দিল্লি: গিজার বিস্ফোরণে সৈয়দ মহম্মদ নিজামির মৃত্যু, নিরাপত্তা ব্যবস্থা


সম্প্রতি দিল্লির হজরত নিজামুদ্দিন এলাকায় একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা সবাইকে চমকে দিয়েছে। 2026 সালের 7 ফেব্রুয়ারী বিকাল 5 টার দিকে বিখ্যাত সুফি সাধক হযরত নিজামুদ্দিন আউলিয়া দরগাহ এর সাজ্জাদা নাশীন সৈয়দ মোহাম্মদ নিজামী (50 বছর) তার বাথরুমে গোসল করছিলেন তখন হঠাৎ বৈদ্যুতিক গিজারটি বিস্ফোরিত হয়। এ দুর্ঘটনায় নিজামী সাহেব ঘটনাস্থলেই মারা যান এবং তার স্ত্রী ফিদা নিজামী (৪৫ বছর) গুরুতর আহত হন। পুলিশ ও ফায়ার ব্রিগেড ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিভিয়ে পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করে।

এই ঘটনাটি কেবল একটি পারিবারিক ট্র্যাজেডি নয়, ঘরোয়া বৈদ্যুতিক গিজারের লুকানো বিপদের সতর্কতাও বটে। কেন এই গিজারগুলি ফেটে যায় এবং কীভাবে এগুলি এড়ানো যায়? আসুন, আমরা এটি বিস্তারিতভাবে বুঝতে পারি।

বৈদ্যুতিক গিজার বিস্ফোরণের প্রধান বিপদ তাপ সম্প্রসারণ এবং চাপের ভারসাম্যহীনতার সাথে সম্পর্কিত। গরম হলে গিজারের পানি বাষ্প হয়ে যায়, অভ্যন্তরীণ চাপ বাড়ায়।

যদি নিরাপত্তা ভালভ (চাপ রিলিজ ভালভ) ক্ষতিগ্রস্ত বা অনুপস্থিত হলে, এটি চাপ ট্যাংক ফেটে যেতে পারে।

পুরাতন বা নিম্ন মানের গিজার এই সমস্যাটি সাধারণ। উদাহরণস্বরূপ, যদি একটি গিজার 5-7 বছরের বেশি পুরানো হয় তবে এর অভ্যন্তরীণ অংশে মরিচা পড়ে বা সিলিং দুর্বল হয়ে যায়।

ভুল ইনস্টলেশনও একটি বড় কারণ-
পাইপলাইনে ফুটো থাকলে বা বৈদ্যুতিক তারের আলগা হলে, একটি শর্ট সার্কিট আগুনের কারণ হতে পারে, যা একটি বিস্ফোরণ ঘটায়।

পানির ঘাটতি (শুকনো পোড়া) বা ওভারলোডিংও ঝুঁকি বাড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের মতো দেশে যেখানে কঠোরতা। জল (হার্ড ওয়াটার) প্রচলিত, স্কেলিং (খনিজ জমা) গরম করার উপাদানকে ব্লক করে, যার ফলে তাপমাত্রা অনিয়ন্ত্রিত হয়।

নিজামী সাহেবের ঘটনার প্রাথমিক তদন্তে গিজারের পুরাতন বা রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে বিস্ফোরণ ঘটেছে বলে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এর বিপদ অত্যন্ত বিপজ্জনক। বিস্ফোরণটি শুধুমাত্র গরম জল এবং বাষ্প স্প্রে করে না, যা মারাত্মক পোড়ার কারণ হতে পারে, তবে ছিন্নভিন্ন অংশগুলি আঘাতের কারণ হতে পারে।

প্রায়ই আগুন পুরো বাড়িকে প্রভাবিত করে, যেমনটি ঘটেছিল নিজামী পরিবারের ক্ষেত্রে। পরিসংখ্যান দেখায় যে ভারতে প্রতি বছর এরকম শত শত দুর্ঘটনা ঘটে, যার মধ্যে মৃত্যু এবং অক্ষমতা জড়িত। সুতরাং, কিভাবে এই প্রতিরোধ?

  • সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হল নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ। প্রতি 6 মাস অন্তর গিজার সার্ভিসিং করুন, প্রেসার ভালভ পরীক্ষা করুন, স্কেলিং অপসারণ করুন এবং বৈদ্যুতিক সংযোগগুলি শক্ত রাখুন।
  • শুধুমাত্র আইএসআই মার্ক সহ ব্র্যান্ডেড গিজার কিনুন, যার 5-স্টার এনার্জি রেটিং আছে।
  • ইনস্টলেশনের সময় একজন প্রত্যয়িত ইলেক্ট্রিশিয়ান দ্বারা এটি করান এবং গিজারটি কখনই খালি চালাবেন না।
  • ব্যবহারের আগে 10-15 মিনিটের জন্য গরম করার অনুমতি দিন, তবে 30 মিনিটের বেশি নয়। বাথরুমে বায়ুচলাচল নিশ্চিত করুন যাতে আর্দ্রতা জমতে না পারে। গিজার 5 বছর বয়সী হলে অবিলম্বে এটি প্রতিস্থাপন করুন।
  • শিশু এবং বয়স্কদের একা ব্যবহার করার অনুমতি দেবেন না।
  • একটি জরুরী কিট (অগ্নি নির্বাপক) রাখুন এবং বাড়িতে ধোঁয়া সনাক্তকারী ইনস্টল করুন।

নিজামী সাহেবের বেদনাদায়ক মৃত্যু আমাদের শিক্ষা দেয় যে সামান্য অসাবধানতা মারাত্মক হতে পারে। সচেতনতাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র। গিজারকে আপনার বাড়িতে একটি ‘নিরাপদ সঙ্গী’ করতে আজই এই সতর্কতা অবলম্বন করুন। নিরাপদে থাকুন, সতর্ক থাকুন।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *