রক্ত বৃদ্ধিকারী খাবার আয়রন সমৃদ্ধ খাবার রক্তশূন্যতার ঘরোয়া প্রতিকার
সর্বশেষ আপডেট:
রক্ত বৃদ্ধিকারী খাবার: রক্তস্বল্পতা এবং ক্রমাগত দুর্বলতা অনুভব করা একটি সাধারণ সমস্যা, যা ঘরোয়া সুপারফুডের মাধ্যমে সহজেই নিরাময় করা যায়। পালংশাক, মেথি বীজ, গাজর এবং চিনাবাদামের মতো আয়রন সমৃদ্ধ খাবার শরীরে রক্ত বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া বিটরুট, কালো আঙুর এবং পানিশূন্য বাদামও শক্তি ও শক্তি বাড়ায়। এই সুপারফুডগুলি শুধু রক্ত বাড়ায় না শরীরের দুর্বলতা দূর করে এবং শক্তির মাত্রা স্থিতিশীল রাখে। এগুলোকে নিয়মিত খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করলে রক্তস্বল্পতা এবং ক্লান্তির মতো সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

বর্তমান সময়ে শরীরে দুর্বলতা, ক্লান্তি এবং রক্তশূন্যতার মতো সমস্যায় পড়তে শুরু করেছে অনেকেই। এর সবচেয়ে বড় কারণ হতে পারে শরীরে আয়রনের ঘাটতি। আয়রন আমাদের শরীরের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, কারণ এটি রক্ত তৈরি করতে এবং শরীরে শক্তি জোগাতে সাহায্য করে। আমরা যদি আমাদের খাবারে কিছু প্রাকৃতিক জিনিস অন্তর্ভুক্ত করি তবে শরীর শক্তিশালী এবং সক্রিয় থাকে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডাঃ সুরেশ শর্মা বলেন, মেথি আয়রনের জন্য খুবই উপকারী। মেথিতে প্রায় 5.6 মিলিগ্রাম আয়রন পাওয়া যায়, যা শরীরের রক্তশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে। মেথি শাক, পরোটা, ডাল বা অঙ্কুরিত আকারেও খাওয়া যেতে পারে। এটি শুধু আয়রন বাড়ায় না, হজমশক্তিও বাড়ায় এবং শরীরকে ভেতর থেকে শক্তি যোগায়।

মেথির পাশাপাশি মোরিঙ্গা অর্থাৎ ড্রামস্টিকও আয়রনের ভালো উৎস। ড্রামস্টিকে প্রায় 4 মিলিগ্রাম আয়রন থাকে। ঝোল পাতা বিশেষ করে খুবই পুষ্টিকর এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। স্যুপ, সবজি বা গুঁড়া আকারে ড্রামস্টিক খাওয়া শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগায় এবং দুর্বলতা থেকে মুক্তি দেয়।
হিসাবে News18 যোগ করুন
Google-এ পছন্দের উৎস

আয়রন তখনই শরীরে ভাল কাজ করে যখন ভিটামিন সি এর সাথে গ্রহণ করা হয়। ভিটামিন সি শরীরে দ্রুত আয়রন পূরণ করতে সাহায্য করে। এই জন্য, লেবু এবং আমলা সবচেয়ে সহজ এবং সস্তা বিকল্প। আপনি সালাদে লেবু লাগাতে পারেন বা হালকা গরম পানিতে লেবু মিশিয়ে পান করতে পারেন। এতে শরীরে সতেজতা আসে এবং রক্ত গঠনের প্রক্রিয়াও উন্নত হয়।

ডালিম এবং বীটরুট হরমোনের স্বাস্থ্য এবং রক্ত প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত উপকারী বলে মনে করা হয়। ডালিম শুধু শরীরে রক্ত বাড়ায় না হার্টের স্বাস্থ্যও মজবুত করে। বিটরুটের রস শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়ায় এবং দুর্বলতা ও মাথা ঘোরার মতো সমস্যা থেকে মুক্তি দেয়। মহিলাদের জন্য, এটি হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে বিশেষভাবে সহায়ক।

এছাড়া তিল ও খেজুর সেবন খুবই উপকারী। তিলে আয়রন, ক্যালসিয়াম এবং ভালো পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায় যা শরীরকে ভেতর থেকে শক্তিশালী করে। রক্ত বৃদ্ধি ও দুর্বলতা দূর করতে খেজুর খুবই কার্যকরী বলে মনে করা হয়। প্রতিদিন সকালে ২ থেকে ৩ খেজুরের সাথে এক চামচ ভাজা তিল খেলে শরীরে আয়রনের ঘাটতি দূর হয়, শক্তি বৃদ্ধি পায় এবং ক্লান্তি দূর হয়।