সুস্বাস্থ্যের জন্য ঘুমের সেরা সময় | রাতে ঘুমানোর সঠিক সময় কি?
সর্বশেষ আপডেট:
ঘুমানোর আদর্শ সময় কী: অনেকেই রাত ১২টার পর ঘুমান, কিন্তু তা করা স্বাস্থ্যের জন্য ভালো নয়। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে ঘুমানো ঠিক। এতে শরীরের স্বাভাবিক ঘড়ি ঠিক থাকে এবং অনেক স্বাস্থ্য সমস্যা প্রতিরোধ হয়। দেরি করে রাত জেগে থাকার ফলে হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, ওজন বৃদ্ধি এবং মানসিক চাপ হতে পারে।

রাত ১০-১১টা পর্যন্ত ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী।
সুস্বাস্থ্যের জন্য ঘুমের সময়: আধুনিক জীবনধারায়, বেশিরভাগ মানুষ গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকে এবং সকালে দেরি করে ঘুম থেকে ওঠে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের এই অভ্যাস তাদের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলছে। গভীর রাতে জেগে থাকলে অনেক মারাত্মক রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। আজকাল বেশিরভাগ মানুষই জানেন না রাতে ঘুমানোর সঠিক সময় কী এবং দেরি করে ঘুমানোর অভ্যাস শরীরের কতটা ক্ষতি করতে পারে। ঘুম বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু ঘুমের ঘণ্টা নয়, ঘুমের সময়ও সুস্বাস্থ্যের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ। তাই ঘুমের অভ্যাসের সঠিক পরিবর্তন করা জরুরি।
এখন পর্যন্ত অনেক গবেষণায় জানা গেছে যে রাত 10 থেকে 11 টার মধ্যে ঘুমানো শরীরের জন্য সেরা বলে বিবেচিত হয়। এই সময়ে শরীরের জৈবিক ঘড়ি অর্থাৎ সার্কাডিয়ান রিদম সবচেয়ে ভালো কাজ করে। গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকা হরমোনের ভারসাম্যকে ব্যাহত করতে পারে, যার ফলে ক্লান্তি, বিরক্তি এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। রাত 11 টার পরে ঘুম থেকে ওঠা শরীরের জন্য চাপ বাড়ায় বলে মনে করা হয়। এ সময় মেলাটোনিন হরমোনের নিঃসরণ প্রভাবিত হয়, যা ভালো ঘুমের জন্য প্রয়োজনীয়। মেলাটোনিনের অভাবে ঘুমের মান খারাপ হয় এবং শরীর সম্পূর্ণ বিশ্রাম পায় না।
চিকিৎসকরা বলছেন, যারা প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন তাদের ওজন বৃদ্ধি, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও হৃদরোগের ঝুঁকি বেশি থাকে। এছাড়াও যারা দেরিতে ঘুমান তাদের মধ্যে হজমের সমস্যা, অ্যাসিডিটি এবং মাথাব্যথাও দেখা যায়। এটি মানসিক স্বাস্থ্যের উপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং চাপ ও উদ্বেগ বাড়াতে পারে। বেশির ভাগ মানুষই সকালে দেরি করে ঘুমানোর চেষ্টা করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস শরীরের স্বাভাবিক ঘড়িকে আরও বিঘ্নিত করে। প্রতিদিন একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো এবং ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুললে ভালো হবে।
আপনি যদি ভালো ঘুম এবং সুস্বাস্থ্য চান, তাহলে ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল ফোন এবং স্ক্রিন থেকে দূরে থাকুন, হালকা খাবার খান এবং ক্যাফেইন এড়িয়ে চলুন। ধীরে ধীরে রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুললে ঘুমের মান উন্নত হবে, শরীর সতেজ থাকবে এবং অনেক রোগ প্রতিরোধ করাও সম্ভব হবে। সমস্ত জীবনধারা পরিবর্তনের পরেও যদি ঘুমের সমস্যা হয়, তাহলে একজন ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করুন এবং এই অবস্থার জন্য নিজেকে পরীক্ষা করুন।
(অস্বীকৃতি: এই নিবন্ধে দেওয়া তথ্য এবং তথ্য সাধারণ অনুমানের উপর ভিত্তি করে। হিন্দি নিউজ 18 এগুলি নিশ্চিত করে না। এগুলি বাস্তবায়নের আগে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞের সাথে যোগাযোগ করুন।)
লেখক সম্পর্কে

অমিত উপাধ্যায় নিউজ 18 হিন্দির লাইফস্টাইল টিমের একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিক, যার প্রিন্ট এবং ডিজিটাল মিডিয়াতে 9 বছরের বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তারা গবেষণা ভিত্তিক এবং স্বাস্থ্য, সুস্থতা এবং জীবনধারা সম্পর্কিত ডাক্তারদের সাথে সাক্ষাত্কারের উপর ভিত্তি করে।আরো পড়ুন