পলাশ ফুলের উপকারিতা: হিট স্ট্রোক, ডায়াবেটিস ও চর্মরোগে কার্যকরী।
সর্বশেষ আপডেট:
ফাগুন মাসে তরাই অঞ্চলে ফোটে তেসু অর্থাৎ পলাশ ফুল শুধু সৌন্দর্যই বাড়ায় না স্বাস্থ্যের জন্যও অত্যন্ত উপকারী বলে বিবেচিত হয়। আয়ুর্বেদে এর ফুল, বীজ, পাতা ও বাকল পেটের কৃমি, ডায়াবেটিস, চর্মরোগ এবং তাপ থেকে মুক্তি পেতে ব্যবহার করা হয়। গ্রীষ্মকালে পলাশ ফুল দিয়ে তৈরি শরবত শুধু শরীরকে শীতল করে না, হিট স্ট্রোক থেকে রক্ষা করতেও সাহায্য করে।

উত্তরপ্রদেশের লখিমপুর খেরি জেলার তরাই এলাকায় তেসু গাছ পাওয়া যায়। পলাশ ফুল ফোটে ফাগুন মাসে। গ্রামাঞ্চলে এটি তেসু ফুল নামে পরিচিত। এখন পলাশ গাছের সংখ্যা ক্রমেই কমছে। আয়ুর্বেদে পলাশ ফুল, বীজ, পাতা ও বাকল বহু রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।

পলাশের বীজে কৃমি বিরোধী গুণ পাওয়া যায়। এ কারণে এটি পেটের কৃমি দূর করতে ব্যবহৃত হয়। নিয়মিত পলাশ বীজের গুঁড়া খেলেও পেটের সংক্রমণ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এ ছাড়া পলাশ ফুলে রয়েছে অ্যাস্ট্রিঞ্জেন্ট বৈশিষ্ট্য যা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

পলাশে অ্যান্টি-হাইপারগ্লাইসেমিক বৈশিষ্ট্যও পাওয়া যায়, যা ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। এর সেবন শরীরে ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়াতেও সাহায্য করে। পলাশ পাতায় তিক্ত বৈশিষ্ট্য পাওয়া যায়, যা শরীরের কফ ও পিত্ত কমাতে সহায়ক।
হিসাবে News18 যোগ করুন
Google-এ পছন্দের উৎস

চর্মজনিত রোগেও পলাশ খুবই উপকারী বলে মনে করা হয়। আয়ুর্বেদ অনুসারে, পলাশ বীজের পেস্ট প্রয়োগ করলে একজিমা এবং অন্যান্য ত্বকের সংক্রমণ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। এটি ত্বকের চুলকানি এবং শুষ্কতাও কমায়। এছাড়া পলাশ বীজের ক্বাথও ক্ষত সারাতে সহায়ক বলে মনে করা হয়।

তথ্য দিতে গিয়ে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক দেবেন্দ্র কুমার জানান, গ্রীষ্মকালে পলাশ ফুলের চাহিদা বাড়ে, এর ফুল খুবই শীতল বলে মনে করা হয়। যার কারণে মানুষ শরবত তৈরি করে গ্রীষ্মকালে সেবন করে। এটি খেলে শরীরে শীতলতা আসে এবং গরমে হিট স্ট্রোকের মতো সমস্যা থেকেও মুক্তি পাওয়া যায়।

পলাশ ফুল ভালো করে রোদে শুকিয়ে গুঁড়া বানিয়ে প্রতিদিন সকালে ঠাণ্ডা পানির সাথে সেবন করুন। এটি শরীরকে হালকা অনুভব করার পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ পরিস্কারে সাহায্য করে। ডায়াবেটিসের মতো সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। পলাশ ফুল স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী।