জ্বরের সময় কী খাওয়া উচিত এবং কী পরিহার করা উচিত? সঠিক খাদ্য দ্রুত পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করবে
জ্বরে কী খাবেন এবং এড়িয়ে চলবেন: আমাদের শরীরে কোনো ধরনের সংক্রমণ হলেই জ্বর আসতে থাকে। আসলে, সংক্রমণ সৃষ্টিকারী ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া দূর করতে শরীরের তাপমাত্রা বাড়ায়, যার কারণে মানুষ জ্বর অনুভব করতে শুরু করে। জ্বরের কারণে মানুষ দুর্বলতা, ক্ষুধামন্দা, মাথাব্যথা এবং শরীর ব্যথার মতো সমস্যায় ভোগে। এই ধরনের সময়ে, সঠিক খাদ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, কারণ সঠিক খাদ্য পুনরুদ্ধারে সাহায্য করে। এটি শরীরে শক্তি সরবরাহ করে এবং পরিপাকতন্ত্রের উপর অতিরিক্ত চাপ দেয় না। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বরের সময় ওষুধের সঙ্গে হালকা, হজমযোগ্য ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে, যাতে শরীর সংক্রমণের সঙ্গে লড়াই করার শক্তি পায়।
ইউপির গাজিয়াবাদের ডায়েটিশিয়ান রঞ্জনা সিং নিউজ 18 কে জানিয়েছেন জ্বরের সময় শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা সবচেয়ে জরুরি। উচ্চ জ্বরে অতিরিক্ত ঘাম হয়, যা শরীরে পানি ও ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি হতে পারে। অতএব, তরল যেমন নারকেল জল, সাধারণ জল, লেবু জল, বাটারমিল্ক, স্যুপ এবং ওআরএস উপকারী। গরম সবজির স্যুপ বা পাতলা মসুর ডাল স্যুপ শুধু শরীরে শক্তি জোগায় না, হজম করাও সহজ। পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ করলে পানিশূন্যতার ঝুঁকি কমে যায় এবং দুর্বলতার অনুভূতিও কমে যায়। জ্বর থেকে আরোগ্যের জন্য পর্যাপ্ত পানি ও তরল গ্রহণ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
খাদ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, যদি খাবারের কথা বলি তাহলে জ্বরের সময় হালকা ও সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ করা উচিত। খিচড়ি, পোরিজ, সেদ্ধ চাল, ডাল, সেদ্ধ সবজি এবং টোস্টের মতো বিকল্পগুলি আরও ভাল। এতে রয়েছে সুষম পরিমাণে কার্বোহাইড্রেট এবং প্রোটিন, যা শরীরে শক্তি জোগায়। জ্বরের কারণে ক্ষুধার্ত কম থাকলে দিনে কয়েকবার অল্প পরিমাণে খাওয়া ভালো। এ ছাড়া আপেল, কলা, পেঁপে ও মৌসুমি ফলও শরীরে ভিটামিন ও খনিজ সরবরাহ করে।
জ্বর থেকে মুক্তি পেতে, প্রোটিন-সমৃদ্ধ খাবার খাওয়াও জরুরি, কারণ প্রোটিন শরীরের কোষ মেরামত করতে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে সাহায্য করে। ডাল, মুগ খিচড়ি, দই, সেদ্ধ ডিম বা পনির খেলে উপকার পাওয়া যায়। এ ছাড়া বেশি ভাজা বা মশলাদার খাবার খেলে পরিপাকতন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে যা গ্যাস, অ্যাসিডিটি বা বমির সমস্যা বাড়াতে পারে। মানুষকে এসব এড়িয়ে চলতে হবে। জ্বরের সময় জাঙ্ক ফুড, ভাজা খাবার, মশলাদার খাবার, ঠান্ডা পানীয়, চা, কফি এবং ক্যাফেইন এড়িয়ে চলতে হবে। এই জিনিসগুলি শরীরে প্রদাহ বাড়াতে পারে এবং ডিহাইড্রেশনের ঝুঁকিও বাড়াতে পারে।