রিলের আড়ালে লুকিয়ে আছে বিপদ! 18 বছরের কম বয়সী শিশুরা অবাঞ্ছিত সামগ্রী পাচ্ছে, মেটা রিপোর্ট প্রকাশ করেছে


সর্বশেষ আপডেট:

মেটার অভ্যন্তরীণ জরিপে বড় উদ্ঘাটন। প্রতি 5 জনের মধ্যে 1 শিশু ইনস্টাগ্রামে অবাঞ্ছিত অশ্লীল বা বিপজ্জনক সামগ্রী দেখছে। নতুন পরিসংখ্যান শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা সম্পর্কে কী বলে এবং অভিভাবকদের কী সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত তা জানুন।

অবিলম্বে খবর

রিলের আড়ালে লুকিয়ে আছে বিপদ! 18 বছরের কম বয়সী শিশুরা অবাঞ্ছিত সামগ্রী পাচ্ছেজুম

শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন

আজকের সময়ে, সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর থেকে রাতে ঘুমানো পর্যন্ত মোবাইল আমাদের হাতে থাকে। সোশ্যাল মিডিয়া এখন শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক সকলের জীবনের একটি অংশ হয়ে উঠেছে। বাচ্চারা ইনস্টাগ্রামে রিল দেখতে থাকে বা বন্ধুদের সাথে ঘন্টার পর ঘন্টা চ্যাট করে। অনেক অভিভাবক মনে করেন ‘শিশু ঘরে থাকলে সে নিরাপদ।’ কিন্তু আপনি কি কখনও ভেবে দেখেছেন যে আপনার সন্তানের পর্দায় কী দেখা যাচ্ছে?

সোশ্যাল মিডিয়ার গ্ল্যামারের আড়ালে লুকিয়ে আছে তিক্ত সত্য। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে এই সত্যতা ফুটে উঠেছে। মেটা কোম্পানির একটি অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা এমন তথ্য প্রকাশ করেছে যা যেকোনো অভিভাবককে উদ্বিগ্ন করতে পারে।

প্রতি ৫ জনের মধ্যে ১ জন শিশু নির্যাতনের শিকার হচ্ছে
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইনস্টাগ্রাম এবং অন্যান্য মেটা প্ল্যাটফর্মে 13 থেকে 15 বছর বয়সী শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। কোম্পানির নিজস্ব সমীক্ষায় দেখা গেছে যে 19 শতাংশ কিশোর-কিশোরীকে ইনস্টাগ্রামে অশ্লীল বা অবাঞ্ছিত ছবি দেখতে হয়েছে যা তারা দেখতে চায় না। অর্থাৎ প্রতি 5 জনের মধ্যে 1 জন শিশু স্বীকার করেছে যে সে অবাঞ্ছিত ‘নগ্ন’ ছবি বা আপত্তিকর সামগ্রী দেখেছে।

শুধু অশ্লীলতা নয়, জীবনের জন্যও বিপদ
সমীক্ষাটি আরও প্রকাশ করেছে যে কিছু শিশু তাদের ফিড বা বার্তাগুলিতে আত্ম-ক্ষতি বা আত্মহত্যার মতো বিপজ্জনক বিষয়গুলিকে প্রচার করছে। অল্প বয়সে এই ধরনের বিষয়বস্তু দেখা শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং তাদের আচরণে গুরুতর পরিবর্তন আনতে পারে।

ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রাম নিরাপদ?
মেটা ফেসবুক এবং ইনস্টাগ্রামে ‘সেনসিটিভ কন্টেন্ট কন্ট্রোল’-এর মতো অনেক ফিচার চালু করেছে। কিন্তু নতুন তথ্য দেখায় যে এই বৈশিষ্ট্যগুলি পুরোপুরি কার্যকর নয়। শিশু অধিকার কর্মীরা বলছেন, এই প্ল্যাটফর্মগুলো এখন আর শিশুদের জন্য আগের মতো নিরাপদ নয়।

কোম্পানি পরিষ্কার করা
মেটা বলেছেন যে এটি শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়ে গুরুতর। সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের সাথে চ্যাট ব্লক করতে এবং আপত্তিকর ছবি সনাক্ত করতে সংস্থাটি সরঞ্জাম স্থাপন করেছে। কিন্তু অনেক সময় ‘প্রাইভেট মেসেজ’-এর মাধ্যমে এমন কন্টেন্ট পাঠানো হয়, যা গোপনীয়তার কারণে পুরোপুরি বন্ধ করা কঠিন।

এখন বাবা-মায়ের দায়িত্ব বেশি
প্রযুক্তির যতই অগ্রগতি হোক না কেন, খারাপ লোকেরা সবসময় নতুন উপায় খুঁজে পায়। এমতাবস্থায় শুধু কোম্পানির ওপর আস্থা রাখা ঠিক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিভাবকদের এই পদক্ষেপগুলি নেওয়া উচিত:

  • শিশুদের সাথে খোলামেলা কথা বলুন এবং সোশ্যাল মিডিয়ার বিপদ ব্যাখ্যা করুন।
  • তাদের অনলাইন কার্যকলাপের উপর নজর রাখুন – তারা কার সাথে কথা বলছে এবং তারা কি দেখছে।
  • আপনার অ্যাকাউন্টের গোপনীয়তা সেটিংস শক্তিশালী করুন এবং সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বিকল্প চালু রাখুন।
  • ডিজিটাল যুগে গোপনীয়তা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হল আমাদের শিশুদের নিরাপদ এবং সুস্থ ভবিষ্যৎ। সতর্ক হওয়াই এই সমস্যার সবচেয়ে বড় সমাধান।

লেখক সম্পর্কে

রচনা

আফরিন আফাক

আফরিন আফাক টেক জার্নালিস্ট হিসাবে নেটওয়ার্ক 18 এর সাথে তার কর্মজীবন শুরু করেছেন এবং ‘মোবাইল-টেকনোলজি’ বিটে ছয় বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে। তিনি একজন প্রতিষ্ঠিত এবং প্রমাণিত একজন উচ্চ-সম্পাদক পেশাদার…আরো পড়ুন



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *