পানের স্বাস্থ্য উপকারিতা এবং হজম হয়। হজমের জন্য পানের স্বাস্থ্য উপকারিতা
সর্বশেষ আপডেট:
হজমের জন্য পানের স্বাস্থ্য উপকারিতা: পরিবর্তিত জীবনধারা এবং ফাস্ট ফুডের কারণে দুর্বল হয়ে পড়া পাচনতন্ত্রের জন্য পান একটি কার্যকর আয়ুর্বেদিক প্রতিকার। গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং মানসিক চাপ কমানোর পাশাপাশি এটি মুখের স্বাস্থ্যেরও উন্নতি করে।

আজকের ব্যস্ত জীবনযাত্রা এবং সময়ের অভাবে মানুষের খাদ্যাভ্যাস সম্পূর্ণ বদলে গেছে। মানুষ এখন বাড়ির পুষ্টিকর ও সাধারণ খাবারের পরিবর্তে বাইরের তৈলাক্ত ও মশলাদার ফাস্টফুডকে প্রাধান্য দিতে শুরু করেছে। গভীর রাতে জেগে থাকার অভ্যাস, অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহার, মানসিক চাপ বৃদ্ধি এবং প্রতিদিনের অনিয়মিত রুটিন আমাদের পরিপাকতন্ত্রের ওপর গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এসব কারণেই আজকাল সব বয়সের মানুষের মধ্যে গ্যাস, ফুলে যাওয়া, বুকজ্বালা, দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য, বদহজম এবং ক্ষুধামন্দার মতো গুরুতর হজমের সমস্যা দেখা যাচ্ছে।

পরিপাকতন্ত্রের দুর্বলতা শুধু পাকস্থলীতেই সীমাবদ্ধ নয়, এর ব্যাপক প্রভাব সমগ্র শরীরে দেখা যায়। যখন আমাদের শরীর ঠিকমতো খাবার হজম করতে পারে না, তখন ক্লান্তি, মানসিক অস্বস্তি, চর্মরোগ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। আয়ুর্বেদ অনুসারে, দুর্বল হজমই বেশিরভাগ রোগের মূল এবং প্রাকৃতিক এবং নিরাপদ প্রতিকার এটিকে উন্নত করার জন্য সর্বোত্তম। এই প্রাচীন এবং কার্যকর প্রতিকারগুলির মধ্যে একটি হল ‘সুপারি’, যা হজমের উন্নতির জন্য একটি খুব সহজ, সস্তা এবং নিশ্চিত আয়ুর্বেদিক সমাধান।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডাঃ অঞ্জু চৌধুরীর মতে, পান চিবানো পাচনতন্ত্রের জন্য একটি চমৎকার ব্যায়াম। আমরা যখন পান চিবিয়ে খাই, তখন মুখের লালা তৈরির প্রক্রিয়া উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। এই লালা খাবারের কণাকে সহজে ভেঙ্গে এবং হজম করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যার কারণে পাকস্থলীর অঙ্গগুলিতে হজমের অতিরিক্ত চাপ পড়ে না। পান পাতায় প্রাকৃতিক তেল, উচ্চ ফাইবার এবং নির্দিষ্ট সুগন্ধি উপাদান পাওয়া যায়, যা অন্ত্রের ক্রিয়াকলাপের ভারসাম্য বজায় রাখে (Peristalsis)। এটি গ্যাস, পেট ফাঁপা এবং ভারী হওয়ার মতো সমস্যা থেকে তাৎক্ষণিক মুক্তি দেয়। আয়ুর্বেদিক দৃষ্টিকোণ থেকে, পানের ‘বাত দোষ’ প্রশমিত করার বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা পেটের ব্যথা এবং গ্যাসের রোগের প্রধান কারণ হিসাবে বিবেচিত হয়।
হিসাবে News18 যোগ করুন
Google-এ পছন্দের উৎস

পরিপাকতন্ত্রের জন্য পানের উপকারিতা শুধু খাবার হজমের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি পাকস্থলীর অ্যাসিডিটির ভারসাম্য বজায় রাখতেও বেশ কার্যকর। এটি পাকস্থলীতে উৎপন্ন অতিরিক্ত অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণ করে, যা বুকজ্বালা, টক বেলচিং এবং অ্যাসিডিটির মতো সমস্যা থেকে তাৎক্ষণিক মুক্তি দেয়। দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য পান একটি প্রাকৃতিক ওষুধের মতো কাজ করে, কারণ এটি অন্ত্রের পেশীগুলিকে সক্রিয় করে মলত্যাগের প্রক্রিয়াটিকে সহজতর করে। এছাড়াও, যাদের ক্ষুধা কম থাকে বা খাবার খাওয়ার পর পেটে ভারীতা অনুভব করেন, তাদের জন্য পান ক্ষুধা জাগাতে এবং পাচক রসের নিঃসরণ বাড়িয়ে ভারীতা দূর করতে সাহায্য করে।

পান শুধুমাত্র পরিপাকতন্ত্রকে শক্তিশালী করে না, এটি মুখের স্বাস্থ্য এবং দাঁতের শক্তির জন্য একটি প্রাকৃতিক বরও বটে। এতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টিসেপটিক বৈশিষ্ট্য রয়েছে, যা মুখের ভিতরে ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে বাধা দেয়। এই বৈশিষ্ট্যগুলির কারণে, মাড়ি ফুলে যাওয়া, পাইরিয়া, নিঃশ্বাসে দুর্গন্ধ এবং দাঁতের সংবেদনশীলতার মতো সমস্যাগুলিতে উল্লেখযোগ্য উপশম পাওয়া যায়। এই বৈজ্ঞানিক এবং স্বাস্থ্যকর কারণটি ভারতীয় সংস্কৃতিতে খাবারের পরে পান চিবানোর প্রাচীন ঐতিহ্যের পিছনে লুকিয়ে আছে।

আয়ুর্বেদের মতে, পান শুধু শারীরিক নয় মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও খুবই উপকারী। এটি আমাদের স্নায়ুতন্ত্রকে শিথিল করে এবং মস্তিষ্ককে শান্তি প্রদান করে। এই গুণের কারণে, এটি মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং অস্থিরতা কমাতে সহায়ক প্রমাণিত হয়। এছাড়াও, পান পাতায় প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি বৈশিষ্ট্য রয়েছে। এই উপাদানগুলি শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে, যার ফলে দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি হ্রাস পায়। এছাড়া এটি রক্ত বিশুদ্ধ করে, ত্বক সুস্থ রাখে এবং প্রাকৃতিকভাবে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে।

ঐতিহ্যগতভাবে, ঠাণ্ডা, কাশি, হাঁপানি এবং শ্বাসকষ্টের চিকিৎসায় পান পাতা বহু শতাব্দী ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এর প্রাকৃতিক গরম বৈশিষ্ট্যগুলি বুকে জমে থাকা শ্লেষ্মা গলতে এবং শ্বাসযন্ত্রকে স্বস্তি প্রদানে অত্যন্ত সহায়ক বলে মনে করা হয়। যাইহোক, এর সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য উপকারিতা পেতে, এটি সর্বদা সাধারণ বা মৌরি এবং এলাচের মতো হালকা প্রাকৃতিক মশলা সহ গ্রহণ করা উচিত। এটা মনে রাখা খুবই জরুরী যে, পানের সাথে তামাক, সুপারি বা কোন প্রকার রাসায়নিক যুক্ত উপাদান ব্যবহার করা উচিত নয়, কারণ এই জাতীয় জিনিসের মিশ্রণ শরীরের জন্য উপকারের পরিবর্তে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।