কম পিরিয়ড প্রবাহ, কম পিরিয়ড প্রবাহের কারণ, সমাধান এবং জরায়ুর স্বাস্থ্য টিপস
জরায়ু একজন মহিলার শরীরের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যা শুধুমাত্র উর্বরতার সাথে সম্পর্কিত নয়, সামগ্রিক স্বাস্থ্যের সাথেও জড়িত। এমনকি জরায়ুর সামান্য পরিবর্তনও শরীরের হরমোনের ভারসাম্যকে প্রভাবিত করতে পারে। অনেক সময় থাইরয়েড, PCOD, রক্তশূন্যতা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, ওজনের দ্রুত পরিবর্তন বা খারাপ জীবনযাত্রার প্রভাব মাসিকের ওপর স্পষ্টভাবে দেখা যায়। আজকাল অনেক মহিলাই পিরিয়ডের কম প্রবাহ অর্থাৎ হালকা রক্তপাতের সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। এমতাবস্থায় প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক যে পিরিয়ড কম হওয়া কোন গুরুতর রোগের লক্ষণ হতে পারে নাকি এটা স্বাভাবিক অবস্থাও হতে পারে।
আসলে, মাসিক প্রবাহ জরায়ুর ভিতরের স্তরের উপর নির্ভর করে, যাকে বলা হয় এন্ডোমেট্রিয়াম। হরমোনের প্রভাবে প্রতি মাসে এই স্তর পুরু হয় যাতে গর্ভাবস্থায় ভ্রূণ পুষ্টি পায়। গর্ভধারণ না হলে এই স্তর ভেঙ্গে রক্তের আকারে শরীর থেকে বেরিয়ে আসে যাকে আমরা পিরিয়ড বলি। যদি কোনো কারণে এই স্তরটি পর্যাপ্তভাবে বিকশিত না হয় তবে রক্তপাত কম হতে পারে। তবে এর পুরুত্ব বাড়লে প্রবাহ বেশি হতে পারে। অতএব, প্রতিটি মহিলার মধ্যে প্রবাহের পরিমাণ আলাদা হওয়া স্বাভাবিক এবং অবিলম্বে এটি অসুস্থতার সাথে যুক্ত করা ঠিক নয়।
হালকা পিরিয়ড প্রবাহ কখনও কখনও স্বাভাবিক হতে পারে, বিশেষ করে যদি মহিলার মাসিক চক্র 21 থেকে 35 দিনের মধ্যে নিয়মিত থাকে এবং 2 থেকে 5 দিন রক্তপাত হয়। কিন্তু যদি মাত্র একদিনের মধ্যে রক্তপাত প্রায় বন্ধ হয়ে যায়, পিরিয়ড ঘন ঘন মিস হয়, বা প্রবাহ খুব হালকা এবং অনিয়মিত হয়ে পড়ে, তাহলে তা উপেক্ষা করা উচিত নয়। হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, PCOD, থাইরয়েড সমস্যা, অতিরিক্ত ব্যায়াম, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, জরায়ু সংক্রমণ বা পূর্বের সার্জারির কারণেও কম প্রবাহ হতে পারে। এই ধরনের ক্ষেত্রে, একজন গাইনোকোলজিস্টের সাথে পরামর্শ করা প্রয়োজন।
এ ছাড়া যদি প্রচণ্ড পেটে ব্যথা, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, চুল পড়া বা গর্ভধারণে অসুবিধার মতো সমস্যাগুলিও কম প্রবাহের সাথে দেখা যায়, তবে এটি শরীরে কিছু অভ্যন্তরীণ গোলযোগের লক্ষণ হতে পারে। একইসঙ্গে ৭ দিনের বেশি রক্তপাত হওয়াকেও স্বাভাবিক বলে মনে করা হয় না এবং এটিও তদন্ত দাবি করে। অতএব, আপনার মাসিক চক্রের কোন অস্বাভাবিক পরিবর্তনের দিকে মনোযোগ দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
মাসিকের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য জীবনযাত্রার উন্নতি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আয়রন, প্রোটিন এবং ভিটামিন সমৃদ্ধ সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন। সবুজ শাক-সবজি, ডাল, শুকনো ফল এবং পর্যাপ্ত পানি খাওয়া শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত হালকা ব্যায়াম জরায়ুতে রক্ত চলাচলের উন্নতি ঘটায় এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে। এছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ থেকে দূরত্বও গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক যত্ন এবং সময়মতো চেকআপের মাধ্যমে কম পিরিয়ড প্রবাহের সমস্যা বোঝা এবং নিয়ন্ত্রণ করা যায়।