ডায়াবেটিস প্রতিরোধে 7A ফর্মুলা গ্রহণ করুন
ডায়াবেটিস আজ প্রতিটি বাড়িতে একটি রোগ হয়ে উঠেছে। প্রাপ্তবয়স্ক, যুবক-বৃদ্ধ, কোনো বয়সের মানুষই এর হাত থেকে রেহাই পায়নি। কিছু সমীক্ষা অনুসারে, আগামী কয়েক বছরে ভারতও ডায়াবেটিসের রাজধানী হয়ে উঠতে পারে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে লাখ লাখ মানুষ। এটি শরীরে ধীরগতির বিষের মতো কাজ করে এবং রোগ, কিডনি ফেইলিওর, চোখের সমস্যা ইত্যাদির মতো অনেক প্রাণঘাতী সমস্যার সৃষ্টি করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওষুধের আগে প্রতিরোধই সবচেয়ে ভালো এবং সহজ সমাধান।
জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন ডায়াবেটিস প্রতিরোধের সহজ এবং কার্যকর উপায়ের পরামর্শ দিয়েছে, যা ‘7A’ সূত্র নামে পরিচিত। এই ফর্মুলা দৈনন্দিন অভ্যাসের ছোট পরিবর্তন করে ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সাহায্য করে। এনএইচএম-এর মতে, এই সাতটি জিনিস অবলম্বন করলে শুধু সুগার নিয়ন্ত্রণে থাকে না, পুরো শরীর সুস্থ থাকে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়।
7A সূত্র কি?
A1 স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গ্রহণ করুন- বিশেষজ্ঞদের মতে, সুষম খাদ্যের মধ্যেই রয়েছে স্বাস্থ্যের রহস্য। জাঙ্ক ফুড, ভাজা এবং প্রক্রিয়াজাত খাবার কমিয়ে দিন। বাড়িতে রান্না করা সহজ, পুষ্টিকর খাবার বেছে নিন।
A2 বেশি করে ফল ও শাকসবজি খান – প্রতিদিন অন্তত ২-৩টি মৌসুমি বা নিয়মিত ফল ও সবজি খান। এগুলিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকে, যা রক্তে শর্করাকে স্থিতিশীল রাখে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণ করে।
A3 সুস্থ শরীরের ওজন অর্জন – স্থূলতা ডায়াবেটিসের একটি প্রধান কারণ। বডি মাস ইনডেক্স (BMI) স্বাভাবিক স্তরে রাখুন। এমনকি সামান্য ওজন হারানো একটি বড় পার্থক্য করে। ওজন বৃদ্ধির কারণে অনেক শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দেয়।
A4 একটি সক্রিয় জীবনধারা গ্রহণ করুন – প্রতিদিন কমপক্ষে 30 মিনিটের জন্য ব্যায়াম করুন। হাঁটা, সাইকেল চালানো, যোগব্যায়াম, নাচ বা যেকোনো শারীরিক কার্যকলাপ উপকারী। এটি ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায়।
A5 অতিরিক্ত চিনি এড়িয়ে চলুন – চিনি, মিষ্টি, কোল্ড ড্রিংকস, জুস এবং মিষ্টি পানীয় খাওয়া কমিয়ে দিন। ফল বা মধুর মতো প্রাকৃতিক মিষ্টিই যথেষ্ট।
A6 তামাক এবং অ্যালকোহল থেকে দূরে থাকুন – সিগারেট, গুটখা, তামাক এবং অতিরিক্ত অ্যালকোহল ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়। এগুলো সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন।
A7 নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশ নিন – প্রতি বছর আপনার রক্তচাপ এবং কোলেস্টেরল পরীক্ষা করুন। প্রাথমিক অবস্থায় ধরা পড়লে রোগটি সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
এই সাতটি ‘ক’ অবলম্বন করে যে কোনো মানুষ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অনেকাংশে কমাতে পারে। একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা গ্রহণ করা ব্যয়বহুল নয়, তবে সচেতনতা এবং শৃঙ্খলার বিষয়। পরিবারে ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকলে বা বয়স ৪০-এর বেশি হলে অবিলম্বে এই অভ্যাসগুলি গ্রহণ করুন।
দাবিত্যাগ: এই সংবাদে দেওয়া ওষুধ/ওষুধ এবং স্বাস্থ্য সম্পর্কিত পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের সাথে কথোপকথনের উপর ভিত্তি করে। এটি সাধারণ তথ্য, ব্যক্তিগত পরামর্শ নয়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই যেকোনো কিছু ব্যবহার করুন। লোকাল-18 এই ধরনের কোনো ব্যবহারের কারণে কোনো ক্ষতির জন্য দায়ী থাকবে না।