তেঁতুলের উপকারিতা: মিষ্টি ও টক তেঁতুল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হজমের যত্ন নেয়, জেনে নিন এর সেবনের সুবিধা ও অসুবিধা।
হোলিতে অনেক ধরনের খাবার তৈরি করা হয়, যার মধ্যে একটি হল মিষ্টি এবং টক তেঁতুলের চাটনি। অনেকে হোলিতে গুড় যোগ করে তেঁতুলের চাটনি তৈরি করেন। তেঁতুল শুধু স্বাদে মিষ্টি ও টক নয়, খাবারের স্বাদ বাড়ায়, স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। পাচনতন্ত্রকে সুস্থ রাখার পাশাপাশি তেঁতুল অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা প্রদান করে। তেঁতুলে থাকা পুষ্টিগুণ এবং এর সেবনের উপকারিতা সম্পর্কে এখানে জেনে নিন…
তেঁতুলে উপস্থিত পুষ্টিগুণ
তেঁতুলে অনেক ধরনের পুষ্টি উপাদান রয়েছে, যেমন ম্যাগনেসিয়াম, ফাইবার, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন বি১, পটাসিয়াম, আয়রন, ভিটামিন সি ইত্যাদি। তেঁতুল স্বাদ ও স্বাস্থ্যের ধন। এটি প্রকৃতির একটি অমূল্য উপহার। তেঁতুল গাছের ডাল ঝুঁকানো এবং বাকল রুক্ষ বাদামী, যা সহজেই শনাক্ত করা যায়। তেঁতুলের মিষ্টি ও টক ডাল খাবারের স্বাদ বাড়ায়। সাধারণত, চাটনি, সাম্বার মতো ঐতিহ্যবাহী খাবারের একটি প্রধান অংশ তেঁতুল।
তেঁতুল খাওয়ার উপকারিতা
– তেঁতুল বহু শতাব্দী ধরে ঐতিহ্যবাহী ওষুধে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। এর সেবনে শরীরের ফোলাভাব কমে যায়। ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে।
– তেঁতুলে উপস্থিত ফাইবার হজম প্রক্রিয়ার উন্নতি ঘটায়। এর সেবনে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা সেরে যায়। রেচক প্রভাব দিয়ে পেট পরিষ্কার রাখে।
তেঁতুল খেলে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে থাকে। খারাপ কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়। ভালো কোলেস্টেরল বাড়াতে তেঁতুল খেতে পারেন, তবে সীমিত পরিমাণে খাওয়া উপকারী। এতে হার্ট সুস্থ থাকে।
তেঁতুলে রয়েছে পলিফেনল এবং ফ্ল্যাভোনয়েড, যা প্রদাহ কমাতে কার্যকরী হতে পারে। তেঁতুলকে লিভারের জন্যও স্বাস্থ্যকর বলে মনে করা হয়। এটি রক্তে শর্করার মাত্রা ভারসাম্য রাখতে সহায়ক হতে পারে। যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন তাদের জন্যও এটি উপকারী।
তেঁতুলের পাতা, বাকল ও বীজ সবই ঔষধি গুণে পরিপূর্ণ। অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল এবং অ্যান্টি-ফাঙ্গাল বৈশিষ্ট্যযুক্ত তেঁতুল ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাকের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।
বেশি তেঁতুল খাওয়ার অপকারিতা
আপনি যদি একবারে খুব বেশি তেঁতুল খান, তাহলে আপনি ডায়রিয়া এবং পেট ব্যথায় ভুগতে পারেন। ডায়াবেটিক রোগীদের তেঁতুল খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। অ্যাসিডিক হওয়ায় দাঁতের এনামেল ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, তাই পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। গর্ভবতী মহিলা, মহিলারা তাদের বাচ্চাদের বুকের দুধ খাওয়াচ্ছেন, কিডনি রোগী, যে কোনও ধরণের ওষুধ গ্রহণকারী ব্যক্তিদের অবশ্যই ডাক্তারের সাথে কথা বলা উচিত। যাদের অ্যালার্জির সমস্যা আছে তাদেরও চুলকানি এবং ফুসকুড়ি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে শুধু একটি জিনিসের অতিরিক্ত সেবন এড়িয়ে চলতে হবে।