নীল আলো ঘুম প্রভাব. রাতের ঘুম ভালো করার উপায়


নীল আলো ঘুম প্রভাব: বর্তমান জীবনে মোবাইল, ল্যাপটপ এবং টিভি আমাদের দিনরাতের অংশ হয়ে উঠেছে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার সাথে সাথে ফোনের দিকে তাকানো এবং রাতে ঘুমানোর আগে পর্যন্ত স্ক্রিনে স্ক্রল করা এখন একটি সাধারণ অভ্যাস হয়ে গেছে। অনেকে বলেন যে তারা খুব ক্লান্ত, কিন্তু ঘুমাতে যাওয়ার সাথে সাথে ঘুম চলে যায়। আসলে, এর পিছনে সবচেয়ে বড় কারণ হল পর্দা থেকে নির্গত নীল আলো। এই আলো মস্তিষ্কে দিনের বেলার সংকেত দেয়, যা শরীর অনুভব করে যে এটি জেগে থাকার সময়। এর ফলে ঘুম আনয়নকারী হরমোন মেলাটোনিন কম উৎপন্ন হতে শুরু করে এবং ঘুমের ছন্দে ব্যাঘাত ঘটে।

এই কারণেই যে লোকেরা গভীর রাত পর্যন্ত তাদের ফোন ব্যবহার করে তাদের ঘুমাতে সময় লাগে, ঘন ঘন ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে এবং সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর তারা ক্লান্ত থাকে। ভালো কথা হলো কিছু সহজ অভ্যাস অবলম্বন করলে এই সমস্যা অনেকাংশে নিরাময় করা যায়।

পর্দা থেকে নীল আলো ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়
মোবাইল বা ল্যাপটপের দিকে তাকালে এর স্ক্রীন থেকে নির্গত নীল আলো চোখের মাধ্যমে সরাসরি মস্তিষ্কে পৌঁছে যায়। মস্তিষ্ক এটিকে দিনের আলো হিসাবে ব্যাখ্যা করে এবং শরীরের জৈবিক ঘড়ি বিঘ্নিত হয়। এ কারণে মেলাটোনিন হরমোনের উৎপাদন কমে যায়। এই হরমোন শরীরকে ঘুমের জন্য প্রস্তুত করে।
এই প্রভাবের কারণে এই সমস্যাগুলি প্রায়শই প্রদর্শিত হয়:
– ঘুমাতে বেশি সময় লাগে
-রাতে বারবার জেগে উঠা
– সকালে ভারীতা এবং ক্লান্তি
– সারাদিন বিরক্তি বা একাগ্রতার অভাব

অত্যধিক স্ক্রীন টাইমের কারণে দীর্ঘমেয়াদী ক্ষতি হয়
প্রতি রাতে দীর্ঘ সময় ধরে স্ক্রিন দেখার অভ্যাস কেবল ঘুমই নয় আপনার সামগ্রিক স্বাস্থ্যকেও প্রভাবিত করে। ধীরে ধীরে শরীরের স্বাভাবিক দিন-রাত্রির ছন্দ বিঘ্নিত হতে থাকে। এটি অনেক সমস্যার কারণ হতে পারে:
– রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়া
– ওজন বৃদ্ধি
– হার্ট সংক্রান্ত সমস্যার ঝুঁকি
– স্মৃতি এবং মনোযোগের উপর প্রভাব
– মানসিক ক্লান্তি এবং চাপ

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও মনে করেন, ঘুমানোর আগে পর্দা থেকে দূরে থাকা গভীর ঘুমের জন্য সবচেয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ।

স্বাস্থ্য, সম্পর্ক, জীবন বা ধর্ম-জ্যোতিষ সংক্রান্ত কোনো ব্যক্তিগত সমস্যা থাকলে আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন। হোয়াটসঅ্যাপআপনার নাম গোপন রেখে আমরা আপনাকে তথ্য দেব।

ঘুমানোর 1 ঘন্টা আগে এই আরামদায়ক অভ্যাসগুলি গ্রহণ করুন

1. পর্দা বন্ধ করার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় আছে
প্রতিদিন ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল, টিভি ও ল্যাপটপ বন্ধ রাখুন। এটি একটি দৈনিক রুটিন করুন, যাতে মস্তিষ্ক একটি সংকেত পায় যে এখন বিশ্রামের সময়।

2. একটি আবছা আলোকিত পরিবেশ তৈরি করুন
উজ্জ্বল সাদা আলোর পরিবর্তে নরম হলুদ আলো ব্যবহার করুন। এটি শরীরকে রাতের সংকেত দেয় এবং ঘুমের হরমোন তৈরি করা সহজ হয়।

3. একটি বই বা ম্যাগাজিন পড়ুন
ঘুমানোর আগে হালকা পড়া মনকে শান্ত করে। এটি মনকে পর্দা থেকে সরিয়ে দেয় এবং শিথিল অবস্থায় নিয়ে আসে।

4. ধীর সঙ্গীত বা ধ্যান
মৃদু সঙ্গীত, মন্ত্র বা ধ্যানের মতো ক্রিয়াকলাপ মানসিক চাপ কমায়। শ্বাস-প্রশ্বাসে মনোনিবেশ করলে হৃদস্পন্দন কমে যায় এবং শরীর শিথিল হয়।

5. হালকা স্ট্রেচিং বা রিলাক্সেশন ব্যায়াম
ঘাড়, কাঁধ এবং পিঠের হালকা স্ট্রেচিং সারাদিনের কঠোরতা হ্রাস করে। এটি শরীরে শিথিলতার সংকেত দেয় এবং ঘুম সহজ হয়।

6. ঘুমানোর এবং জেগে ওঠার জন্য একটি নির্দিষ্ট সময় রাখুন
প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে ঘুমান এবং জেগে উঠুন। এর ফলে শরীরের ঘুমের ছন্দ স্থিতিশীল থাকে এবং ঘুম আপনা-আপনি আসতে শুরু করে।

7. রাতে ক্যাফেইন এবং ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন
রাতে চা, কফি বা মশলাদার খাবার খাওয়া ঘুমকে প্রভাবিত করে। ঘুমানোর অন্তত ২-৩ ঘণ্টা আগে হালকা খাবার খান।

ভালো ঘুমের জন্য ছোট কিন্তু কার্যকরী পরিবর্তন
স্লিপ এমন একটি সুইচ নয় যা একটি বোতাম টিপে চালু করা যায়। এটি শরীরের একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যা সঠিক পরিবেশ এবং অভ্যাস দ্বারা শক্তিশালী হয়। রাতে স্ক্রিন থেকে দূরত্ব, শান্ত পরিবেশ এবং নিয়মিত রুটিন- এই তিনটি জিনিসই ঘুমের উন্নতির সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি।

(অস্বীকৃতি: এই নিবন্ধে দেওয়া তথ্য এবং তথ্য সাধারণ অনুমানের উপর ভিত্তি করে। হিন্দি নিউজ 18 এগুলি নিশ্চিত করে না। এগুলি বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করুন।)



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *