রিলের কারণে ঘাড়ে ব্যথা। রিল দেখার কারণে ঘাড়ের ব্যথা ও সার্ভিকাল মেরুদণ্ডের সমস্যা বাড়ছে।
আজকের ডিজিটাল যুগে মোবাইল ফোন আমাদের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। অফিসের কাজ হোক বা অবসর সময়ের বিনোদন, সবই হচ্ছে মোবাইলের মাধ্যমে। বিশেষ করে ছোট ভিডিও অর্থাৎ রিল দেখার অভ্যাস দ্রুত বেড়েছে। শিশু, যুবক এবং বৃদ্ধ, সকলেই অজান্তেই রিলগুলির মধ্য দিয়ে স্ক্রোল করতে ঘন্টা কাটায়। শুরুতে এই অভ্যাসটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক এবং ক্ষতিকর মনে হলেও এই অভ্যাস ধীরে ধীরে ঘাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতি করছে বলে মনে করেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। মোবাইলে ক্রমাগত রিল দেখা অল্প বয়সে ঘাড়ের ব্যথা, শক্ত হয়ে যাওয়া এবং জরায়ুর সমস্যা বৃদ্ধির একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের মতে, একজন ব্যক্তি যখন মোবাইলে রিল দেখেন, তখন তার মাথা স্বাভাবিকভাবেই সামনের দিকে ঝুঁকে যায়। খাড়া অবস্থানে, আমাদের ঘাড়ে মাথার ওজন প্রায় পাঁচ কিলো। কিন্তু মাথা সামনের দিকে বাঁকানোর সঙ্গে সঙ্গে ঘাড়ের ওপর চাপ বহুগুণ বেড়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ একই ভুল ভঙ্গিতে থাকার ফলে ঘাড়ের পেশী, স্নায়ু এবং হাড়ের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এই চাপ ধীরে ধীরে সার্ভিকাল মেরুদণ্ডকে দুর্বল করতে শুরু করে। শুরুতে, হালকা ব্যথা বা শক্ততা অনুভূত হয়, যা লোকেরা ক্লান্তি বা স্বাভাবিক ব্যথা বলে বিবেচনা করে উপেক্ষা করে। কিন্তু এই অসাবধানতা ভবিষ্যতে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ডাক্তারদের মতে, রিল দেখার সময় ব্যক্তি প্রায়ই একই অবস্থানে বসে থাকে বা শুয়ে থাকে। ঘাড় এবং কাঁধ প্রায় অচল থাকে এবং পেশী শিথিল করতে অক্ষম। ক্রমাগত মানসিক চাপের কারণে ঘাড় ও কাঁধের পেশী শক্ত হতে শুরু করে। ধীরে ধীরে এই দৃঢ়তা তীব্র ব্যথায় পরিণত হয়। অনেক ক্ষেত্রে এই ব্যথা শুধু ঘাড়েই সীমাবদ্ধ থাকে না, কাঁধ ও বাহুতেও ছড়িয়ে পড়ে। এই কারণে, পড়া, লেখা বা গাড়ি চালানোর মতো ছোট ছোট দৈনন্দিন কাজগুলিও কঠিন হয়ে পড়ে।
রিল দেখার এই অভ্যাসটি কেবল ঘাড় নয়, পুরো মেরুদণ্ডকে প্রভাবিত করে। মেরুদণ্ড শরীরের ভারসাম্য এবং সোজাতা দেয়। খারাপ ভঙ্গি দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকলে, মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক গঠন ক্ষয় হতে শুরু করে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে ঘাড়ের উপরের অংশে অর্থাৎ সার্ভিকাল মেরুদণ্ডে। ডাক্তারি ভাষায় একে সার্ভিকাল স্পাইন ডিসঅর্ডার বলা হয়। সময়মতো যত্ন না নিলে এই সমস্যা ধীরে ধীরে স্থায়ী রূপ নিতে পারে, যার কারণে চিকিৎসা দীর্ঘ ও কঠিন হয়ে পড়ে।
রিল আসক্তির প্রভাব শুধু শরীরেই সীমাবদ্ধ নয়, মন ও চোখকেও প্রভাবিত করে। ক্রমাগত স্ক্রিন দেখার ফলে চোখে জ্বালা, ভারী হওয়া, শুষ্কতা এবং দৃষ্টি ঝাপসা হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়। একই সঙ্গে ক্রমাগত ভিডিও কনটেন্টে মগ্ন থাকার কারণে মস্তিষ্ক ঠিকমতো বিশ্রাম নিতে পারে না। মানসিক চাপ বৃদ্ধির সাথে, পেশীতে ব্যথা আরও অনুভূত হয়, যার কারণে ঘাড়ের সমস্যা আরও গুরুতর হয়ে ওঠে।
এ ছাড়া দীর্ঘক্ষণ মোবাইলে রিল দেখার কারণেও মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা এবং হাতে কলঙ্কের মতো সমস্যা হতে পারে। চিকিত্সকরা বিশ্বাস করেন যে এটি স্নায়ুর উপর ক্রমাগত চাপের লক্ষণ হতে পারে। এই উপসর্গগুলোকে সময়মতো গুরুত্বের সাথে না নেওয়া হলে ভবিষ্যতে ওষুধ, ফিজিওথেরাপি এবং দীর্ঘ চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। তাই সময়মতো রিল দেখার অভ্যাস নিয়ন্ত্রণ করা এবং ঘাড়ের স্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।