মনোযোগ দিন সারাদিন চেয়ারে লেগে থাকা ৫টি মারাত্মক রোগের জন্ম দিচ্ছে, আজই আপনার এই অভ্যাসটি পরিবর্তন করুন।
আসীন জীবনযাত্রার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: আজকাল বেশিরভাগ চাকরিতে মানুষকে ঘন্টার পর ঘন্টা কম্পিউটারের সামনে বসে থাকতে হয়, যা আমাদের শরীর এবং স্বাস্থ্য উভয় ক্ষেত্রেই ক্ষতিকর। আমাদের শরীরের অনেক অংশই এর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই ভঙ্গিতে একটানা বসে থাকার কারণে পিঠ, কোমর, কাঁধ ইত্যাদি ব্যথার অভিযোগ থাকে। এ ছাড়া এক জায়গায় বসে কাজ করার কারণে অনিদ্রা, মানসিক চাপ এবং রক্তচাপের মতো সমস্যাও হতে পারে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা স্ক্রিনের সামনে বসে থাকা শুধু আমাদের স্বাস্থ্যের জন্যই নয়, আমাদের চোখ ও মস্তিষ্কের জন্যও ক্ষতিকর।
এটি আমাদের চোখ এবং মানসিক স্বাস্থ্যেরও ব্যাপক ক্ষতি করে।
1. দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করলে পিঠ ও কোমরের সমস্যা হতে পারে।দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে শুধু মেরুদণ্ডেই সমস্যা হয় না, আশেপাশের জয়েন্ট এবং পেশিও শক্ত হয়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যারা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকেন তাদের হ্যামস্ট্রিং ছোট হয়ে যাওয়ার এবং পেলভিস এরিয়ায় স্ট্রেনের সমস্যা হতে পারে, যার কারণে পিঠের নিচের অংশে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা শুরু হয়। আপনি যদি বাসা থেকে কাজ করার সময় সোফা বা বিছানায় বসে কাজ করেন (WFH), এই সমস্যা আরও গুরুতর হতে পারে।
2. এটি মানসিকভাবেও খারাপ প্রভাব ফেলে-অস্ট্রেলিয়ার এক গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রাপ্তবয়স্করা যারা দিনে 6 ঘন্টার বেশি বসে থাকেন তাদের মানসিক যন্ত্রণা বেশি থাকে যারা মাত্র 3 ঘন্টা বসে থাকে। সারা বিশ্বের গবেষণা দেখায় যে যারা সারাদিন ভিডিও গেম খেলে বা টিভির সামনে কাটান তাদের হতাশা এবং উদ্বেগের ঝুঁকি বেশি। এ ধরনের জীবনযাপন ডিমেনশিয়া এবং আলঝেইমারের মতো সমস্যার ঝুঁকিও বাড়িয়ে দেয়।
5. ঘুমের ব্যাধির সমস্যা- দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটার বা টিভির সামনে থাকার ফলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটতে পারে। সক্রিয় মনের কারণে কেউ চাইলেও ঘুমাতে পারে না। এর একমাত্র সমাধান হল নিয়মিত ব্যায়াম। মনে রাখবেন, ভালো ঘুমের অভাবে হৃদরোগ, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং ওজন বৃদ্ধির মতো সমস্যা হয়।
5. মাথা ব্যথার সমস্যা: ক্রমাগত স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে এবং ভুল অবস্থানে বসে থাকলে ঘাড় এবং পিঠের জয়েন্টগুলিতে চাপ পড়ে, যা প্রায়শই মাথাব্যথার কারণ হয়। এটি এড়াতে, পেশী প্রসারিত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা (টিপস):
সক্রিয় থাকুন: যতটা সম্ভব শরীরকে সচল রাখুন।
বিরতি নিন: প্রতি 45 মিনিটের কাজের পরে 5 মিনিটের বিরতি নিন।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন: ওজন বৃদ্ধি সমস্যা দ্বিগুণ করে।
স্ট্রেচিং: কাজের মাঝে ঘাড় ও হাত স্ট্রেচিং করুন।
সঠিক ভঙ্গি: সর্বদা একটি সোজা পিঠ সঙ্গে একটি ergonomic চেয়ারে বসুন।
প্রস্থান করুন: সকাল বা সন্ধ্যায় তাজা বাতাসে হাঁটার অভ্যাস করুন।