হোলির মিষ্টি বানানোর সময় মেনে চলুন 5 টি টিপস, আপনার স্বাস্থ্যের কোন ক্ষতি হবে না, আপনি উত্সবটি অনেক উপভোগ করবেন।
ঘরে তৈরি হোলির মিষ্টি উপকারিতা: হোলি উৎসব আসতে চলেছে এবং এই সময়ে বেশিরভাগ বাড়িতে মিষ্টি তৈরি করা হচ্ছে। গুজিয়া, রসগুল্লা এবং লাড্ডু ছাড়া হোলি উদযাপন অসম্পূর্ণ মনে হয়। বাজারে পাওয়া মিষ্টিতে অনেক সময় ভেজাল মাওয়া, কৃত্রিম রং এবং পরিশোধিত চিনি থাকে। এসব মিষ্টি খেলে স্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বাড়িতে তৈরি মিষ্টি শুধুমাত্র উৎসবের সময়ই আপনাকে নিরাপদ রাখতে পারে না। আপনি যদি এই হোলিতে আপনার রান্নাঘরে মিষ্টি কিছু তৈরি করার পরিকল্পনা করছেন, তবে একজন ডায়েটিশিয়ানের কিছু টিপস আপনার কাজে লাগতে পারে।
নয়ডার ডায়েট মন্ত্র ক্লিনিকের ডায়েটিশিয়ান কামিনী সিনহা নিউজ 18 কে জানিয়েছেন। বাজারের মিষ্টিতে প্রচুর পরিশ্রুত চিনি থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এই হোলিতে আপনি আপনার মিষ্টিতে চিনির পরিবর্তে গুড়, স্ট্রিং ক্যান্ডি বা খেজুরের পেস্ট ব্যবহার করতে পারেন। গুজিয়ার স্টাফিংয়ে চিনির পরিবর্তে মিহি করে কাটা গুড় বা কিশমিশ যোগ করলে আলাদা সুগন্ধ পাওয়া যায়। স্টেভিয়ার মতো প্রাকৃতিক সুইটনার ব্যবহার করলে ডায়াবেটিস রোগীরাও নির্বিঘ্নে উৎসব উপভোগ করতে পারবেন। এতে আপনার স্বাস্থ্যের কোনো ক্ষতি হবে না এবং আপনিও উৎসব উপভোগ করতে পারবেন।
খাদ্য বিশেষজ্ঞ জানান, উৎসবের মৌসুমে বাজারে সিনথেটিক ও ভেজাল মাওয়া বিক্রি শুরু হয়। এ থেকে বাঁচার সবচেয়ে ভালো উপায় হলো ঘরে দুধ থেকে মাওয়া তৈরি করা। আপনার যদি সময় কম থাকে তবে আপনি তাজা পনির বা কনডেন্সড মিল্ক ব্যবহার করে দ্রুত মিষ্টি তৈরি করতে পারেন। ঘরে তৈরি মাওয়া আর্দ্রতা এবং বিশুদ্ধতা ধরে রাখে, যা মিষ্টির শেলফ-লাইফও বাড়ায়। বাজারের ভেজাল মিষ্টির চেয়ে খাঁটি দুধের মিষ্টির স্বাদ অনেক ভালো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গুজিয়া বা মালপুয়া সাধারণত ময়দা দিয়ে তৈরি করা হয়, যা হজম করতে ভারী এবং পেট সংক্রান্ত সমস্যা হতে পারে। এইবার আপনি সম্পূর্ণরূপে বা 50-50 অনুপাতে গমের আটা, সুজি বা রাগি আটা দিয়ে ময়দা প্রতিস্থাপন করতে পারেন। ময়দা দিয়ে তৈরি গুজিয়া শুধুমাত্র ফাইবার সমৃদ্ধ নয়, এটি আপনাকে দীর্ঘ সময়ের জন্য শক্তিমানও রাখে। এছাড়াও, বেসন বা মুগ ডালের হালুয়াও একটি চমৎকার এবং পুষ্টিকর বিকল্প যা স্বাদ এবং স্বাস্থ্যের ভারসাম্য বজায় রাখে।
হোলির বেশিরভাগ মিষ্টিই ঘি বা তেলে ভাজা হয়, যার কারণে এতে ক্যালরির পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। আপনার স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে এ বার বেকড গুজিয়া খেয়ে দেখতে পারেন। ওভেন বা এয়ার-ফ্রায়ার ব্যবহার করে আপনি তেল ছাড়াই ক্রিস্পি এবং সুস্বাদু মিষ্টি তৈরি করতে পারেন। যদি ভাজতে হয়, খাঁটি দেশি ঘি ব্যবহার সীমিত করুন বা রাইস ব্র্যান অয়েলের মতো কম কোলেস্টেরল তেল ব্যবহার করুন। মনে রাখবেন একই তেল বারবার গরম করবেন না এবং ব্যবহার করবেন না, কারণ এটি ক্ষতিকারক ট্রান্স-ফ্যাট তৈরি করে।
ডায়েটিশিয়ান কামিনী সিনহা বলেন, মিষ্টিকে আকর্ষণীয় করতে কখনোই কৃত্রিম ফুড কালার ব্যবহার করবেন না। আপনি জাফরান, হলুদ বা বিটরুটের রস ব্যবহার করে আপনার মিষ্টিকে সুন্দর এবং নিরাপদ রঙ দিতে পারেন। এছাড়াও আপনার রেসিপিতে কাজু, বাদাম, পেস্তা এবং আখরোটের মতো শুকনো ফলের পরিমাণ বাড়ান। এগুলো শুধু মিষ্টির আড়ষ্টতাই বাড়ায় না, শরীরে প্রয়োজনীয় ওমেগা-৩ এবং ভিটামিনও সরবরাহ করে। এলাচ এবং জায়ফলের মতো মশলা ব্যবহার শুধুমাত্র স্বাদ দ্বিগুণ করে না, হজমেও সাহায্য করে।