মাইগ্রেনের উপশম যোগ: মাইগ্রেন জীবনকে কঠিন করে তুলেছে! প্রতিদিন 8টি যোগাসন করুন, আপনি প্রচণ্ড মাথাব্যথা থেকে মুক্তি পাবেন।


মাইগ্রেনের মাথা ব্যথা উপশমের জন্য যোগ আসন: আজকের ব্যস্ত জীবন, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং ক্রমবর্ধমান মানসিক চাপ অনেক রোগের জন্ম দিচ্ছে। এই গুরুতর সমস্যাগুলির মধ্যে একটি হল মাইগ্রেন। এটি কেবল একটি সাধারণ মাথাব্যথা নয়, একটি স্নায়বিক ব্যাধি যা একজন ব্যক্তির জীবনকে কঠিন করে তোলে। আপনিও যদি এই অসহ্য যন্ত্রণা এবং বারবার ওষুধের চক্রে ক্লান্ত হয়ে পড়েন, তাহলে যোগব্যায়াম আপনার জন্য আশীর্বাদ হতে পারে।

মাইগ্রেনের কারণে সৃষ্ট ব্যথা সাধারণত মাথার এক অংশে হয় এবং এটি 2 ঘন্টা থেকে 2-3 দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

মাইগ্রেন বুঝুন:
মাইগ্রেনের কারণে সৃষ্ট ব্যথা সাধারণত মাথার এক অংশে হয় এবং এটি 2 ঘন্টা থেকে 2-3 দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এই সময়ে ব্যক্তি আলো, উচ্চ শব্দ এবং সুগন্ধির প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। বমি বমি ভাব, বমি হওয়া এবং শারীরিক পরিশ্রমের সময় ব্যথা বৃদ্ধি এর প্রধান লক্ষণ।

মাইগ্রেনের জন্য যোগব্যায়াম কীভাবে কাজ করে?
আর্ট অফ লিভিং ওয়েবসাইট অনুসারে, যোগব্যায়াম হল একটি প্রাচীন এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ামুক্ত প্রতিকার। এটি শুধু শরীরকে নমনীয় করে না, শরীরের রক্ত ​​সঞ্চালন উন্নত করে এবং মানসিক চাপ কমায়। যোগব্যায়ামের নিয়মিত অনুশীলন মাইগ্রেনের আক্রমণের ফ্রিকোয়েন্সি এবং তীব্রতাকে মারাত্মকভাবে হ্রাস করে।

মাইগ্রেন এবং মাথাব্যথা থেকে মুক্তির জন্য 8 টি প্যানেসিয়া যোগাসন-

1.হস্তপদাসন (স্ট্যান্ডিং ফরওয়ার্ড বেন্ড): এই আসনটি মস্তিষ্কে রক্ত ​​​​প্রবাহ বাড়ায় এবং স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে, যার ফলে তাত্ক্ষণিক মাথাব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।

2.সেতুবন্ধাসন (সেতুর ভঙ্গি): এটি করলে মনে প্রশান্তি আসে এবং দুশ্চিন্তা কমে। এটি আপনার পিঠ এবং ঘাড়ের চাপও কমায়।

3.শিশু ভঙ্গি: এটি একটি শিথিল ভঙ্গি। এটি ঘাড় এবং কাঁধ থেকে উত্তেজনা দূর করে এবং মনে গভীর শান্তি প্রদান করে।

4. মার্জারিয়াসন (বিড়াল স্ট্রেচ): মেরুদণ্ডের নমনীয়তার পাশাপাশি এটি শ্বাসপ্রশ্বাসের প্রক্রিয়াকে উন্নত করে, যা শরীরে পর্যাপ্ত অক্সিজেন সরবরাহ করে এবং মাইগ্রেনের চাপ কমায়।

5. পশ্চিমোত্তনাসন (দুই পায়ের সামনের বাঁক): এটি স্ট্রেস উপশম এবং রাগ এবং বিরক্তিকরতা শান্ত করার জন্য দুর্দান্ত, যা প্রায়শই মাইগ্রেনের কারণ হয়।

6.নিম্নমুখী কুকুরের ভঙ্গি: এই ভঙ্গিতে মাথা নিচু হওয়ার কারণে মস্তিষ্কে তাজা রক্ত ​​পৌঁছায়, যা ক্লান্তি দূর করে এবং মাথা ব্যথা কমায়।

7.পদ্মাসন (পদ্ম ভঙ্গি): ধ্যানের এই ভঙ্গিটি মনকে কেন্দ্রীভূত করে এবং পেশীর টান কমিয়ে শরীরকে শিথিল করে।

8. শবাসন (মৃতদেহের ভঙ্গি): এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আসন। এটি শরীরকে সম্পূর্ণ শিথিল অবস্থায় নিয়ে যায়, যা যেকোনো ধরনের স্নায়বিক ব্যথার ওষুধ হিসেবে কাজ করে।

কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়-

  • যোগব্যায়ামের উপকারিতা তখনই পাওয়া যায় যখন এটি প্রতিদিন করা হয়।
  • ‘অনুলোম-বিলোম’ এবং ‘ভ্রমরী প্রাণায়াম’ সহ আসনগুলি মাইগ্রেনে অলৌকিক ফলাফল দেয়।
  • সারাদিন প্রচুর পানি পান করুন এবং পর্যাপ্ত ঘুম পান।

মনে রাখবেন যে মাইগ্রেন বেদনাদায়ক হতে পারে, তবে শৃঙ্খলা এবং যোগব্যায়াম দিয়ে এটিকে পরাজিত করা যেতে পারে। ওষুধের উপর আপনার নির্ভরতা হ্রাস করুন এবং যোগব্যায়ামকে আপনার জীবনের একটি অংশ করুন। মনে রাখবেন, একটি শান্ত মন একটি সুস্থ শরীরের চাবিকাঠি।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *