উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধের জন্য লক্ষণ, কারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ জীবনধারা টিপস।


আজকের ব্যস্ত জীবন এবং ক্রমাগত অবনতিশীল জীবনযাত্রার কারণে উচ্চ রক্তচাপ অর্থাৎ উচ্চ রক্তচাপের রোগী দ্রুত বাড়ছে। ভুল খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ, জাঙ্ক ও প্রক্রিয়াজাত খাবার, মানসিক চাপ, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, স্থূলতা, তামাক ও অ্যালকোহলের মতো অভ্যাস এই সমস্যাকে আরও মারাত্মক করে তুলছে। এই কারণেই উচ্চ রক্তচাপকে এখন “নীরব ঘাতক” বলা হচ্ছে, কারণ এটি কোনও স্পষ্ট লক্ষণ ছাড়াই ধীরে ধীরে শরীরকে ভিতর থেকে ক্ষতি করতে থাকে এবং কখনও কখনও হঠাৎ করে মারাত্মক আকার ধারণ করে।

ন্যাশনাল হেলথ মিশনও ক্রমাগত মানুষকে হাইপারটেনশন সম্পর্কে সতর্ক করছে। এর মতে, এই রোগটি নীরবে হৃদয়, মস্তিষ্ক এবং কিডনির মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলিকে প্রভাবিত করে। প্রায়শই লোকেরা এটি সম্পর্কে সচেতন হয় না যতক্ষণ না একটি বড় সমস্যা দেখা দেয়। দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক, কিডনি ফেইলিওর এবং দুর্বল দৃষ্টিশক্তির মতো গুরুতর সমস্যা তৈরি করতে পারে। তবে এটি একটি স্বস্তির বিষয় যে সময়মতো সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে এটি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন উচ্চ রক্তচাপের সবচেয়ে বড় কারণ হল আজকের অস্বাস্থ্যকর জীবনধারা। অতিরিক্ত লবণ খাওয়া রক্তচাপ বৃদ্ধির সবচেয়ে সাধারণ কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়। প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় অন্তর্ভুক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, প্যাকেটজাত খাবার, চিপস, নামকিন, আচার এবং বাইরের খাবারে প্রচুর পরিমাণে লবণ থাকে, যা ধীরে ধীরে রক্তচাপ বাড়ায়। এর পাশাপাশি ক্রমাগত মানসিক চাপ, অফিসের চাপ, পারিবারিক দায়িত্ব এবং ঘুমের অভাবও শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট করে রক্তচাপকে প্রভাবিত করে।

শারীরিক নিষ্ক্রিয়তাও উচ্চ রক্তচাপের একটি প্রধান কারণ। সারাদিন বসে থাকা, ব্যায়াম না করা এবং ওজন বাড়লে হার্টে বাড়তি চাপ পড়ে। বিশেষ করে পেটের চারপাশে জমে থাকা চর্বি রক্তচাপ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও, তামাক এবং অ্যালকোহল সেবন রক্তনালীগুলির ক্ষতি করে, যা রক্ত ​​​​প্রবাহকে প্রভাবিত করে এবং উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়। জাঙ্ক ফুড এবং অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার এই সমস্যাটিকে আরও গুরুতর করে তোলে।

জাতীয় স্বাস্থ্য মিশনের মতে, উচ্চ রক্তচাপ প্রতিরোধে জীবনধারায় ছোট কিন্তু নিয়মিত পরিবর্তন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন রক্তচাপ পরীক্ষা করা বা সময়ে সময়ে বিপি পরীক্ষা করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনার খাবারে লবণের পরিমাণ কম রাখুন, তাজা ও সুষম খাদ্য খান এবং আপনার খাদ্যতালিকায় ফল ও শাকসবজি অন্তর্ভুক্ত করুন। এর পাশাপাশি প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা, যোগব্যায়াম বা হালকা ব্যায়াম হার্ট ও শরীর উভয়ের জন্যই উপকারী। মানসিক চাপ কমাতে, ধ্যান, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের কৌশল এবং পর্যাপ্ত ঘুমও গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিত্সকরা সুপারিশ করেন যে 18 বছরের বেশি বয়সী প্রত্যেক ব্যক্তির বছরে অন্তত একবার তার রক্তচাপ পরীক্ষা করা উচিত। পরিবারে যদি ইতিমধ্যেই উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ বা স্ট্রোকের সমস্যা থাকে, তাহলে পরীক্ষা করা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। সময়মতো উচ্চরক্তচাপ ধরা পড়লে ওষুধের পাশাপাশি সঠিক জীবনধারা অবলম্বন করে সহজেই নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং মারাত্মক রোগ এড়ানো যায়।



Source link

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *