প্রতি মাসে অতিরিক্ত রক্তপাত হতে পারে একটি বড় সমস্যা, এই ঘাটতি শরীরে ঘটতে শুরু করে।

সর্বশেষ আপডেট:

পিরিয়ড মহিলাদের শরীরের একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, তবে কখনও কখনও এই সময়কালে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। এমন অবস্থায় শরীরে আয়রনের ঘাটতি দ্রুত বাড়তে পারে, যার ফলে দুর্বলতা ও ক্লান্তি দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং সময়মতো চিকিৎসার মাধ্যমে এই সমস্যা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

প্রতি মাসে অতিরিক্ত রক্তপাত হতে পারে একটি বড় সমস্যা, এই ঘাটতি শরীরে ঘটতে শুরু করে।জুম

পিরিয়ড 3 থেকে 7 দিন স্থায়ী হয়।

পিরিয়ডস অর্থাৎ ঋতুস্রাব মহিলাদের জীবনে একটি স্বাভাবিক এবং নিয়মিত প্রক্রিয়া। প্রতি মাসে শরীর গর্ভাবস্থার সম্ভাবনার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে। গর্ভধারণ না হলে জরায়ুর ভেতরের স্তর ভেঙ্গে শরীর থেকে বেরিয়ে আসে, যাকে পিরিয়ড বলে। এই প্রক্রিয়া সাধারণত কয়েক দিন স্থায়ী হয় এবং এই সময়ের মধ্যে রক্তপাত স্বাভাবিক বলে মনে করা হয়। যাইহোক, অনেক মহিলাকে এই সময়ের মধ্যে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি রক্তপাতের সম্মুখীন হতে হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

সাধারণত পিরিয়ড ৩ থেকে ৭ দিন স্থায়ী হয়। এ সময় শরীর থেকে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ রক্ত ​​বের হয়। কিন্তু রক্তপাত যখন অতিরিক্ত হয়ে যায় তখন তাকে ভারী মাসিক রক্তপাত বলে। এ অবস্থায় শরীর থেকে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে আয়রনের ঘাটতি শুরু হয়। রক্তে প্রচুর আয়রন থাকায় ক্রমাগত অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ফলে শরীরে আয়রনের মাত্রা দ্রুত নেমে যেতে পারে।

আয়রন শরীরের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি পুষ্টি উপাদান। এটি শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরি করতে সাহায্য করে, যা রক্তের মাধ্যমে শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন পরিবহন করে। শরীরে আয়রনের ঘাটতি হলে হিমোগ্লোবিনের মাত্রাও কমতে শুরু করে। এই অবস্থাকে অ্যানিমিয়া বলা হয়। রক্তশূন্যতার কারণে শরীরে অনেক ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে শুরু করে, যেমন ক্রমাগত ক্লান্তি, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট, চুল পড়া এবং মুখের রং ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পিরিয়ডের সময় যদি আপনি অতিরিক্ত ক্লান্তি, মাথা ঘোরা বা দুর্বলতা অনুভব করেন, তাহলে তা অবহেলা করা উচিত নয়। এটি শরীরে আয়রনের ঘাটতির লক্ষণ হতে পারে। এমতাবস্থায় খাদ্যাভ্যাসের দিকে বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। খাদ্যতালিকায় আয়রন সমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করলে এই সমস্যা কমানো যায়। আয়রনের ঘাটতি মেটাতে সবুজ শাক-সবজি খুবই উপকারী বলে মনে করা হয়। পালং শাক, বীটরুট, ডাল, কিডনি বিন এবং ছোলার মতো খাদ্য উপাদান শরীরে আয়রন সরবরাহ করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া গুড়, ডালিম এবং শুকনো ফল যেমন কিশমিশ, খেজুর এবং বাদামও আয়রনের ভালো উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়। এই জিনিসগুলো নিয়মিত খেলে শরীরে আয়রনের ঘাটতি দূর হয়।

এছাড়া আয়রনের সাথে ভিটামিন সি খাওয়াও জরুরী। ভিটামিন সি শরীরে আয়রনের শোষণ বাড়াতে সাহায্য করে। তাই ফলমূল ও খাদ্যদ্রব্য যেমন লেবু, আমলা, কমলা, টমেটো, পেয়ারা বা স্ট্রবেরি খাবারের সঙ্গে অন্তর্ভুক্ত করা উপকারী বলে মনে করা হয়। এতে শরীর আয়রনের পূর্ণ উপকার পায়। যদি কোনও মহিলার মাসিকের সময় ক্রমাগত অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয় বা অত্যন্ত দুর্বল বোধ হয়, তবে ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় ডাক্তাররা আয়রন-ফলিক অ্যাসিড ট্যাবলেট খাওয়ার পরামর্শ দেন, যা শরীরে আয়রনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করে। সময়মতো চিকিৎসা ও সুষম খাদ্যের মাধ্যমে রক্তশূন্যতার মতো সমস্যা এড়ানো যায় এবং শরীরকে সুস্থ রাখা যায়।

লেখক সম্পর্কে

রচনা

বিবিধ সিং

বিভিধা সিং নিউজ 18 হিন্দির (NEWS18) সাংবাদিক। তিনি দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাংবাদিকতায় স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন। তিন বছর ধরে তিনি সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে কাজ করছেন। বর্তমানে নিউজ 18…আরো পড়ুন

Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *