স্মার্টফোন এবং মানসিক স্বাস্থ্য 5 স্ট্রেস সতর্কতা লক্ষণ | স্মার্টফোনের কারণে মানসিক চাপ বাড়ার ৫টি বড় লক্ষণ
সর্বশেষ আপডেট:
স্মার্টফোন ও মানসিক স্বাস্থ্য: আজকাল স্মার্টফোনের ব্যবহার হচ্ছে মাত্রাতিরিক্ত। এ কারণে মানুষের মানসিক চাপ বাড়ছে। ঘন ঘন ফোন চেক করা এবং অফলাইন জীবন থেকে দূরত্বের মতো লক্ষণগুলি নির্দেশ করে যে স্মার্টফোন আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এমন পরিস্থিতিতে সময়মতো ডিজিটাল ডিটক্স গ্রহণ করা জরুরি।

স্মার্টফোনের কারণে মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি ঘটছে।
স্মার্টফোনের কারণে ডিজিটাল স্ট্রেস: এখন ডিজিটাল যুগ চলে এসেছে। প্রতিটি কাজ ডিজিটালভাবে করা হচ্ছে এবং মানুষকে সব সময় পর্দার দিকে তাকাতে হচ্ছে। এই যুগে, স্মার্টফোন আমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে রাতে ঘুমানো পর্যন্ত আমরা কোনো না কোনোভাবে মোবাইলের স্ক্রিনের সঙ্গে যুক্ত থাকি। কাজ, সোশ্যাল মিডিয়া, বিনোদন এবং তথ্য সবকিছুই এখন ফোনের অন্তর্ভুক্ত। ফোনে থাকা অবস্থায় অনেক সময় মানুষ খাওয়া-দাওয়াও ভুলে যায়। আপনি কি কখনও ভেবেছেন যে স্মার্টফোন আপনার ক্রমবর্ধমান চাপ এবং মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির সবচেয়ে বড় কারণ হয়ে উঠতে পারে? বিশেষজ্ঞরা বিশ্বাস করেন যে অত্যধিক স্ক্রিন টাইম এবং ক্রমাগত ডিজিটাল সংযোগ আপনার মানসিক স্বাস্থ্য নষ্ট করতে পারে।
অনেক গবেষণায় দেখা গেছে যে আপনি যদি কোনো কারণ ছাড়াই বারবার আপনার ফোন চেক করেন, তাহলে সেটা ভালো লক্ষণ নয়। নোটিফিকেশন চেক করার জন্য প্রতি কয়েক মিনিটে ফোন তোলা এবং কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ না করা ডিজিটাল নির্ভরতার লক্ষণ হতে পারে। এই অভ্যাসের কারণে, মস্তিষ্ক ক্রমাগত উদ্দীপনা পায়, যা মানসিক ক্লান্তি এবং অস্থিরতা বাড়াতে পারে। ধীরে ধীরে এই অভ্যাস ফোকাস এবং উত্পাদনশীলতাকেও প্রভাবিত করতে শুরু করে। ফোন না থাকলে আপনি যদি অস্থির বোধ করতে শুরু করেন, তাহলে তা ফোন আসক্তি হতে পারে। যেকোনো কিছুর প্রতি আসক্তি স্বাস্থ্যের জন্য বিপজ্জনক। সময়মতো এই নেশা থেকে মুক্তি পাওয়ার চেষ্টা করা উচিত।
ফোন ব্যবহারের পর ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুম না হলে স্মার্টফোনের অতিরিক্ত ব্যবহার আপনার ঘুম নষ্ট করে দিচ্ছে। ঘুম বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাতে ঘুমানোর আগে মোবাইল ব্যবহার, সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রোল করা বা ভিডিও দেখা ঘুমের মান নষ্ট করতে পারে। পর্দা থেকে নির্গত নীল আলো শরীরের মেলাটোনিন হরমোনকে প্রভাবিত করে, যা ঘুমের জন্য প্রয়োজনীয়। আপনি যদি গভীর রাত পর্যন্ত আপনার ফোন ব্যবহার করেন এবং সকালে ক্লান্ত বোধ করেন তবে এটি আপনার মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য বিপদের লক্ষণ। ঘুমের সমস্যা হলে মোবাইল থেকে দূরে থাকুন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় অন্যদের নিখুঁত জীবন দেখে, অনেকে নিজেকে নিকৃষ্ট মনে করতে শুরু করে। লাইক, কমেন্ট ও ফলোয়ারের প্রতিযোগিতা মানসিক চাপও বাড়িয়ে দিতে পারে। আপনি যদি সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করার পরে দুঃখ, অসন্তুষ্ট বা বিরক্ত বোধ করেন তবে এটি একটি লক্ষণ যে আপনার স্মার্টফোন আপনার আবেগকে প্রভাবিত করছে। অন্যের সাথে ক্রমাগত তুলনা করা এবং হীন বোধ করাও মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতির লক্ষণ।
দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিনে সময় কাটালে মস্তিষ্ক পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না। ক্রমাগত বিজ্ঞপ্তি এবং ডিজিটাল মাল্টিটাস্কিং মনোযোগ বিভ্রান্ত করে। আপনি যদি ছোট ছোট বিষয়ে রাগ করতে শুরু করেন বা মনোযোগ দিতে অক্ষম হন, তাহলে অবশ্যই আপনার স্ক্রিন টাইম পর্যালোচনা করুন। এছাড়াও অফলাইন জীবনে আগ্রহের অভাবও স্মার্টফোনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে। আপনি যদি বন্ধুবান্ধব এবং পরিবারের সাথে সময় কাটানোর পরিবর্তে ফোনে বেশি সময় কাটাতে পছন্দ করেন তবে এটি ডিজিটাল অত্যধিক ব্যবহারের লক্ষণ হতে পারে। বাস্তব সম্পর্ক থেকে দূরত্ব এবং ভার্চুয়াল জগতে বেশি সময় কাটানো ধীরে ধীরে একাকীত্ব এবং হতাশার দিকে নিয়ে যেতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে সময়মতো ডিজিটাল ডিটক্স গ্রহণ করা জরুরি।
(অস্বীকৃতি: এই নিবন্ধে দেওয়া তথ্য এবং তথ্য সাধারণ অনুমানের উপর ভিত্তি করে। হিন্দি নিউজ 18 এগুলি নিশ্চিত করে না। এগুলি বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করুন।)
লেখক সম্পর্কে

অমিত উপাধ্যায় নিউজ 18 হিন্দির লাইফস্টাইল টিমের একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিক, যার প্রিন্ট এবং ডিজিটাল মিডিয়াতে 9 বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তারা গবেষণা ভিত্তিক এবং স্বাস্থ্য, সুস্থতা এবং জীবনধারা সম্পর্কিত ডাক্তারদের সাথে সাক্ষাত্কারের উপর ভিত্তি করে।আরো পড়ুন