পরীক্ষার সময় কি খাবেন? বিশেষজ্ঞ বলেছেন – সঠিক ডায়েট কর্মক্ষমতা বাড়াবে, জেনে নিন গুরুত্বপূর্ণ টিপস – উত্তরপ্রদেশের খবর
গাজিয়াবাদ। পরীক্ষার সময় ঘনিয়ে এসেছে এবং আবহাওয়াও পরিবর্তন হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে শিশুদের স্বাস্থ্য ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। গাজিয়াবাদের বিখ্যাত ডায়েটিশিয়ান ডক্টর শিবানী আসওয়ালের মতে, পরীক্ষার সময় পড়াশোনার চাপ বেড়ে যাওয়ার কারণে শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। চাপের পরিস্থিতিতে, অনেক শিশু প্রয়োজনের চেয়ে বেশি জাঙ্ক ফুড খেতে শুরু করে, আবার কেউ কেউ ঠিকমতো খায় না। উভয় অবস্থাই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
কেন একটি সুষম খাদ্য গুরুত্বপূর্ণ?
ডাঃ আসওয়াল বলেছেন যে দীর্ঘ সময় পড়াশুনা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাবে শিশুদের শক্তি হ্রাস পেতে শুরু করে। এমন পরিস্থিতিতে হালকা ও সুষম খাবার খুবই জরুরি, যাতে শরীর সঠিক পুষ্টি পায় এবং মস্তিষ্ক ভালোভাবে কাজ করতে পারে। সকালের নাস্তা কখনই বাদ দেওয়া উচিত নয়। সকালের নাস্তায় দইয়ের সঙ্গে দুধ, ডিম, দই, পোহা বা পরোটা দেওয়া যেতে পারে। এটি সারাদিন শক্তি বজায় রাখে এবং পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে সাহায্য করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী খাবার অন্তর্ভুক্ত করুন
এ সময় ডায়েটে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিকারী খাবার অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। ভিটামিন সি সমৃদ্ধ মৌসুমি ফল যেমন কমলা, পেয়ারা এবং কিউই উপকারী। সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। বাবা-মায়ের উচিত শিশুদের হাইড্রেশনের বিশেষ যত্ন নেওয়া। নারকেল জল, তাজা ফলের রস বা ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর পানীয় দেওয়া যেতে পারে, যাতে শরীরে জলের ঘাটতি না হয়।
মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য পুষ্টি
মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়াতে, আপনার খাদ্যতালিকায় শুকনো ফল যেমন বাদাম, আখরোট এবং কাজু অন্তর্ভুক্ত করুন। বাদাম ও বীজে উপস্থিত ভালো ফ্যাট স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। সঠিক খাবার খেলে শিশুদের উদ্বেগও নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং তারা কম চাপ অনুভব করে।
জাঙ্ক ফুড থেকে দূরে থাকুন
অভিভাবকদের উচিত শিশুদের ভাজা, ঠান্ডা ও মিহি জিনিস থেকে দূরে রাখার চেষ্টা করা। জাঙ্ক ফুড অলসতা বাড়ায় এবং গলার সমস্যাও হতে পারে। পরীক্ষার সময় হালকা ও পুষ্টিকর খাবারই সবচেয়ে ভালো বিকল্প।
পর্যাপ্ত ঘুমও গুরুত্বপূর্ণ
ডাঃ আসওয়ালের মতে, অনেক শিশু সারা রাত জেগে পড়াশোনা করে এবং মাত্র 2-3 ঘন্টা ঘুম পায়। এ কারণে পরীক্ষার সময় মুখস্থ বিষয়গুলোও ভুলে যেতে পারে। অন্তত ৬ ঘণ্টা ভালো ও নিয়মিত ঘুমের পরামর্শ দেন তিনি। পরিপূর্ণ ঘুম মনকে সতেজ রাখে এবং পড়াশোনায় ভালো ফল দেয়।
ফোন ব্যবহার করার সময় সতর্ক থাকুন
সোশ্যাল মিডিয়া এবং গেমিং অ্যাপগুলি পড়াশোনার সময় আপনাকে বিভ্রান্ত করতে পারে। শিশুরা যদি বিরতির সময় ফোন ব্যবহার করে, তাহলে 5-10 মিনিটের বেশি ব্যবহার করবেন না। ঘুমানোর অন্তত চার ঘণ্টা আগে ফোন ব্যবহার বন্ধ করে দিতে হবে, যাতে ঘুমের ক্ষতি না হয়। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ভারসাম্যপূর্ণ দৈনন্দিন রুটিনের মাধ্যমে শিশুরা শুধু সুস্থ থাকতে পারে না, পরীক্ষায়ও ভালো পারফর্ম করতে পারে।