীতকালে প্রতিটি বাড়ির থালায় এর দেখা মেলে। এর জনপ্রিয়তা এখন আর পাহাড়ে সীমাবদ্ধ নেই, বরং সমতল ভূমিতে এর চাহিদা বাড়ছে।

সিনিয়র সাংবাদিক ও স্থানীয় বিশেষজ্ঞ পঙ্কজ দাসিলা লোকাল 18 কে বলেন যে কান্দার গাদেরীকে ক্রিমের মতো ডাকার পিছনে সবচেয়ে বড় কারণ হল এর কোমলতা। এটি রান্না করা হলে, এটি খুব দ্রুত গলে যায়। এর টুকরোগুলো এতই নরম যে মুখে রাখলেই গলে যায়। এই গুণটি এটিকে সাধারণ আরবি থেকে আলাদা করে তোলে। হালকা প্রাকৃতিক মিষ্টি এবং স্বাদে মসৃণতা এটিকে আরও বিশেষ করে তোলে। পাহাড়ে, যেখানে খাবার সহজ কিন্তু পুষ্টিকর, সেখানে মানুষ এমন একটি ক্রিমি সবজি বিশেষ খুঁজে পায়। এটি বয়স্ক এবং শিশুদের উভয়ের জন্য একটি ভাল খাদ্য হিসাবে বিবেচিত হয়।

কান্দা অঞ্চলের উর্বর মাটি এবং শীতল জলবায়ু গদেরির গুণমান বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এখানে দিন এবং রাতের তাপমাত্রার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে, যা কন্দের বিকাশকে উন্নত করে। এই কারণেই কান্দার গোবর সাধারণ আরাবির চেয়ে বড় হয়। মাটিতে উপস্থিত প্রাকৃতিক পুষ্টি উপাদান এর স্বাদ ও গঠন বাড়ায়। কৃষকরা প্রজন্ম ধরে একই এলাকায় গাদেরী চাষ করে আসছেন এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে বীজ নির্বাচন করছেন। এই প্রাকৃতিক ভারসাম্যই কান্দার পশুপালকদের বিশেষ এবং বিরল করে তোলে।
হিসাবে News18 যোগ করুন
Google-এ পছন্দের উৎস

কান্দার পশুপালনের একটি প্রধান বিশেষত্ব হল এর জৈব চাষ। এখানকার কৃষকরা রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহার করেন না। গোবর সার এবং বন থেকে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক সার ব্যবহার করা হয়। এ কারণে গদারি শুধু স্বাদই ভালো নয় স্বাস্থ্যের জন্যও নিরাপদ। বর্তমান সময়ে যখন মানুষ রাসায়নিক ভরা সবজি নিয়ে চিন্তিত, তখন কান্দার গাদেরী হয়ে উঠছে খাঁটি খাবারের উদাহরণ। এই কারণেই শহরগুলিতেও লোকেরা বিশেষভাবে এটি সন্ধান করে এবং উচ্চ মূল্য দিতে প্রস্তুত।

পাহাড়ি এলাকায় শীত বেশ কড়া। এমন পরিস্থিতিতে কান্দার গাদেরীকে শীতের বিশেষ খাদ্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর প্রভাব গরম, যা শরীরকে ভেতর থেকে শক্তি জোগায়। এটি জয়েন্টের ব্যথা এবং ঠান্ডাজনিত দুর্বলতায়ও উপকারী। ক্ষেতে কঠোর পরিশ্রমকারী কৃষকরা এটিকে শক্তির উত্স হিসাবে বিবেচনা করে। শীতের মৌসুমে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই গাদেরী সবজি বা ভুজিয়া তৈরি করা হয়, যার ফলে শরীর উষ্ণ ও সক্রিয় থাকে।

কান্দার গাদেরী বানানোর পদ্ধতিও এটিকে বিশেষ করে তোলে। এটি প্রায়শই একটি লোহার প্যানে রান্না করা হয়, যা এর স্বাদ আরও বাড়িয়ে তোলে। এতে শন বীজের রস যোগ করা হয়, যা পাহাড়ি খাবারের বৈশিষ্ট্য। শণের মৃদু গন্ধ গদারির ক্রিমি টেক্সচারের সাথে একটি দুর্দান্ত সমন্বয় তৈরি করে। এটি কম আঁচে রান্না করা হয় যাতে এর পুষ্টিগুণ সংরক্ষণ করা হয়। এই ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অনুসরণ করা হয়েছে, আজও মানুষ একইভাবে এটি তৈরি করতে পছন্দ করে।

গরম মাদুভে রোটির সাথে কান্দা কি গাদেরি খাওয়া এখানকার সবচেয়ে প্রিয় ঐতিহ্য। মাডুয়া পাহাড়ের প্রধান শস্য এবং স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী বলে মনে করা হয়। গাদেরির ক্রিমি সবজি এবং মাদুভের মোটা রোটি পুষ্টিকর খাবারের অন্তর্ভুক্ত। এর পাশাপাশি শণের চাটনি আরও স্বাদ বাড়ায়। এই খাবার শুধু পেট ভরে না, পাহাড়ের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের স্বাদও দেয়।

কান্দা অঞ্চল শুধু মেষপালনের জন্যই নয়, ধর্মীয় ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের জন্যও পরিচিত। এখানে অবস্থিত কালিকা মন্দির বিশ্বাসের একটি প্রধান কেন্দ্র। এছাড়াও এলাকার চা বাগান পর্যটকদের আকর্ষণ করে। যারা এখানে বেড়াতে আসেন, তারা কান্দার গাদেরির স্বাদ নিতে ভুলবেন না। ধীরে ধীরে এই সবজিটিও স্থানীয় পর্যটনের অংশ হয়ে উঠছে। স্বাদ, স্বাস্থ্য এবং সংস্কৃতির সঙ্গম কান্দার গাদেরীকে সত্যিই বিশেষ করে তোলে।