মুখের কর্টিসল মুখের উপর চাপের লক্ষণ: করটিসল মুখ কি?
সর্বশেষ আপডেট:
কর্টিসল ফেস কী: করটিসল ফেস আজকাল সোশ্যাল মিডিয়ায় স্বাস্থ্য সচেতনতার একটি নতুন ইস্যু হয়ে উঠেছে। লোকেরা বেশ চিন্তিত এবং এটি প্রতিরোধ করার জন্য সমাধানও খুঁজছে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো এই ধরনের কোনো রোগ বা ব্যাধি চিকিৎসাগতভাবে দাবি করা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে চিন্তিত হওয়ার আগে চিকিত্সকরা কী বলছেন তা বোঝা জরুরি।

করটিসল ফেস কি: মানবদেহে অনেক ধরনের হরমোন রয়েছে, যেগুলো বিভিন্ন কারণে উদ্ভূত হয় এবং বিভিন্ন কাজের জন্য দায়ী। এরকম একটি হরমোন হল কর্টিসল, একে স্ট্রেস হরমোনও বলা হয়। এর নাম অনুসারে, যখন আমরা মানসিক চাপে থাকি তখন এই হরমোনটি শরীরে নিঃসৃত হয়। এর কাজ জরুরী অবস্থা এবং সমস্যাগুলি বুঝতে এবং পরিচালনা করতে সহায়তা করে।
কিন্তু এটা কঠিন হয়ে পড়ে যখন শরীরে এর মাত্রা বাড়তে থাকে। এ কারণে অনেক সময় মুখে ফোলাভাব, নিস্তেজতা এবং চোখের নিচে কালো দাগ দেখা যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় একে বলা হচ্ছে কর্টিসল ফেস। কিন্তু এই শব্দটি TikTok-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ কারণ চিকিৎসা অভিধানে এই ধরনের কোনো রোগ বা ব্যাধির উল্লেখ নেই।
চাঁদের মুখ, কর্টিসল মুখ নয়, আসল সমস্যা।
আমেরিকান ডাক্তার ব্রায়ানা কনর ভেরিওয়েলমাইন্ডকে বলেছেন যে কর্টিসল ফেস একটি অস্থায়ী অবস্থা, যেখানে অতিরিক্ত চাপের কারণে মুখ গোলাকার দেখাতে শুরু করে। কিন্তু “চাঁদের চেহারা” একটি বাস্তব চিকিৎসা অবস্থা। এতে মুখে অতিরিক্ত ফোলা বা চর্বি জমে যায়, যার কারণে মুখ গোলাকার ও ফোলা দেখায়। অনেক সময় ব্যথাও হতে পারে। এটি কিছু অভ্যন্তরীণ রোগের লক্ষণ হতে পারে, যেমন কুশিং সিন্ড্রোম। দীর্ঘদিন স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ খাওয়ার কারণেও এই সমস্যা হতে পারে।
কখন চিন্তা করবেন?
যদি আপনার মুখ শুধুমাত্র মানসিক চাপের সময় ফুলে যায়, কোন ব্যাথা না থাকে এবং কিছু সময় পরে তা নিজে থেকেই সেরে যায়, তাহলে তাকে কর্টিসল ফেস বলা যেতে পারে। এটি মানসিক চাপের একটি স্বাভাবিক পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া। কিন্তু মুখে ফোলা যদি ক্রমাগত বাড়তে থাকে। যদি ব্যথা থাকে এবং ওজন বৃদ্ধি, দুর্বলতার মতো অন্যান্য উপসর্গ থাকে তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
মানসিক চাপ মোকাবেলার উপায়
আপনি যদি অনেক চাপের মধ্যে থাকেন তবে তা নিয়ন্ত্রণ করতে গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন। এর পাশাপাশি প্রতিদিনের কিছু ব্যায়াম, ধ্যান, ভালো ঘুম এবং স্ক্রিন টাইম কমানো উপকারী প্রমাণিত হতে পারে। মনে রাখবেন যে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, মুখের হালকা ফোলা শুধুমাত্র মানসিক চাপের কারণে হয় এবং সঠিক জীবনধারার মাধ্যমে নিরাময় করা যেতে পারে।
লেখক সম্পর্কে

শারদা সিং নিউজ 18 হিন্দির সিনিয়র সাব এডিটর হিসাবে যুক্ত। তিনি স্বাস্থ্য, সুস্থতা এবং জীবনধারা সম্পর্কিত এবং ডাক্তারদের সাথে সাক্ষাত্কারের ভিত্তিতে গবেষণা ভিত্তিক প্রতিবেদন তৈরিতে বিশেষজ্ঞ। গত ৫ বছর ধরে শারদা মিডিয়া…আরো পড়ুন
দাবিত্যাগ: এই সংবাদে দেওয়া ওষুধ/ওষুধ এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কিত পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের সাথে কথোপকথনের উপর ভিত্তি করে। এটি সাধারণ তথ্য, ব্যক্তিগত পরামর্শ নয়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই যেকোনো কিছু ব্যবহার করুন। লোকাল-18 এই ধরনের কোনো ব্যবহারের কারণে কোনো ক্ষতির জন্য দায়ী থাকবে না।