মহুয়া গাছের প্রতিটি অংশই উপকারী! হজম থেকে ত্বকে উপকার দেয়, এভাবে ব্যবহার করুন
সর্বশেষ আপডেট:
গ্রীষ্মকাল শুরু হলেই মহুয়া গাছে ফুল ফোটে। এই ফুলগুলি স্বাদে হালকা মিষ্টি এবং গ্রামীণ অঞ্চলে বিভিন্ন ধরণের খাবারে ব্যবহৃত হয়। মহুয়া শুধুমাত্র স্বাদের জন্যই নয়, এর ঔষধি গুণের জন্যও বিশেষ বিবেচিত হয়। এর ফুল, বীজ এবং বাকলের মধ্যে অনেক পুষ্টি উপাদান পাওয়া যায়, যা শরীরের নানাভাবে উপকার করে।

উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরি জেলার তরাই অঞ্চলে মহুয়া গাছ প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। মহুয়া ফল স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী বলে মনে করা হয়। আজও গ্রামাঞ্চলে মানুষ মহুয়া ফল থেকে সবজি তৈরি করে খেয়ে থাকে। এই ফলটি বিশেষ করে গ্রীষ্মকালে পাওয়া যায় এবং এটি একটি অত্যন্ত পুষ্টিকর ও ঔষধি গাছ হিসেবে বিবেচিত হয়।

মহুয়াতে অনেক ধরনের পুষ্টি পাওয়া যায়, যা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী বলে মনে করা হয়। এতে প্রচুর পরিমাণে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন ও ভিটামিন থাকে। মহুয়ার ফুলও শুকিয়ে খাওয়া হয়। মহুয়া ফুল থেকে তৈরি লাড্ডু ও খির খেতে অনেকেই পছন্দ করেন। বিশেষ করে শীতকালে মহুয়ার লাড্ডু খুবই উপকারী বলে মনে করা হয়, তাই এই সময়ে এর চাহিদাও বেড়ে যায়।

গ্রীষ্মকাল শুরু হলেই মহুয়া গাছে ফুল ফোটে। তবে খুব কম মানুষই জানেন যে এই গাছের বীজ থেকে নিষ্কাশিত তেল ত্বকের জন্য বরের চেয়ে কম নয়। মহুয়া বীজের তেল মুখের উজ্জ্বলতা বাড়াতে, শুষ্ক ত্বক নিরাময় করতে এবং চর্মরোগ থেকে মুক্তি দিতে সহায়ক বলে মনে করা হয়।
হিসাবে News18 যোগ করুন
Google-এ পছন্দের উৎস

অনেক আয়ুর্বেদিক ওষুধে মহুয়ার ফুল ব্যবহার করা হয়। পাচনতন্ত্রকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি শরীরে শীতলতাও যোগায়। এ কারণে গ্রীষ্ম মৌসুমে মহুয়া ফুলের চাহিদা বেড়ে যায়। মহুয়া ফুল বাজারে বিক্রি হয় ১০০ টাকারও বেশি। হালকা মিষ্টি স্বাদের কারণে এর চাহিদাও বেশি। মহুয়া ফুল পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ এবং অনেক ধরনের ঐতিহ্যবাহী খাবার তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।

মহুয়া এমন একটি গাছ যার বাকল, ফল এমনকি বীজেও রয়েছে ঔষধি গুণ। যদি কেউ দাঁতের ব্যথা বা আলগা দাঁতের সমস্যায় অস্থির থাকেন, তাহলে সকালে মহুয়া গাছের ডাল দিয়ে দাঁত মাজলে দাঁতের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। টনসিলাইটিস, মাড়ির সমস্যা, ডায়াবেটিস এবং আলসারের মতো সমস্যায়ও মহুয়ার ছাল উপকারী বলে মনে করা হয়।

আয়ুর্বেদিক আচার্য দেবেন্দ্র কুমারের মতে, মহুয়া পাতায় অ্যালকালয়েড, কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, স্যাপোনিন, ট্যানিন এবং ট্রাইটারপেনয়েডের মতো উপাদান পাওয়া যায়, যা অনেক স্বাস্থ্য সমস্যায় উপকারী বলে মনে করা হয়। বাতের ব্যথা ও ফোলাভাব কমাতেও মহুয়ার ছাল ব্যবহার করা যেতে পারে। এ ছাড়া মহুয়ার ছাল জলে ফুটিয়ে এর ক্বাথ পান করাও উপকারী বলে মনে করা হয়।